সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম, আমলকির ২০ টি উপকারীতা
bdtechland✅
৩ আগ, ২০২৪
সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আনেকেই জানতে চান। তাই আজকে আমি
আপনাদের সাথে খালি পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো। আমলকি একটি
প্রাকৃতিক উপাদান যা অনেক আগে থেকেই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
আমলকি ফলে প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর গুণাবলি থাকে, যা
শরীরের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। আমলকী ভেষজ গুণে
পরিপূর্ণ একটি মৌসূমি ফল। এই ফল ও পাতা দুটিই ঔষুধরূপে ব্যবহার করা
হয়।আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে।
আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’
রয়েছে। আমলকীতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ
বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন-সি রয়েছে।
একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি দরকার। দিনে দুটো আমলকী
খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। আমলকী খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি
বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের পীড়া, সর্দি,
কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।
পেইজ সূচিপত্রঃ আমলকি উপকারীতা ও অপকারীতা সম্পর্কে বিস্তারিত
সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে যা জেনে আপনাকে আমলকি খেতে হবে।
আমরা অনেকেই তারুণ্য ধরে রাখতে সকালে খালি পেটে লেবু পানি খাই। লেবুতে
আছে ভিটামিন 'সি' এবং 'অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট' যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়ায় আবার মেদও কমায়। তবে এর থেকেও বেশি উপকার মিলবে আমলকিতে। একটু
অবাক লাগছে তাই না? কিন্তু এটিই সত্যি।
কয়েকটি আমলকি প্রথমে টুকরো করে কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। তারপরে এই
পানি সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। সঙ্গে আমলকির টুকরোগুলোও খেতে পারেন।
সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়ার অনেক উপকারিতা আছে। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে এবং ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। খালি
পেটে আমলকি খাওয়ার কিছু নিয়ম নিচে দেওয়া হলো—
১. কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম
প্রতিদিন সকালে ১-২টি কাঁচা আমলকি ভালো করে ধুয়ে খান।
চাইলে ছোট ছোট টুকরো করে লবণ বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
২. আমলকি রস খাওয়ার নিয়ম
২-৩টি আমলকি ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস বের করুন।
১ গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন।
ভালো ফল পেতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
৩. শুকনা আমলকি গুঁড়া খাওয়ার নিয়ম
১ চামচ আমলকি গুঁড়া আধা গ্লাস উষ্ণ গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন।
চাইলে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
সতর্কতা
যাদের পেটের গ্যাসের সমস্যা আছে, তারা বেশি পরিমাণে না খেয়ে কম
পরিমাণে খেতে পারেন।
নিয়মিত খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো, বিশেষ করে যদি অন্য
কোনো ওষুধ খেয়ে থাকেন।
অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া বা অ্যাসিডিটি হতে পারে, তাই পরিমিত খাওয়া
উচিত।
আমলকি খাওয়ার উপকারীতা
আমলকী খাওয়ার উপকারিতা প্রচুর। আমলকী হলো আমাদের দেহের জন্য সবচাইতে উপকারি
ভেষজের মাঝে একটি। এটি আপনি প্রতিদিনই খেতে পারেন এবং এর কোনো
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং আছে দারুণ সব উপকার। প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন
ট্যাবলেট না খেয়ে খান একটি করে আমলকী। এই সামান্য আমলকী আপনার দেহের করবে
বিস্ময়কর সব উপকার। কীভাবে জানতে চান? আসুন জানি প্রতিদিন একটি আমলকী খাওয়ার
২০টি উপকারিতা সম্পর্কে।
১. আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি
একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের
বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
২. এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
৩.
আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের
গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।
৪. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকী গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে
দু'বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।
৫. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে
যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে।
৬. প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে
ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
৭. আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন
সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।
৮. আমলকী চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা
চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৯. এছাড়াও প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত
শক্ত থাকে।
১০. আমলকীর টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে
বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে
পারেন।
১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।
১২. কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী। ১৩.
ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী। ১৪. শরীর
ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।
১৫. এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে।
আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।
১৬. শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
১৭. লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।
১৮. এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সাহায্য
করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র্যাডিকালস।
১৯. সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে।
২০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য
করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ থেকে ২টি আমলকি খাওয়া যায়। এতে সব চেয়ে বেশি উপকার
হয়। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। দিনে দুটো
আমলকী খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। আমলকী খেলে মুখে রুচি বাড়ে।
স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের পীড়া,
সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হজমের উন্নতি, ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা, ওজন
নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে,
অতিরিক্ত আমলকি সেবন হজমের সমস্যা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যের জটিলতা সৃষ্টি করতে
পারে। তাই, সঠিক পরিমাণে আমলকি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য
সমস্যা থাকলে বা নতুন কোনো খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
উচিত।
আমলকি খাওয়ার পরিমাণ
১-২টি কাঁচা আমলকি খেলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন C পাওয়া যায়।
গুঁড়া বা শুকনো আমলকি – ১ চা চামচ গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে
পারে।
সতর্কতাঃ অতিরিক্ত আমলকি খেলে পেটের সমস্যা বা এসিডিটি হতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, তাই সতর্ক
থাকতে হবে। যদি কোনো ওষুধ খান, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া ভালো।
আমলকি খাওয়ার সঠিক সময়
আমলকি খাওয়ার সঠিক সময় নির্ভর করে আপনি এটি কী উদ্দেশ্যে খাচ্ছেন তার উপর। আমলকি
খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে কমবেশি সকলেরই ধারণা রয়েছে। তবে সঠিক নিয়মে
খেলে তবেই এর উপকারিতা পাওয়া যাবে। আমলকি একটি পরিচিত ফল। ভিটামিন সি এবং নানা
পুষ্টিগুনে ভরপুর এ ফলটি দেহকে সুস্থ ও রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। আমলকি
শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
দিনের যে কোনও সময়ই আমলকী খাওয়া যায়। তবে বেশি উপকার পেতে চাইলে সকালে খালি পেটে
এই ভেষজ সেবন করতে পারেন। এতেই কিন্তু আপনার সুস্থ থাকার পথ প্রশস্থ হবে। এমনকী
ডায়াবিটিস, হাই ব্লাড প্রেশার সহ একাধিক ক্রনিক অসুখকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
সাধারণত, সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়া সবচেয়ে উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হজম শক্তি উন্নত করা, এবং ত্বকের স্বাস্থ্য
রক্ষায় সহায়তা করে।
খালি পেটে আমলকি খাওয়ার ফলে শরীর দূষণমুক্ত হয় এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে।
তবে, আমলকি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত, দৈনিক ১-২টি
আমলকি খাওয়া উপযুক্ত। অতিরিক্ত আমলকি সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি কিছু
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আপনি কাঁচা আমলকি খেতে পারেন, অথবা আমলকির
রস, আচার বা গুঁড়ো হিসেবেও সেবন করতে পারেন।
যদি কাঁচা আমলকি খেতে অসুবিধা হয়, তাহলে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান
করতে পারেন এবং আমলকির টুকরোগুলো খেয়ে নিতে পারেন। তবে, আপনার যদি কোনো
স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে বা নতুন কোনো খাদ্যাভ্যাস শুরু করতে চান, তাহলে আগে একজন
পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আশা করছি আমলকি খাওয়ার সঠিক সময় কখন তা জানতে
পেরেছেন।
কাঁচা আমলকি খাওয়ার উপকারীতা
কাঁচা আমলকি ছোট ছোট টুকরো করে অল্প গরম পানিতে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
আমলকি মিশ্রিত পানি সকালে খালি পেটে পান করুন। পরে আমলকির টুকরোগুলোও খেয়ে
ফেলুন। আমলকির ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। শুধু ভিটামিন
সি-র উৎসই নয়, আমলকীর গুণ অনেক। খাওয়ার আগে জেনে রাখুনআমলকীকে উপকারী বন্ধু বলা
