সাইবার অপরাধের শিকার হলে করণীয় কি সাইবার অপরাধ কাকে বলে এবং সাইবার অপরাধের
শাস্তি কি তা জানতে পারবেন আজকের এই পোষ্টে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে
আমরা প্রতিদিন কোন না কোনভাবে উপকৃত হচ্ছি। আবার এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেই
সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে।
কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেআইনীভাবে করা অপরাধকে
সাইবার অপরাধ বলা হয়। সাইবার অপরাধ সাধারণত সংঘটিত হয় ওয়েবসাইট, বিভিন্ন
নেটওয়ার্ক, ইমেইল সাইবার স্পেস ইত্যাদি সহ আরো অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে।
ডিজিটাল যুগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাইবার অপরাধ।
কারণ সাইবার অপরাধ অনলাইন জগতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের
সাথেও বাংলাদেশে ব্যপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সাইবার অপরাধ। সুতরাং আমাদের সকলের
সাইবার অপরাধ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখা উচিত, যদি কখনোও সাইবার অপরাধের শিকার
হন, সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী বা কিভাবে প্রতিকার পাবেন।
পেইজ সূচিপত্রঃ সাইবার অপরাধের শিকার হলে করণীয়
সাইবার অপরাধ কাকে বলে
সাইবার অপরাধ (Cyber Crime) বলতে এমন অপরাধকে বোঝায় যা কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়। সাইবার অপরাধ ইন্টারনেট এবং সাইবার স্পেসে কোনো ধরনের অপরাধ বা অনৈতিক ক্রিয়া, যা ডিজিটাল ডিভাইস, নেটওয়ার্ক, সাইবার ইন্ফ্রাস্ট্রাকচার, এবং অনলাইন সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত। এটি ডেটা চুরি, হ্যাকিং, ফিশিং, ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার, ডেনিয়াল অফ সার্ভিস (DDoS) হামলা, আইডেন্টিটি চুরি, অপর ধরণের ডিজিটাল অপরাধ ইত্যাদির মধ্যে পরিচিত।
সাইবার অপরাধ মানবজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং মানসিক দিক থেকে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এটি এমন একটি অপরাধ যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ব্যক্তি, সংস্থা বা সরকারের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল অপরাধমূলক কার্যকলাপ যা ব্যক্তি, ব্যবসা এবং সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সাইবার অপরাধ শুধু ব্যক্তি নয় বরং সমাজ ও অর্থনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সাইবার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ।
সাইবার অপরাধ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং এর
প্রভাব স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সাইবার অপরাধ এর মাধ্যমে অনেক সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং অপরাধকে
সাইবার স্পেসে স্থানান্তরিত করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্থ উপার্জনের জন্য
সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে। এছাড়া কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক ক্ষতি করা
ছাড়াও আরও অন্যান্য জরুরি বিষয়াদি রয়েছে যেগুলো ব্যক্তিগত কারণে ও সাইবার
অপরাধের সম্মখীন হওয়া লাগতে পারে।
সাইবার অপরাধের শিকার হলে করণীয়
সাইবার অপরাধের শিকার হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে জানতে হবে সাইবার অপরাধের মতো
বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য। সাইবার অপরাধের শিকার হলে প্রথমত আপনাকে সব
ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। সাইবার
অপরাধের শিকার হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সাইবার অপরাধের
শিকার হলে কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে নিম্নরূপ করা হলো।
১. পুলিশে অভিযোগ দায়ের করুনঃ সাইবার অপরাধের শিকার হলে, আপনি প্রথমে
স্থানীয় থানায় বা বিশেষ সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের জন্য পুলিশ বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে যা ইন্টারনেটের
মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করে।
-
সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করতে https://www.cybercrime.gov.bd/
ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
-
অভিযোগ করার সময় সঠিক প্রমাণ উপস্থাপন করুন, যেমন স্ক্রিনশট, লিঙ্ক,
ইমেল, অথবা আপনি যে ধরনের আক্রমণের শিকার হয়েছেন তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা
করুন।
২. প্রমাণ সংগ্রহ করুনঃ সাইবার অপরাধের শিকার হলে, যতটা সম্ভব
প্রমাণ সংগ্রহ করুন। এই প্রমাণগুলো তদন্তে সহায়ক হতে পারে। কিছু
গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণঃ
- ইমেইল বা চ্যাট যা অপরাধী পাঠিয়েছে।
- স্ক্রীনশট অথবা লিঙ্ক, যাতে অপরাধের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
-
অপরাধী যে কোন তথ্য চুরি করেছে বা ক্ষতি করেছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য।
৩. পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুনঃ যদি আপনি হ্যাকিং বা একাউন্ট
চুরির শিকার হন, তবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সাথে সাথে অতিরিক্ত
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন। এতে
আপনার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক প্রবেশ বন্ধ হবে এবং আপনার সুরক্ষা
বাড়বে।
৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড বন্ধ করুনঃ যদি সাইবার অপরাধীর
মাধ্যমে আপনার আর্থিক তথ্য চুরি হয়ে থাকে (যেমন ব্যাংক ডিটেইলস,
ক্রেডিট কার্ড তথ্য), তবে দ্রুত আপনার ব্যাংক অথবা আর্থিক
প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন। তারা আপনার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে
সাসপেন্ড করতে পারে অথবা কার্ড বন্ধ করে নতুন একটি কার্ড ইস্যু করতে
পারে। এছাড়াও, আপনি ফ্রড রিপোর্ট করতে পারেন।
৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সতর্কতাঃ সাইবার অপরাধী আপনার
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করতে পারে বা সেখান থেকে আপনার
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। এর ফলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া
অ্যাকাউন্টগুলোকে সুরক্ষিত করতে হবেঃ