যেতে পারে। আর তা খাওয়াও যায় অনেক ভাবে। কাঁচা চিবিয়ে খান বা রস করে, উপকার
পাবেন দুই পদ্ধতিতেই।
তবে আমলকী সিদ্ধ করে খেলে এর ভিটামিন সি অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। পেয়ারা,
কাগজিলেবু, কমলালেবু, আম, আপেলের চেয়েও বেশি ভিটামিন সি রয়েছে আমলকীতে। তাই
ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তুলতে রোজ একটা করে আমলকী খেতে পারেন। আবার
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর হওয়ায় শরীরের টক্সিন বার করে দিতেও সাহায্য করে এই
ফলটি। কাঁচা আমলকি খাওয়ার অনেক উপকারিতা আছে। এটি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ একটি
সুপারফুড, যা শরীরের জন্য নানা ভাবে উপকারী। নিচে এর কিছু প্রধান উপকারিতা তুলে
ধরা হলো—
১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা
শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য
করে।
২. হজমশক্তি বাড়ায়ঃ আমলকি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায়
এটি হজম শক্তি বাড়ায়, গ্যাস্ট্রিক কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৩. ত্বক ও চুলের জন্য ভালোঃ আমলকি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে, খুশকি কমায় এবং চুল দ্রুত
বাড়তে সাহায্য করে।
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ আমলকি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা
নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
৫. হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখেঃ আমলকি কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
করতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৬. লিভার পরিষ্কার রাখেঃ এটি ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে এবং লিভার
থেকে টক্সিন দূর করে।
৭. চোখের জন্য উপকারীঃ আমলকি চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, ছানি পড়া
প্রতিরোধ করে এবং চোখের শুষ্কতা দূর করে।
৮. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়ঃ আমলকিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সুরক্ষিত রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং একাগ্রতা বৃদ্ধি
করে।
আমলকির গুড়া চুলে দেওয়ার নিয়ম
শীত পড়তে শুরু করলেই তার প্রভাব পড়ে আমাদের চুলেও। এসময় আমাদের চুল স্বাভাবিকের
তুলনায় বেশি রুক্ষ আর প্রাণহীন হয়ে যায়। শুধু কি তাই? বাড়ে খুশকি এবং চুল পড়ার
সমস্যাও। তাই শীতের সময় আসার আগেই চুলের বাড়তি যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। এই কাজে
আপনাকে সাহায্য করতে পারে ছোট্ট একটি ফল। নাম তার আমলকী। আমলকী দিয়ে চুলের যত্ন
নিলে খুব সহজেই পাবেন সুস্থ ও প্রাণবন্ত চুল।
আমলকি যেভাবে কাজ করেঃ আমলকিতে থাকে ফাইটো-নিউট্রিয়েন্ট, ভিটামিন ও
মিনারেলের মতো জরুরি পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে
কাজ করে। যে কারণে তা চুল মজবুত রাখার পাশাপাশি কন্ডিশনিংও করে। আমলকিতে থাকে
৮১.২ শতাংশ ময়েশ্চার। যে কারণে রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য এটি বিশেষ কার্যকরী।
আমলকির
তেল আপনার চুল ভালো রাখতে কাজ করতে পারে। তেল হাতে নিয়ে মাথার তালু এবং চুলের
গোড়ায় ভালোভাবে মালিশ করুন। নিয়মিত এভাবে ব্যবহার করলে চুলের ফলিকল মজবুত হবে,
সেইসঙ্গে কমে আসবে চুল পড়ার পরিমাণও। এভাবে তেল মালিশ করলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল
ভালো হয় যে কারণে চুলের বৃদ্ধিও ভালো হয়। আমলকির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য
খুশকি দূর করতে কাজ করে
আমলকি পাউডার বা গুড়ার ব্যবহারঃ বাজারে আমলকির পাউডার কিনতে পাবেন। দুই
চামচের মতো আমলকি পাউডার হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর তার সঙ্গে মেশান
এক চা চামচ মধু আর দুই চা চামচ টক দই। ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে সেই মাস্ক চুলে
লাগান। এভাবে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন।
আমলকির রস ব্যবহারঃ
আমলকি থেঁতো করে রস বের করে নিতে হবে। এরপর সেই রস চুলের গোড়ায় লাগালে কোলাজেনের
মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে চুল লম্বাও হবে দ্রুত। আমলকির রস লাগানোর পর
অপেক্ষা করুন মিনিট বিশেক। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। নিয়মিত এভাবে ব্যবহার করলে
উপকার পাবেন
অকালে পাকা চুল কালো করতেঃ
অনেকেই আছেন, যাদের চুল বয়সের আগেই সাদা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান মিলতে
পারে আমলকির ব্যবহারে। আমলকির রস চুল ঘন ও কালো করতে কাজ করে। সেইসঙ্গে চুল করে