-
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং ২-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন।
-
যদি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখা যায়,
তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে তা রিপোর্ট করুন।
-
অন্যদের কাছে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠান যাতে আপনার পরিচিতরা এ
ধরনের সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকে।
৬. আইনি সহায়তা গ্রহণ করুনঃ সাইবার অপরাধ মোকাবেলা করার
জন্য একজন সাইবার আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে পারেন। তারা
আপনাকে আইনি পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে
আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথনির্দেশনা দিতে পারবেন।
-
সাইবার অপরাধের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ আইন আছে, যেমন সাইবার
নিরাপত্তা আইন ২০১৬।
-
একজন আইনজীবী আপনাকে অভিযোগ দায়ের, মামলা প্রক্রিয়া, ও আইনি
প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
৭. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনঃ BTRC,
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, ইন্টারনেটের
মাধ্যমে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নজরদারি করে থাকে।
আপনি যদি অনলাইনে কোনো অপরাধের শিকার হন, তবে BTRC-এ অভিযোগ
করতে পারেন। বিভিন্ন সাইবার অপরাধের শিকার হলে BTRC এবং
অন্যান্য সংস্থায় রিপোর্ট করার জন্য ধাপগুলিঃ
-
সাইবার ক্রাইম ইউনিটঃ সাইবার অপরাধের শিকার হলে,
বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে যোগাযোগ করতে
পারেন।
-
বিটিআরসিঃ সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত
বিষয়ে সরাসরি BTRC-এ অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে। এছাড়া,
মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ
রিপোর্ট করতে পারেন।
৮. সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতাঃ সাইবার অপরাধ
প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটে নিরাপদ
থাকার জন্য কিছু পরামর্শ:
-
ফিশিংঃ সন্দেহজনক ইমেইল বা লিংক থেকে দূরে
থাকুন, যেগুলোর মাধ্যমে আপনার তথ্য চুরি হতে পারে।
-
সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংঃ অপরাধীরা মানুষের মানসিক
দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে, তাই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য
শেয়ার করা থেকে সতর্ক থাকুন।
-
অ্যান্টিভাইরাস ও ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুনঃ
আপনার ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস এবং ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার
ইনস্টল করে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পান।
সাইবার অপরাধের শিকার হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত
জরুরি। আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবসময় সচেতন
থাকুন এবং আইনি সহায়তা গ্রহণ করুন। আশা করছি সাইবার
অপরাধের শিকার হলে করণীয় কি তা সম্পূর্ণ জানতে পেরেছেন।
সাইবার অপরাধী কারা
সাইবার অপরাধী বা Cybercriminals হলেন সেই ব্যক্তিরা
যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ বা
অপরাধমূলক কাজ করে, যা একাধিক রকমের হতে পারে। এসব
অপরাধের মাধ্যমে তারা তথ্য চুরি, অর্থনৈতিক ক্ষতি, বা
সিস্টেমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। সাইবার অপরাধের
ধরনগুলি নানা রকম হতে পারে এবং এগুলির প্রতিটি অপরাধের
নিজস্ব উদ্দেশ্য এবং পদ্ধতি রয়েছে। সাইবার অপরাধীরা
নিন্মোক্ত ধরনের হতে পারে যা নীচে বিস্তারিত বর্ণনা
দেওয়া হল।
১. হ্যাকিংঃ হ্যাকাররা সেই ব্যক্তি যারা
কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসের নিরাপত্তা
ভেঙে প্রবেশ করে। তারা সাধারণত দুটি উদ্দেশ্যে হ্যাকিং
করেঃ
-
তথ্য চুরিঃ হ্যাকাররা সরকারি, ব্যবসায়িক বা
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে, যা পরে বিক্রি বা
ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়।
-
অভ্যন্তরীণ ক্ষতিঃ সিস্টেমে ইচ্ছাকৃত ক্ষতি
সাধন করতে পারে, যেমন ডেটা মুছে ফেলা বা বিকৃত
করা।
২. ফিশিংঃ ফিশিং অপরাধীরা ফাঁদ তৈরি করে যাতে
ব্যবহারকারী তাদের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য প্রদান
করে দেয়। এটি সাধারণত ম্যালিশিয়াস ইমেইল বা ফেক
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হয়। সাধারণ উদাহরণঃ
-
ইমেইল ফিশিংঃ অপরাধীরা অফিসিয়াল বা
পরিচিত উৎসের মতো একটি ইমেইল পাঠায়, যেখানে
ব্যবহারকারীদের নিজের পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক
অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়।
-
ওয়েবসাইট ফিশিংঃ ব্যবহারকারীরা ভুল করে
কোনো নকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এবং সেখানে তাদের
ব্যক্তিগত তথ্য দেয়।
৩. র্যানসমওয়্যারঃ র্যানসমওয়্যার হল এক
ধরনের ম্যালওয়্যার যা আক্রান্ত সিস্টেমে লক বা
এনক্রিপ্ট করে দেয়। এরপর সাইবার অপরাধীরা এই
সিস্টেমের মালিকের কাছে অর্থ (রান্সম) দাবি করে তার
সিস্টেম বা ডেটা পুনরুদ্ধারের জন্য। উদাহরণস্বরূপঃ
-
ব্যক্তিগত তথ্য লকঃ ব্যবহারকারীর ফাইল বা
ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয় এবং সেটি পুনরুদ্ধার করতে
একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়।
-
প্রতিষ্ঠান/ব্যবসায়িক র্যানসমওয়্যার
আক্রমণঃ
বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সিস্টেমও আক্রান্ত হতে পারে,
যাতে তারা বড় পরিমাণ অর্থ প্রদান করে সিস্টেম
পুনরুদ্ধার করতে পারে।
৪. আইডেন্টিটি থেফটঃ আইডেন্টিটি থেফট হল এমন
একটি অপরাধ, যেখানে অপরাধী কোনো ব্যক্তির পরিচয় চুরি
করে এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা লাভ
করতে চেষ্টা করে। যেমনঃ
-
ক্রেডিট কার্ড চুরিঃ অপরাধী ব্যক্তির
ক্রেডিট কার্ড তথ্য চুরি করে বিভিন্ন অনলাইন
পেমেন্ট বা কেনাকাটায় ব্যবহার করতে পারে।
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংঃ অন্যের
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করে তাতে
অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করা।
৫. ডিডিওএস (DDoS) আক্রমণঃ ডিস্ট্রিবিউটেড
ডিনাইল অব সার্ভিস (DDoS) আক্রমণ হল এমন একটি আক্রমণ
যেখানে একাধিক সিস্টেম বা কম্পিউটারকে ব্যবহার করে
একটি ওয়েবসাইট বা সার্ভার অচল করা হয়। এর ফলেঃ
- ওয়েবসাইটের পরিষেবা ব্যাহত হয়।
-
সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে
যেতে পারে।
৬. ব্ল্যাকমেইলঃ অনলাইন ব্ল্যাকমেইলিং
অপরাধীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা গোপন ছবি
বা তথ্য ব্যবহার করে অন্যদের থেকে অর্থ বা সুবিধা
আদায় করতে চায়। উদাহরণস্বরূপঃ
-
সেক্সটর্শনঃ অপরাধীরা কোনো ব্যক্তির
অশ্লীল ছবি বা ভিডিও ধারণ করে এবং তা প্রকাশের
হুমকি দেয়, যদি না তারা টাকা দেয়।
-
ব্যক্তিগত তথ্য বা মেসেজ ব্যবহারঃ
অপরাধীরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা গোপন মেসেজ
ফাঁস করার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করতে পারে।
৭. অবৈধ সফটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউশনঃ অনলাইনে
অপরাধীরা ম্যালওয়্যার বা ভাইরাসসহ সফটওয়্যার বিক্রি
বা বিতরণ করে। এই সফটওয়্যার সাধারণতঃ
-
কম্পিউটার ভাইরাসঃ সিস্টেমের তথ্য মুছে
ফেলা বা সিস্টেম অকার্যকর করে দেয়।
-
স্পাইওয়্যারঃ ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি
করতে পারে, যেমন কীস্ট্রোক বা ব্যক্তিগত
ব্রাউজিং তথ্য।
৮. পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ কন্টেন্ট শেয়ারিংঃ
অনলাইনে নিষিদ্ধ বা অবৈধ কন্টেন্ট যেমন শিশু
পর্নোগ্রাফি বা অন্য কোন বেআইনি কন্টেন্ট শেয়ার করা
এবং তা চোরাইভাবে বিতরণ করা একটি গুরুতর অপরাধ।
৯. ডিজিটাল কাউন্টারফিটিংঃ অনলাইন
প্ল্যাটফর্মে অবৈধভাবে কপিরাইট করা কন্টেন্ট বা পণ্য
বিক্রি করা, যেমন ডিজিটাল মিডিয়া, সফটওয়্যার বা
অন্যান্য পণ্য, যা সাধারণত অবৈধভাবে তৈরি বা বিতরণ
করা হয়।
সাইবার অপরাধ এর প্রকারভেদ
সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এটি ইন্টারনেট এবং
ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যকলাপ পরিচালনার মাধ্যমে সংঘটিত
হয়। সাইবার অপরাধ বলতে ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন-বিরোধী
কার্যকলাপকে বোঝায়। যে কোনো ধরনের ক্রাইম বা অপরাধ যখন অনলাইন বা ইন্টারনেটের
মাধ্যমে ঘটে, তখন তাকে সাইবার অপরাধ বলে। সাইবার অপরাধের প্রকারভেদ নিচে আলোচনা
করা হলো।
সোশ্যাল মিডিয়া অপব্যবহারঃ সোশ্যাল মিডিয়া অপব্যবহার বলতে বোঝায়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এমন ব্যবহার, যা মানুষ, সমাজ, বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি
সাধন করে। এটি ব্যক্তিগত, সামাজিক, মানসিক, এবং এমনকি আইনি সমস্যার কারণ হতে
পারে। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের সংযোগ এবং তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি শক্তিশালী
মাধ্যম, তবে এর অপব্যবহার করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফেসবুকে সাইবার ক্রাইম এখন
মামুলি বিষয় হয়ে গিয়েছে। আপনি ফেসবুকে বা সামাজিক গণমাধ্যমে সাইবার ক্রাইমের
শিকার হলে যখন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন
সাইবার বুলিংঃ কেউ যদি অনলাইনে আপনাকে অহেতুক জ্বালাতন করে এবং আপনার
সম্মানহানি করার চেষ্টা করে অথবা অনলাইনে যেকোনো উপায়েই হোক কেউ যদি আপনাকে
উত্যক্ত করে তাহলে তা সাইবার বুলিং হিসেবে স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে তা যদি অনলাইনে হয়
তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
আইডি হ্যাকঃ আপনার ফেসবুক আইডি কেউ যদি হ্যাক করে থাকে আর আপনার ব্যক্তিগত
ছবি আর কথোপকথন অনলাইনে ছেড়ে দেবে বলে যদি হুমকি প্রদান করে, পাশাপাশি তা ঠেকানোর
জন্য তার বিনিময়ে যদি সে আপনার কাছে অর্থ দাবি করে সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা
নিতে পারবেন।
সেক্সুয়ালি এবিউজঃ কেউ যদি অনলাইনে আপনার ছবি দিয়ে কোনো অনলাইন
প্ল্যাটফর্মে আইডি খুলে, আপনার ছবি ব্যবহার করে কোনো পোস্ট প্রদান করে। আপনার
ছবির সাথে অন্য ছবি জোড়া লাগিয়ে বিতর্কিত কিছু বানোয়াট খবর প্রকাশ করে, আপনার
ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে, পাশাপাশি তা ঠেকানোর জন্য
তার বিনিময়ে যদি সে আপনার কাছে অর্থ দাবি করে সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে
পারবেন।
সাইবার সন্ত্রাসঃ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অপপ্রচার বা
ভয়ভীতি দেখানো কে সাইবার সন্ত্রাস বলা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সাইবার
টেরোরিস্ট যারা রয়েছেন তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য সিস্টেম এবং
নিরাপত্তা কার্যক্রম এর মত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করে দিতে পারে। তাছাড়া এসব
তথ্য নষ্ট করে দেওয়ার আগে দেশের বাইরে পাচার করে দেওয়ার মতো অপকর্ম ও সাইবার
সন্ত্রাস এর অন্তর্গত।
সাইবার হ্যাকিংঃ সাইবার হ্যাকিং বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায় যেখানে
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বেআইনিভাবে কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসে
প্রবেশ করে তথ্য চুরি, পরিবর্তন, নষ্ট বা নিয়ন্ত্রণ করে। হ্যাকিংয়ের উদ্দেশ্য
হতে পারে আর্থিক লাভ, তথ্য সংগ্রহ, সিস্টেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বা রাজনৈতিক,
সামাজিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধন।
সাইবার ফিশিংঃ সাইবার ফিশিং (Cyber Phishing) হলো একটি প্রতারণামূলক কৌশল,
যেখানে প্রতারকরা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন
পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য, বা অন্য কোনো
সংবেদনশীল তথ্য চুরি করার উদ্দেশ্যে ভুয়া ইমেইল, ওয়েবসাইট বা মেসেজ পাঠায়। এটি
সাইবার অপরাধের একটি সাধারণ ও বিপজ্জনক রূপ।
সাইবার স্ক্যামঃ সাইবার স্ক্যাম (Cyber Scam) হলো একটি প্রতারণামূলক
কার্যকলাপ, যেখানে ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিদের কাছ
থেকে অর্থ, সম্পদ, বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করা হয়। এটি সাইবার অপরাধের একটি
সাধারণ রূপ এবং সাধারণত মানুষের বিশ্বাস, অজ্ঞতা বা লোভকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত
হয়।
সাইবার স্প্যামঃ সাইবার স্প্যাম (Cyber Spam) হলো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং
অবাঞ্ছিত বার্তা, ইমেইল, বা তথ্য যেগুলো সাধারণত বিপুল পরিমাণে পাঠানো হয়। এগুলো
কোনো বৈধ প্রাপকের সম্মতি ছাড়াই প্রেরণ করা হয় এবং প্রায়শই বিজ্ঞাপন,
প্রতারণা, বা ম্যালওয়্যার ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। স্প্যাম মূলত ইমেইলের
মাধ্যমে ঘটে, তবে এটি সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ, এবং ওয়েবসাইটেও হতে পারে।
ম্যালওয়্যার আক্রমণঃ ম্যালওয়্যার আক্রমণ (Malware Attack) হলো এমন একটি
সাইবার আক্রমণ, যেখানে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার (Malicious Software) ব্যবহার করে
কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, তথ্য চুরি, বা ক্ষতি
সাধন করা হয়। ম্যালওয়্যার বিভিন্ন রকমের হতে পারে এবং এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা
ব্যবসায়িক তথ্য চুরি, সিস্টেম নষ্ট করা, বা আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।
ডার্ক ওয়েবঃ ডার্ক ওয়েব (Dark Web) হল একটি ইন্টারনেটের একটি গোপন অংশ, যা
সাধারণ ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায় না। এটি সাধারণত সুরক্ষিত এবং
এনক্রিপ্টেড (encrypted) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা হয়, যেখানে
ব্যবহারকারীরা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে পারেন। ডার্ক ওয়েব মূলত একটি বদ্ধ এবং
আন্ডারগ্রাউন্ড জায়গা, যা সাইবার অপরাধ, অবৈধ কর্মকাণ্ড, এবং গোপনীয়তা রক্ষার
জন্য ব্যবহৃত হয়।
ডার্ক ওয়েব একটি অংশ ডিপ ওয়েব (Deep Web) এর, যা সাধারণ ওয়েবের বাইরে থাকে, যেমন
ডাটাবেস, প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, বা পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত ওয়েবসাইট।
সাইবার আর্থিক অপরাধঃ আর্থিকভাবে লাভ করার জন্য যে বিশেষ উদ্দেগ্যে কোন
অপরাধী যখন ব্যাংক হ্যাকিং, ই-কমার্স ওয়েবসাইটে বা সার্ভার হ্যাকিং এবং ক্রেডিট
কার্ড হ্যাকিং এর মত অপরাধে জড়িয়ে যায় মূলত তখন তাকে সাইবার আর্থিক অপরাধ বলে।
সাইবার যুদ্ধঃ যখন গুপ্তচর দ্বারা আর্থিক প্রতারণা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বা
অন্য কোন রাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত রয়েছে এমন কোন বিষয় বা সাইবার স্পেসে আক্রমণ
করা হয় তখন তাকে সাইবার যুদ্ধ বলা হয়। এ অবস্থায় একটি দেশের গোপন নথিপত্র
প্রকাশিত হয় যা একটা অদৃশ্য যুদ্ধ হিসেবে সংগঠিত হতে থাকে। সাইবার যুদ্ধ
চলাকালীন সামরিক এবং আর্থিক দিক ছাড়াও জনগণের জীবনমানের নিরাপত্তার উপর প্রভাব
বিস্তার করে।
আর সহজ করে বলতে গেলে
- সামাজিক মাধ্যমে ফেক আইডি খুলে জ্বালাতন করা।
- সামাজিক মাধ্যমের আইডি, ইমেইল অথবা ওয়েব সাইট হ্যাক করা।
-
সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন ট্রল গ্রুপ বা পেজে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে
দেওয়া।
-
বিভিন্ন পর্নো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ধারণ করা ছবি বা ভিডিও
ছড়িয়ে দেওয়া।
- সামাজিক মাধ্যমের আইডি হ্যাক করে অর্থ দাবি করা
-
ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান ও হয়রানি
করা।
- কাউকে মারধর করে তার ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া।
-
কোনো কিশোরী বা যুবতী বা নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তার ভিডিও
ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া।
-
অনলাইনে ইকমার্সের নামে ভুয়া পেজ খুলে খারাপ পণ্য বিক্রির নামে হয়রানি
করা।
-
অনলাইনে পরিচিত হয়ে অনলাইন কারেন্সি ট্রাঞ্জেকশন করতে গিয়ে ফ্রডের
শিকার হওয়া।
-
ভুয়া বিকাশ নম্বর থেকে ফোন করে লটারির কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ
আত্মসাৎ করা।
-
ভুয়া বিকাশের এসএমএস দিয়ে গ্রাহককে দিয়েই অভিনব কায়দায় প্রতারণা করা।
-
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট আর এটিএম কার্ডের ডিটেইলস চুরি করে অর্থ চুরি
কর।
- অনলাইনে স্প্যামিং এবং গণ রিপোর্ট করা।
-
অনলাইনে বিভিন্ন সেলেব্রেটি বা মানুষের নামে ভুয়া তথ্য ছড়ানো বা খবর
প্রচার করা।
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায়
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায় রয়েছে, যেগুলো আমাদের ডিজিটাল জীবনকে
নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি ব্যক্তিগত পর্যায়ের সাইবার অপরাধ
প্রতিরোধ করতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে সবার প্রথমে সচেতনতা অবলম্বন করতে
হবে আর এটা এই ক্ষেত্রে খুবই জরুরী। কেননা আমরা যদি সকলেই তথ্য
প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক সচেতনতার সহিত করি তাহলে খুব সহজেই সাইবার
অপরাধ থেকে বেচে থাকা যাবে। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে বিস্তারিত কিছু
উপায় নিচে দেওয়া হলো।
১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারঃ নিরাপদ পাসওয়ার্ড নির্বাচন করুন
যা সহজে অনুমান করা যায় না, যেমন বড় এবং ছোট হাতের অক্ষর, নম্বর, এবং
বিশেষ চিহ্নের মিশ্রণ ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার
ব্যবহার করতে পারেন। পাসওয়ার্ড হলো আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার
প্রথম স্তর। এজন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাসওয়ার্ডটি হতে হবেঃ
- কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ অক্ষরের।
-
বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন (যেমন !, @, #, $, %)
মিশ্রিত।
-
ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন জন্মদিন, নাম, ফোন নম্বর) এড়িয়ে চলুন।
-
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করে আপনার পাসওয়ার্ডগুলো সুরক্ষিতভাবে
সংরক্ষণ করতে পারেন।
২. দ্বৈত প্রমাণীকরণঃ Two-factor Authentication-2FA যেকোনো
গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দ্বৈত প্রমাণীকরণ সক্রিয় করুন। এটি আপনার
অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ায় এবং সাইবার অপরাধীকে অ্যাকাউন্টে
প্রবেশ করতে আরও কঠিন করে তোলে। দ্বৈত প্রমাণীকরণ একটি অতিরিক্ত
নিরাপত্তা স্তর যোগ করে। এটি আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দুটি
উপায় ব্যবহার করেঃ