ঝলমলেও। সেজন্য আমলকি টুকরা করে কেটে আধা ঘণ্টার মতো পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে।
এরপর সেই পানি ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। এভাবে মাসখানেক ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
শুকনো আমলকি খাওয়ার নিয়ম
শুকনো বা গুড়া আমলকিতে উপকারিতা অনেক বেশি রয়েছে! এটি একটি শাস্ত্রীয় প্রাচীন
আয়ুর্বেদিক ঔষধ, যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অসংখ্য উপকার করতে পারে। আমলকি
মস্তিষ্ক, চোখ, হৃদপিণ্ড, পেট, লিভার, ত্বক এবং চুলের জন্য উপকারী। এটি চোখের চাপ
এবং চোখের ক্লান্তি দূর করে, ছানি, চোখের উচ্চ রক্তচাপ, ঝাপসা দৃষ্টি, দ্বিগুণ
দৃষ্টি, চোখ লাল হওয়া এবং জ্বলন, দুর্বল দৃষ্টি এবং চোখের অন্যান্য অবস্থার
ঝুঁকি হ্রাস করে।
আমলকি পাচনতন্ত্রের জন্য উপকারী এবং ক্ষুধা বাড়ায়। আমলকির ভিটামিন সি উপাদান
আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক গঠনের একটি চমৎকার উৎস করে। আমলকি গুঁড়া
দুই চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চারবার খেলে কাশি ও সর্দি থেকে
মুক্তি পাওয়া যায়। শুকনো আমলকি খাওয়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে, এবং এটি খাওয়ার
সঠিক নিয়ম নির্ভর করে আপনার কী উদ্দেশ্যে এটি গ্রহণ করছেন তার উপর। এখানে কিছু
সাধারণ উপায় দেওয়া হলোঃ
১. সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১-২টি শুকনো আমলকি চিবিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়।
খাওয়ার পর এক গ্লাস গরম পানি পান করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
২. গুঁড়ো করে খাওয়া
শুকনো আমলকি গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করতে পারেন।
প্রতিদিন ১ চা চামচ আমলকি গুঁড়ো এক গ্লাস গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে
হজমের সমস্যা দূর হয়।
মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে গলা ব্যথা ও ঠান্ডা কমে।
৩. পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া
রাতে ২-৩টি শুকনো আমলকি এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে সেই পানি পান করুন এবং নরম আমলকিগুলো চিবিয়ে খান।
এটি লিভার পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
৪. মধু বা দুধের সাথে খাওয়া
শুকনো আমলকি গুঁড়ো ১ চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা-কাশির সমস্যা কমে।
দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে এটি চুল ও ত্বকের পুষ্টি জোগায়।
৫. হার্বাল চা তৈরি করে খাওয়া
২-৩টি শুকনো আমলকি এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে চায়ের মতো পান করুন।
চাইলে এর সাথে আদা, মধু বা লেবু যোগ করতে পারেন।
এটি ডিটক্স পানীয় হিসেবে কাজ করে।
সতর্কতাঃ
অতিরিক্ত আমলকি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমাণমতো গ্রহণ করুন।
যদি গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতা থাকে, তবে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারীতা
আমলকি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। ভিটামিন সি,
কোলাজেন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা ভ্রূণের টিস্যু এবং প্লাসেন্টা বিকাশের
জন্য প্রয়োজনীয়। এটি অকাল প্রসব এবং গর্ভপাত প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।
গর্ভাবস্থায় আমলকি হলো প্রয়োজনীয় ফাইবার-এর একটি ভালো উৎস এবং এতে ভিটামিন সি,
ই, পটাসিয়াম, ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস সহ আরও বেশ কয়েকটি ভিটামিন এবং মিনারেল
রয়েছে।
গর্ভাবস্থায় আমলকির কিছু উপকারিতাঃ
আমলকি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। ভিটামিন সি,
কোলাজেন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা ভ্রূণের টিস্যু এবং প্লাসেন্টা বিকাশের
জন্য প্রয়োজনীয়। এটি অকাল প্রসব এবং গর্ভপাত প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে। আয়রন
শোষণের জন্যও ভিটামিন সি প্রয়োজনীয়, যা সেই সমস্ত গর্ভবতী মহিলাদের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ যাদের রক্তাল্পতা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আমলকি ফলিক অ্যাসিড-এর একটি ভালো উৎস, যা নিউরাল টিউব-এর ত্রুটির মতো
জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক
বিকাশের জন্য ফলিক অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো একটি সাধারণ সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে
পারে। ফাইবার, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে এবং গর্ভকালীন