- প্রথমে আপনার পাসওয়ার্ড।
-
এরপর একটি কোড, যা আপনার ফোনে বা ইমেইলে পাঠানো হয়। 2FA সক্রিয় করা
হলে, হ্যাকারদের জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা আরও কঠিন হয়ে
যায়, কারণ পাসওয়ার্ড চুরির পরও কোডের প্রয়োজন হবে।
৩. নিরাপদ ওয়েবসাইট ব্যবহারঃ শুধুমাত্র নিরাপদ এবং
সার্টিফিকেটযুক্ত (HTTPS) ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। এটি আপনার
ব্যক্তিগত তথ্যকে সুরক্ষিত রাখে। আপনার ব্রাউজার যখন HTTPS:// দিয়ে
শুরু হয়, তখন জানবেন যে, সাইটটি নিরাপদ এবং তথ্য এনক্রিপ্টেড।
HTTPS ছাড়াও সার্টিফিকেট প্রমাণীকরণ সিস্টেম থাকে, যা নিশ্চিত করে
যে ওয়েবসাইটটি আসল। সন্দেহজনক বা অপরিচিত সাইট থেকে বিরত থাকুন,
বিশেষ করে ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে।
৪. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহারঃ নিয়মিত আপনার
কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আপডেট করুন,
যাতে ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন।
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার সিস্টেমের ভাইরাস, ম্যালওয়্যার,
র্যানসামওয়্যার ইত্যাদি শনাক্ত করতে এবং ব্লক করতে সাহায্য করে।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা প্রয়োজন, কারণ নতুন ধরনের সাইবার
আক্রমণের জন্য এটি সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারে।
৫. সামাজিক মিডিয়া সচেতনতাঃ সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত
তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক
করবেন না। সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনেক ব্যবহারকারী তাদের ব্যক্তিগত
তথ্য প্রকাশ করেন। সাইবার অপরাধীরা এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি বা
প্রতারণা করতে পারে। আপনাকেঃ
- নিজের ছবি, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সীমিত শেয়ার করতে হবে।
-
অজানা বা সন্দেহজনক মেসেজ, ইমেইল, অথবা লিঙ্ক থেকে দূরে থাকতে হবে।
- প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করে সীমিত শেয়ারিং নিশ্চিত করুন।
৬. সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন আপডেটঃ সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন
নিয়মিত আপডেট করুন, কারণ নিরাপত্তা হালনাগাদগুলো সাইবার অপরাধীদের
আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। নিরাপত্তা আপডেট এবং প্যাচগুলি
গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলি সাইবার অপরাধীদের আক্রমণ থেকে সিস্টেমকে
সুরক্ষা দেয়। আপনার অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত আপডেট
রাখুন, যা নতুন সিকিউরিটি ফিচার এবং বাগ ফিক্সগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।
৭. ফিশিং আক্রমণ থেকে সতর্ক থাকাঃ ফিশিং ইমেইল বা মেসেজ
থেকে সাবধান থাকুন, যাতে একে অপরের পরিচয়ে হ্যাকাররা আপনার ব্যক্তিগত
তথ্য চুরি করতে পারে। ফিশিং হলো একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে হ্যাকাররা
বিশ্বাসযোগ্য দেখানো ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য
চুরি করে নেয়। সাইবার অপরাধীরা ইমেইল, মেসেজ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার
করেঃ
-
ব্যাংক বা সরকারি সাইটের মতো দেখতে ফালস্ সাইট তৈরি করতে পারে।
-
সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করতে বা আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করতে চাপ
দিতে পারে।
কীভাবে রক্ষা পাবেন
- অজানা ইমেইল বা মেসেজ থেকে লিঙ্কে ক্লিক না করা।
- সরাসরি ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট চেক করা।
৮. ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই নিরাপত্তাঃ ব্লুটুথ
এবং ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে আপনার ডিভাইসে কোনো অবাঞ্ছিত
অ্যাক্সেস যাতে না হয়, সেজন্য পাসওয়ার্ড এবং এনক্রিপশন
ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। ব্লুটুথ বা
ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় এটি সুরক্ষিত হওয়া জরুরিঃ
-
ব্লুটুথ কনেকশন যেকোনো অবাঞ্ছিত সংযোগ বন্ধ রাখুন।
-
ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং
এনক্রিপশন (WPA3) ব্যবহার করুন।
-
পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে আপনার গুরুত্বপূর্ণ
তথ্য শেয়ার করবেন না, কারণ এটি সুরক্ষিত নাও হতে
পারে।
৯. ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাঃ ব্যক্তিগত তথ্য
যেমন নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
ইত্যাদি অনলাইনে শেয়ার না করার চেষ্টা করুন। অনলাইনে
ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা অনেক সময় বিপদজনক হতে পারে।
আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, সামাজিক নিরাপত্তা
নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড তথ্য খুব
সাবধানে শেয়ার করুন।
-
সন্দেহজনক ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান না করার
চেষ্টা করুন।
-
সরকারি বা প্রতিষ্ঠানের সাইটে তথ্য প্রদান করতে
গেলে নিশ্চিত হয়ে নিন যে তা নিরাপদ।
১০. নিরাপদ ব্যাকআপঃ গুরুত্বপূর্ণ ডেটার নিয়মিত
ব্যাকআপ রাখুন যাতে তথ্য হারানোর পর আপনি পুনরুদ্ধার
করতে পারেন। এমন সিস্টেম তৈরি করুন যেখানে আপনার
গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নিয়মিতভাবে ব্যাকআপ থাকে। এটি আপনি
ক্লাউড বা হার্ড ড্রাইভে সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে করে
যদি আপনার ডেটা হারানো বা র্যানসামওয়্যার দ্বারা
আক্রমণ হয়, তাহলে আপনি ব্যাকআপ থেকে সহজেই ডেটা
পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
১১. সন্দেহজনক কার্যকলাপ রিপোর্ট করুনঃ ইন্টারনেট ব্যবহার
করার সময় আপনি যদি অযৌক্তিক কিছু পরিলক্ষিত করেন বা সন্দেহজনক কিছু
চোখে পড়ে তাহলে তা যত দ্রুত সম্ভব কর্তৃপক্ষকে জানানোর চেষ্টা করুন।
সন্দেহজনক কোন লিংকে কোনভাবেই ক্লিক করবেন না।
১২. সকল ডেটার ব্যাকআপ রাখুনঃ
আপনি প্রতিনিয়ত অনলাইনে যেগুলো কার্যকলাপ প্রতিদিন করেন সেগুলো
অবশ্যই ব্যাকআপ করে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া আপয়ান্র
প্রয়োজনীয় সকল তথ্যগুলো একটা ব্যাকআপ ফাইলে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