ডায়াবেটিস-এর সাথে লড়াই করা গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও সহায়ক হতে পারে। আমলকির কিছু অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে মনে করা হয়, যা
সেই সমস্ত গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে যারা মর্ণিং সিকনেস বা
অন্যান্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল-এর মতো সমস্যাগুলির মোকাবেলা করছেন।
গর্ভাবস্থায় আমলকিরপার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ
গর্ভাবস্থায় আমলকির কিছু সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে যা সম্পর্কে
মহিলাদের সচেতন হওয়া উচিত। আমলকি কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট
খারাপের কারণ হতে পারে, তাই আমলকি ফল বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময় প্রচুর
পরিমাণে জল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। আমলকি কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের সাথেও
প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তাই আপনি যদি কোনও ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে আমলকি খাওয়ার
আগে দয়া করে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সাধারণত, গর্ভবতী মহিলাদের পরিমিত পরিমাণে আমলকি খাওয়া নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত
হয়। আপনি যদি আমলকি খাওয়ার ফলে কোনও নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব
করেন তবে দয়া করে এটি খাওয়া বন্ধ করুন এবং আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
গর্ভাবস্থায় কীভাবে আমলকি খাবেনঃ
আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন এবং আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রাকৃতিক
উপায় খুঁজছেন তবে আমলকি আপনার পক্ষে একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। আমলকি একটি
ভারতীয় সুপারফুড যা শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যগত ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
গর্ভাবস্থায় আপনি বিভিন্ন উপায়ে আমলকি খেতে পারেন। আপনি এটি তাজা, শুকনো বা
রান্না করে খেতে পারেন। আপনি ক্যাপসুল বা গুঁড়ো আকারে আমলকি সাপ্লিমেন্ট-ও
খেতে পারেন।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, প্রতিদিন ১ থেকে ২ গ্রাম আমলকি খাওয়া বেশিরভাগ গর্ভবতী
মহিলাদের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে গর্ভাবস্থায় কোনও নতুন
সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে অবশ্যই কথা বলা উচিৎ।
আমলকির ক্ষতিকর দিক
ত্বক, চুল থেকে স্বাস্থ্য সব কিছুতেই আমলকি অত্যন্ত উপকারী। এতে আছে প্রচুর
পরিমাণেভিটামিন-সি এবং ফাইবার। যে কারণে আমলকি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়,
পাশাপাশি হজমশক্তিও বাড়াতে সহয়তা করে। কিন্তু এই উপকারী ফলটিও কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমলকি খেলে নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। তাই জেনে নিন আমলকি বেশি খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে।
হজমের সমস্যাঃ হজম ক্ষমতা ভালো রাখার জন্য আমলকির উপর ভরসা করেন অনেকে। তবে প্রয়োজনের
অতিরিক্ত আমলকি খেলে বদহজম, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, পেট ব্যাথা এবং
গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটির কারণ হয়ে উঠতে পারে এই ফল। তাছাড়া, আমলকিতে
থাকে প্রচুর পরিমাণেভিটামিনসি। অতিরিক্ত ভিটামিনশরীরে গেলে হিতে
বিপরীত হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে আমলকি খাওয়াই ভালো।
কিডনিতে পাথর হতে পারেঃ আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট রয়েছে। অক্সালেট কিডনিতে পাথর তৈরি করে।
তাইআমলকি বেশি না খাওয়াই ভালো।
হাইপোগ্লাইসেমিয়াঃ রক্তে শর্করার পরিমাণ বা ব্লাড সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়া যেমন খারাপ, তেমনই
মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়াও কিন্তু বিপজ্জনক। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
রাখতে আমলকিজুড়ি মেলা ভার। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী
এই ফল। তবে রোজ অত্যধিক আমলকি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটা কমে যেতে পারে,
যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলে 'হাইপোগ্লাইসেমিয়া'। এতে কিন্তু শরীরের ক্ষতিই হয়।
তাই বেশি আমলকি খাওয়া উচিত নয়। তাছাড়া, যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ এমনিতেই