তাহলে দেখবেন আপনি অ্যাকাউন্ট যদি কখনও কোনরকম ক্ষতির সম্মুখীন হয়
তবুও আপনি সেই তথ্যগুলির সাহায্যে আবারও ব্যবহার করতে পারবেন।
১৩. পাবলিক ওয়াইফাই এড়িয়ে চলুনঃ
জনবহুল স্থানে যেসব পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা হয় সেখান থেকেও
অনেকেই মোবাইলে ওয়াইফাই কানেক্ট করে নেয়। এ অবস্থায় ওই স্থানে যদি
কোন হ্যাকার থাকে তাহলে সহজেই আপনার স্মার্ট ফোনে থাকা তথ্যগুলো
হ্যাক করে নিতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াইফাই এড়িয়ে চলুন।
১৪. তথ্য শেয়ার করতে সাবধানতা অবলম্বন করুনঃ
অনলাইনে যে কোন তথ্য বা ছবি শেয়ার করার আগে চিন্তা করুন এই তথ্য
হ্যাকারের কোনরকম উপকারে আসতে পারে কিনা। যদি আপনার মনে হয় আপনার
ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারকে সাহায্য করতে পারে তাহলে সেসব তথ্য শেয়ার
করা থেকে বিরত থাকুন।
প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায়
প্রতিষ্ঠান পর্যায় সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং ব্যক্তিগত
পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ কিছুটা ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে
প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। চলুন প্রতিষ্ঠান
পর্যায়ে কিভাবে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করা যায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত
জেনে নেওয়া যাক
১. সাইবার নিরাপত্তা অডিট পরিচালনা করুনঃ প্রতিষ্ঠানিক
পর্যায়ে ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য সাইবার নিরাপত্তা
অডিট পরিচালনা করা হয়ে থাকে। সাইবার নিরাপত্তা অডিট পরিচালনা করার ফলে
প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়, তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয়,
সহজেই ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়। আপনি যদি একটি সাইবার নিরাপত্তা অডিট
পরিচালনা করেন তাহলে যেগুলো ঘটে তা নিম্নে উল্লেখ করে দেয়া হলঃ
- ডেটা ব্যাকআপ পরীক্ষা করা হয়,
- সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়ার পরীক্ষা করা হয়,
- কর্মচারীদের সচেতনতা পরীক্ষা করা হয়,
- প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নীতি পর্যালোচনা করা হয়,
- নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং করা হয়।
- ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করুন
- Two factor authentication পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করুন,
- ইউনিক এবং দীর্ঘ একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন,
- vpn ব্যবহার করতে হবে,
- ফায়ারওয়াল ব্যবহার নিশ্চিত করুন,
- নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন,
- ডেটার লিংক মনিটরিং করুন,
- ডেটা এনক্রিপশন করে রাখুন।
আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলতে, অপচয় কমিয়ে আনতে, ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর
খ্যাতি বৃদ্ধি করতে এবং এর পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা অর্জনে ডেটা
সুরক্ষা ব্যবহার বাস্তবায়ন করাটা খুবই জরুরী।
২. সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করুনঃ যেকোনো ডিজিটাল
প্রতিষ্ঠান এর সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন
করা একান্ত জরুরী। সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা তথ্য চুরি, ডেটা লিক
হওয়া এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। সাইবার
নিরাপত্তা নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা গুলো হলঃ
- আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে,
- কর্মচারীরা জবাবদিহিতায় বাধ্য থাকে,
- প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সম্পদ সুরক্ষিত থাকে,
- ব্রান্ড ইমেজ রক্ষা করে।
৩. ডাটা ব্যাকআপ নিশ্চিত করুনঃ আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হোক
কিংবা কোন কোম্পানি হোক না কেন সেখানকার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো
আপনাকে ভিন্ন জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এতে করে আপনার প্রতিষ্ঠাণ
যদি কোন কারনবশত সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয়েও যায় তবুও তথ্য খুঁজে পেতে
সমস্যা হবে না।
সরকারি পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায়
সরকারি পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য শাস্তির আইন প্রণয়ন
করতে হবে। এতে করে সাইবার অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে। তো আশা করছি
আপনারা এই অংশ থেকে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায় কি তা জানতে
পারবেন। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য বিস্তারিতভাবে
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো।
১. সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি ও প্রয়োগঃ সরকার
সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করতে পারে, যা
সাইবার আক্রমণ, হ্যাকিং, তথ্য চুরির মতো অপরাধের
বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবে। যেমনঃ
-
আইনগত কাঠামো তৈরিঃ সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে
উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা যেমন ডাটা প্রাইভেসি,
সাইবার হামলা, হ্যাকিং, পরিচয় চুরি, পণ্যের
দুর্ব্যবহার (ব্যাংকিং জালিয়াতি), শিশু
পর্নোগ্রাফি, সাইবার স্টকারিং ইত্যাদি। এই আইনগুলো
জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
-
কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাঃ সাইবার অপরাধীদের
জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে, যাতে তাদের
অপরাধের শাস্তি পেতে হয়। যেমন, হ্যাকিং বা ডাটা
চুরির জন্য বড় জরিমানা এবং দীর্ঘ কারাদণ্ড।
২. সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণঃ সরকারি
কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান
করা, যাতে তারা সাইবার হামলা বা প্রোবিংয়ের শিকার না
হন।
-
সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণঃ সাইবার অপরাধ
প্রতিরোধে সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া
প্রয়োজন যাতে তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হতে না
হয়। যেমন, ফিশিং আক্রমণ, ম্যালওয়্যার,
র্যানসমওয়্যার আক্রমণ ইত্যাদি থেকে রক্ষা পাওয়ার
উপায় শেখানো।
-
বেসিক সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষাঃ সাধারণ
জনগণের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা এবং
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালানো।
৩. নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনাঃ সরকারি
সাইটগুলির জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে
হবে, যেমন শক্তিশালী এনক্রিপশন, ফায়ারওয়াল এবং
অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার।
-
শক্তিশালী এনক্রিপশনঃ সরকারি প্রতিষ্ঠানে
সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য এনক্রিপ্ট করা উচিত। এটি
হ্যাকারদের তথ্য চুরি বা পরিবর্তন করা থেকে রক্ষা
করবে।
-
ফায়ারওয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারঃ সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য উন্নত ফায়ারওয়াল,
অ্যান্টি-ভাইরাস এবং অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার
সফটওয়্যার ব্যবহার করা যা সাইবার আক্রমণ শনাক্ত
করতে এবং ব্লক করতে সাহায্য করবে।
৪. সাইবার অপরাধ নজরদারি এবং অনুসন্ধানঃ সাইবার
অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন করা এবং
প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কার্যকলাপের
উপর নজরদারি চালানো।
-
সাইবার ক্রাইম ইউনিটঃ সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে
একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা, যা সাইবার অপরাধের
নজরদারি, তদন্ত এবং প্রতিরোধের কাজে নিয়োজিত থাকবে।
এদের দায়িত্ব হবে সাইবার হুমকি চিহ্নিত করা এবং
অপরাধী গ্রেফতার করা।
-
হুমকি শনাক্তকরণঃ নতুন ধরনের সাইবার আক্রমণ
শনাক্ত করার জন্য আধুনিক টুলস এবং টেকনোলজি ব্যবহার
করা, যেমন আইআরসিটি (Incident Response
Cybersecurity Teams) এবং হুমকি শিকার টিম।
৫. সচেতনতা সৃষ্টিঃ সাইবার অপরাধের বিপদ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে প্রচারণা চালানো, যাতে তারা নিরাপদ অনলাইন আচরণ জানে এবং সাইবার অপরাধের শিকার না হয়। যেমনঃ
-
সামাজিক প্রচারণাঃ সাইবার অপরাধের সম্ভাবনা এবং
এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে
মিডিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনসভা ব্যবহারের
মাধ্যমে প্রচারণা চালানো। যেমন, নিরাপদ পাসওয়ার্ড
ব্যবহার, অনলাইন ব্যাংকিং সতর্কতা, নিরাপদ সোশ্যাল
মিডিয়া ব্যবহার ইত্যাদি।
-
স্কুল ও কলেজে সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষাঃ
শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা
দেওয়া, যাতে তারা অনলাইনে নিরাপদভাবে কার্যক্রম
পরিচালনা করতে পারে।
৬. আন্তর্জাতিক সহযোগিতাঃ সাইবার অপরাধ একটি
আন্তর্জাতিক সমস্যা, তাই অন্যান্য দেশের সাথে সহযোগিতা
বৃদ্ধি করা, যাতে অপরাধী গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
-
সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তিঃ
সাইবার অপরাধ একটি গ্লোবাল সমস্যা, সুতরাং সাইবার
অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সহযোগিতা
বৃদ্ধির প্রয়োজন। যেমন, মিথস্ক্রিয়া, তথ্য
শেয়ারিং এবং একসাথে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
গ্রহণ।
-
সাইবার অপরাধে সহযোগিতাঃ বিশেষ করে একটি
দেশের সাইবার অপরাধী যদি অন্য দেশে লুকিয়ে থাকে,
তবে দ্রুত তাদের গ্রেফতার করার জন্য আন্তর্জাতিক
সহযোগিতা তৈরি করা।
৭. নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনাঃ সরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলির সাইবার নিরাপত্তা নীতি এবং প্রযুক্তিগত
অবকাঠামোর নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং নতুন হুমকি
মোকাবিলায় আপডেট করা।
-
নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও অডিটঃ সরকারি
প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা নীতি এবং সিস্টেমের
নিয়মিত পর্যালোচনা করা, যাতে সিস্টেমে কোনো
দুর্বলতা বা হুমকি চিহ্নিত করা যায় এবং তা দ্রুত
সমাধান করা যায়।
-
নতুন হুমকি মোকাবিলাঃ সাইবার নিরাপত্তা কৌশল
এবং প্রযুক্তিগুলি নতুন হুমকির বিরুদ্ধে আপডেট করা,
যেমন ক্লাউড কম্পিউটিং, আইওটি (Internet of Things)
ডিভাইসগুলোর সুরক্ষা ইত্যাদি।
৮. দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থাঃ দুর্নীতি বিরোধী
ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর
বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। এ
পদক্ষেপগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
-
অনলাইন দুর্নীতি বন্ধ করাঃ সরকারি প্রকল্প, ডিপার্টমেন্ট বা সংস্থাগুলোর মধ্যে অনলাইন দুর্নীতি বা প্রতারণা বন্ধ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সঠিক তথ্য সরবরাহ, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ।
সাইবার অপরাধের শাস্তি কি
সাইবার অপরাধের শাস্তি বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তি আইন (ICT Act) এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,
২০১৮ (Digital Security Act, 2018)-এর অধীনে
নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের জন্য
বিভিন্ন শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে
বাংলাদেশে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং
অন্যান্য আইনের অধীনে সাইবার অপরাধের ধরন, উদাহরণ,
এবং শাস্তির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলোঃ
-
কম্পিউটার সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ করলে ২৫ লক্ষ
টাকা জরিমানা সহ ৭ বছরের কারাদণ্ড।
-
কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা ধ্বংস
করলে ৭-১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা
জরিমানা।
-
অনলাইনে বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য প্রদান করলে ও
ভুয়া খবর ছড়ালে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ৭
বছরের কারাদণ্ড।
-
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি
করে কারও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা বা তার নামে
প্রতারণা করার দায়ে ধারা ২৬অনুযায়ী ৩ থেকে ৫