কম, তাদের আমলকি না খাওয়াই ভালো।
রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারেঃ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। নয়তো
এর হাত ধরেই জন্ম নিতে পারে হৃদরোগ। যাদের হাই ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপের
মাত্রা বেশি, তাদের আমলকি না খাওয়াই ভালো। কারণ এই ফল বেশি খেলে রক্তচাপের
মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ঝুঁকি কমাতে আমলকি থেকে উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা দূরে
থাকুন।
দাঁতের সমস্যাঃ উচ্চ অম্লভাব দাঁতের এনামেলের ক্ষয় ঘটাতে পারে। ফলে
ক্যাভিটি এবং টুথ সেনসিটিভিটির মতো দাঁতের নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই কাঁচা
আমলকি খাওয়ার পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া, শুকনো আমলকি খেতে পারেন।
এগুলির অম্লভাব কম থাকে।
রক্ত পাতলা হয়ে যায়ঃ আমলকিতে আছে অ্যান্টিপ্লেটলেট বৈশিষ্ট্য, যা রক্ত
পাতলা করতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা কমায়। কিন্তু যাদের রক্তপাতের
ব্যাধি বা রক্ত পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা আছে, তাদের আমলকি না খাওয়াই ভালো। তা
হলে রক্ত আরও পাতলা হয়ে যেতে পারে। একটু কেটে, ছড়ে গেলেও রক্তপাত বন্ধ হতে
সমস্যা হতে পারে।
আমলকি খাওয়ার অপকারীতা
আমলকি বেশি খেলে হজম ক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আমলকি সাধারণত খুবই পুষ্টিকর এবং উপকারী একটি ফল, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। উপকারী হলেও অতিরিক্ত আমলকি খেলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। আমলকি খাওয়ার সম্ভাব্য অপকারীতা হলো—
১. অতিরিক্ত অম্লতা ও পাকস্থলীর সমস্যাঃ আমলকি স্বাভাবিকভাবেই টক ও অম্লীয় (Acidic) প্রকৃতির। অতিরিক্ত খেলে গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।
২. রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারেঃ আমলকি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, তবে যদি কেউ কম রক্তচাপে ভোগেন বা ব্লাড প্রেসারের ওষুধ খান, তবে এটি তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৩. রক্ত পাতলা হওয়ার ঝুঁকিঃ আমলকিতে প্রাকৃতিক রক্ত তরল করার উপাদান আছে, যা উচ্চমাত্রায় গ্রহণ করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের আগে।
৪. ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যাঃ আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা বা বদহজম হতে পারে।
৫. কিডনির পাথরের ঝুঁকিঃ আমলকিতে অক্সালেট নামক যৌগ থাকে, যা কিডনির পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি পর্যাপ্ত পানি না পান করা হয়।
৬. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতাঃ আমলকি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে আমলকি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৭. হাইপারঅ্যাসিডিটি ট্রিগার করতে পারেঃ আপনার যদি হাইপার অ্যাসিডিটি বা ভিটামিন সি খাবারের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে কোন অসুবিধা থেকে থাকে তবে আপনাকে এই ফলটি খাওয়া উচিত নয়।এই ফল বেশি খেলে হাইপারঅ্যাসিডিটি সমস্যা বেড়ে য়েতে পারে।
৮. মোটা হওয়ার সমস্যাঃ আমলকীর টক ও তেতো ভাব মুখের রুচি ও স্বাদ বাড়ায়, যদি আপনি বেশী পরিমাণে আমলকী খান তাহলে মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৯. স্বাস্থ্য অবনতিঃ হাইপারগ্লাইসেমিক মানুষের জন্য পরামর্শ হল যে বীজযুক্ত ফল ব্যবহার এড়াতে কারণ এটি তাদের স্বাস্থ্য অবস্থা খারাপ হতে পারে।
১০. এলার্জির সম্ভাবনাঃ আমলকি বেশি খাওয়ার ফলে যাদের অ্যালার্জি বেশি থাকে তাদের এলার্জি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এমনকি রক্তাল্পতা বেশি থাকলে, তারা বেশি আমলকি খেলে রক্ত আলতা আরো বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।
উপসংহার
সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। আমলকি ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে
এবং ভিটামিনের অভাব জনিত রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।আমলকি খাওয়ার কোনও
নেগেটিভ প্রভাব নেই, তবে কিছু মানুষ এর প্রতি অল্প অল্প অস্বস্তি অনুভব করে।
তবে, যেহেতু সব মানুষের শারীরিক অবস্থা একে অপরের থেকে ভিন্ন। সকালে খালি
পেটে আমলকি খাওয়ার নিয়ম,এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য,
কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার চিকিৎসকের
সঙ্গে পরামর্শ করুন।
বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url