বছরের কারাদণ্ড অথবা ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
বা উভয়।
-
কারও সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য
প্রচার ও ইন্টারনেটে অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ ছবি,
ভিডিও, বা বার্তা প্রচার করলে ধারা ২৫ অনুযায়ী
সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা
জরিমানা।
-
অনলাইনে হয়রানিমূলক বার্তা বা মন্তব্য করা ও
কারও ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহার করে
ব্ল্যাকমেইল করলে ধারা ২৯ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫
বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
-
সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার
উদ্দেশ্যে পোস্ট করা ও ভুয়া তথ্য বা গুজব
ছড়ালে ধারা ২৮ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছরের
কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
-
অনলাইনে শিশুকে যৌন নির্যাতন করা হলে যাবজ্জীবন
কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা।
-
মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি
করা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার
উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানোর দায়ে ধারা ২১ অনুযায়ী
সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা
জরিমানা।
-
ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ডাটা ডিলিট করলে ও
ইলেকট্রনিক ডিভাইস চুরি করলে ২৫ লক্ষ টাকা
জরিমানা এবং ৭ বছরের কারাদণ্ড।
-
জাতীয় পর্যায়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলে ২০ লক্ষ
টাকা জরিমানা এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড।
সাইবার অপরাধের শিকার হলে অভিযোগ করার নিয়ম
সাইবার অপরাধের শিকার হলে করণীয় বা অভিযোগ জানাতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সাইবার ক্রাইমের ঘটনার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের ক্ষেত্রে কিছু তথ্য ও প্রমাণ সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। অভিযোগ জানানোর জন্য নিম্নোক্ত উপায়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক সাইবার অপরাধের শিকার হলে কিভাবে অভিযোগ করবেন।অভিযোগ করার নিয়মঃ
-
সাইবার অপরাধের শিকার হলে প্রাথমিকভাবে
আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি
(জিডি) করতে পারেন। এটি পরবর্তী আইনি
প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে।
-
‘Police Cyber Support for Women PCSW’ নামক
ফেসবুক পেইজে
(https://www.facebook.com/PCSW.PHQ) মেসেজ
দিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
-
cybersupport.women@police.gov.bd বা
cyberhelp@dmp.gov.bd - এই দুইটি ঠিকানায়
ইমেইল পাঠিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
-
বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের
ওয়েবসাইটে বা DCB (Cyber Crime Investigation
Center)-এর মাধ্যমে অভিযোগ জমা দিতে পারেন।
-
যে কোনো জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯-এ কল করুন।
এবং ফোন করেও অভিযোগ করা যাবে।
-
সরাসরি কথা বলার প্রয়োজনবোধ করলে চলে আসতে
পারেন ডিএমপি-র কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের
Cyber Crime Unit অফিসে। কথা বলতে পারেন
দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে এই নাম্বারে -
০১৭৬৯৬৯১৫২২। ঠিকানা : ঢাকা মেট্রোপলিটন
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ৩৬, শহীদ ক্যাপ্টেন
মনসুর আলী স্মরণী, রমনা, ঢাকা - ১০০০।
প্রয়োজনীয় তথ্যঃ
সাইবার অপরাধের শিকার হলে যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ
জানানো উচিত। অভিযোগ জানানোর জন্য নিম্নের
প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন -অভিযোগ করার
ক্ষেত্রে আপনার অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু
প্রমাণাদি প্রয়োজন, যেমনঃ
-
সংশ্লিষ্ট আলামতের স্ক্রীনশট, লিংক,
অডিও/ভিডিও ফাইল অথবা রিলেটেড ডকুমেন্টস।
-
স্ক্রীনশট সংগ্রহের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে
হবে যেন Address Bar - এর URL টি দৃশ্যমান
হয়।
-
ই-মেইল এর মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে চাইলে এসব
প্রমাণাদি সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করে আপলোড করতে
পারেন।
-
প্রয়োজনে Cyber Crime Unit - এর অফিসারদের
নিকট থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে
পারেন যা আপনার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের
সহায়ক হতে পারে।
সাইবার অপরাধ সম্পর্কে শেষকথা
সাইবার অপরাধ সম্পর্কে শেষকথা হলো সাইবার অপরাধের
সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল
প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ বা অপরাধমূলক
কর্মকাণ্ড করে। তারা বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের
সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এই অপরাধীরা প্রায়ই
টেকনোলজি, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা বা ভুলে
অন্যদের ক্ষতি করে থাকে এবং তারা ব্যক্তিগত তথ্য,
আর্থিক সুবিধা বা সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
সাইবার অপরাধের শিকার হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে
আজকের আর্টিকেলে আমি সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা
করেছি। দৈনন্দিন জীবনে আপনার ব্যবহার করা
সোশ্যাল মিডিয়া অথবা কম্পিউটার সকল ক্ষেত্রে এর
নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ের করে নিন। হয়তো
আপনিও কোনদিন সাইবার হামলাকারির স্বীকার হতে
পারেন। তাই এই বিষয়ে আমাদের সকলেরই সচেতন থাকা
উচিত।
আমি ইতিমধ্যে সাইবার অপরাধ কাকে বলে, সাইবার
অপরাধের শিকার হলে করণীয় এবং সাইবার অপরাধ
সম্পর্কে আরো অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে আজকের এই
পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি।
আপনি এই যদি পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ অবদি পড়েন
তাহলে আশা করছি সাইবার অপরাধ নিয়ে যাবতীয়
বিষয়সমূহ জেনে আপনাদের উপকারে আসবে।
বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url