- যখন কারোর ডায়াবেটিস থাকে, তখন তার শরীরে যে অতিরিক্ত ইনসুলিন থাকে কাজে আসেনা ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা বেনে যায়। তাই ঘন ঘন বাথরুমে যেতে হয়।
- যখন রক্তে খুব বেশি গ্লুকোজ থাকে, তখন এটি আমাদের শরীরের চারপাশে গ্লুকোজ বহনকারী টিউব গুলিতে আঘাত করতে পারে। এর ফলে আমাদের ক্লান্ত এবং মাথা ঘোরা বোধ হয় এবং আমরা কিছুটা কাঁপতেও পারি কারণ সঠিক পুষ্টি শরীর পায়না।
- আমাদের শরীরের প্রায় ৭০% জল গঠিত। যখন কারও ডায়াবেটিস হয়, তখন তারা প্রস্রাব এবং ঘামের মাধ্যমে জল বেরিয়ে যায়। যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
- অনেক সময় গ্লুকোজে এর পরিমান বেড়ে গেলে কোনো ঘা শোকাতেও সময় লাগে।
- ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের আকৃতির পরিবর্তনের কারণে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়, এবং মনি ফুলে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে চির দৃষ্টিহীন ও হতে পারে।
- ডায়াবেটিস স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে এবং মস্তিষ্ককে প্রভাবিত ফেলতে পারে, তাই সম্ভাব্য রোগীদের তাৎক্ষণিক স্মৃতিশক্তি হ্রাস হয়ে থাকে।
- অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না করলে আমাদের শরীরে উৎপন্ন গ্লুকোজ অকার্যকর হয়ে পড়ে। যখন এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়, তখন আমাদের শরীরে শক্তির অভাব হয়। এর ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং অলসতা দেখা দেয়। এর জন্য আমরা ঘন ঘন খিদে অনুভব করি কারণ আমাদের শরীরে খাওয়া থেকে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়।
- ডায়াবেটিস শরীর থেকে অতিরিক্ত জলের প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়, যার ফলে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে ঘন ঘন জলের তৃষ্ণা হয়।
- নিতম্ব বা হাতে পায়ে ঝিনঝিন করা যা স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে এমন অনুভূতি হতে পারে।
- সংক্রমণ বেশি হওয়া বিশেষ করে প্রস্রাবের সংক্রমণ বা ত্বকের সংক্রমণ।
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করবো। বর্তমানে
ডায়াবেটিস রোগের সমস্যা অনেকের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তাই অনেকেই ডায়াবেটিসের লক্ষণ
ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তাদের উদ্দেশ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে
গুরুত্বপূর্ন তথ্যগুলো নিয়ে আমার আজকের আর্টিকেল।
আমার আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়ার মাধ্যমে জেনে যাবেন, ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ
ও প্রতিকার সম্পর্কে। এছারাও ডায়াবেটিস রোগির খাবার তালিকা, কি খেলে ডায়াবেটিস
দ্রুত কমে, ডায়াবেটিস হলে কি খাওয়া যাবে না এ বিষয়গুলো জানতে পারবেন। তো চলুন
বিস্তারিতভাবে শুরু করা যাক।
পেইজ সূচিপত্রঃ ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
- ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ
- ডায়াবেটিস রোগের প্রতিকার
- ডায়াবেটিসের ধরন
- ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা দেখা দেয়
- দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়
- ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকা
- ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কি কি সমস্যা দেখা দেয়
- কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে
- ডায়াবেটিস হলে কি কি খাওয়া যাবে না
- ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শেষকথা
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ গুলো প্রাথমিকভাবে রোগের ধরণ এবং তার তীব্রতার উপর নির্ভর করে।ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হয়।ডায়াবেটিস জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে যেমন- টাইপ ১ ডায়াবেটিস এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস। তবে উভয় ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়।
আরও পড়ুনঃ দ্রুত হাইপ্রেসার কমানোর উপায় জানুন
ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণঃ
টাইপ ১ ডায়াবেটিসেরঃ টাইপ ১ ডায়াবেটিস সাধারণত অল্প বয়সে (শিশু বা কিশোর বয়সে) ধরা পড়ে এবং
এটি একটি অটোইমিউন রোগ। এর ফলে শরীরের অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ করে
দেয়।
- এটি সাধারণত শিশু ও তরুণ বয়সে বেশি দেখা যায়।
- লক্ষণগুলি দ্রুত প্রকাশ পায়।
- ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষমতা থাকে।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসেরঃ টাইপ ২ ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন
লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। তবে সময়ের সাথে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা
দিতে পারে।
- এটি সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়।
- লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।
- রক্তে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
ডায়াবেটিস রোগের প্রতিকার
ডায়াবেটিস রোগের প্রতিকার সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নাই। ডায়াবেটিস
শব্দটি আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। এমন কোনো পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে
না, যেখানে কোনো ডায়াবেটিসের রোগী নেই। বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস রোগির
সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবশরীরে রক্তের শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক
থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু আমাদের শরীর যখন নিজ থেকে ইনসুলিন তৈরি
করতে পারে না,
আরও পড়ুনঃ পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
তখন আমাদের রক্তের গ্লুকোজের বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে
যায়। আর তখনি ডায়াবেটিস রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস একটি স্থায়ী রোগ,
এ রোগের প্রতিকার নেয় বললেই চলে। তাই ডায়াবেটিস রোগের প্রতিকারের আগে
প্রতিরোধ করায় বুদ্ধিমানের কাজ। খাওয়া দাওয়া ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলেই
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। জেনে নিন ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধের উপায় কি।
নিয়মিত হাঁটাঃ বিশেষজ্ঞদের মতে ডায়াবেটিস হওয়ার মূল কারন হলো কম
হাঁটা। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষের হাঁটার প্রবনতা কমে গেছে। শারিরিক
পরিশ্রমের থেকে মানুষ কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের কাজ অথবা অফিসে বসে থেকে
কাজের প্রতি চাহিদা বেশি। তবে আমাদের কাজের ধরন যেমনি হোক না কেন, চেষ্টা
করতে হবে দৈনিক কিছু সময়, অন্তত এক ঘন্টা হাঁটা। নিয়মিত হাঁটলে ডায়াবেটিস
রোগকে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু ডায়াবেটিস
নয় বিভিন্ন রোগ থেকে শরীর সুস্থ থাকবে নিয়মিত হাঁটার কারনে।
ডায়েট চার্ট মেনে চলুনঃ রোগীর বয়স, উচ্চতা, বর্তমান ওজন ও
প্রাত্যহিক পরিশ্রমের ধরন বুঝে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা তৈরি করুন। এটি মেনে
চলা খুব জরুরি। চিকিৎসকের দেওয়া রুটিনের একটু হেরফের হলে বরং অসুখটি বেড়ে
যেতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদিন তিন বেলা ভারী খাবারের মাঝখানে তিনবার হালকা
খাবার খান। এটি খুব জরুরি। এ জন্য সকাল ১১টা, বিকেল ও রাতে ঘুমানোর আগে
হালকা খাবার খান। খাবারের সময় ও পরিমাণ একই রাখুন। এতে শর্করা লেভেল ঠিক
থাকবে।
ধূপমান ও মদ্যপান ছাড়তে হবেঃ ধূমপান ও মদ্যপান ডায়াবেটিস রোগের একটি
কারন। শুধু ডায়াবেটিস নয়, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগরে ঝুঁকি বাড়ায় যারা
ধূমপান ও মদ্যপান গ্রহন করে। চিকিৎসকের মতে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করতে
অবশ্যই ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে। কারণ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা
অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয় এ অভ্যাসগুলো।
খাদ্যভাস পরিবর্তনঃ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে খাদ্যভাসে পরিবর্তন আনা
জরুরি। মিষ্টি, রেড মিট, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড, বিরিয়ানি এসব
খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই
যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে বাইরের খাবার, প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবাার ও
পানীয়, চিনি জাতীয় পানীয়, অতিরিক্ত লবন ও চর্বিযুক্ত প্রভৃতি খাবারগুলো।
পরিবর্তে খেতে হবে পরিমিত শাক-সবজি, ফল, দানা শস্য, স্বাস্থকর তেল, বাদাম
প্রভৃতি স্বাস্থকর খাবারগুলো। এছারাও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে একবারেই পেট
ভর্তি করে খাওয়া যাবে না, বিরতি দিয়ে অল্প অল্প করে খেতে হবে। খাদ্যভাসে এ
পরিবর্তনগুলো আনলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে পাশাপাশি অনান্য রোগের
ঝুঁকি কমবে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন রাখতে হবেঃ শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল
ডায়াবেটিসসহ আরও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বছরে একবার চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করে নিতে হবে। এছারাও
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে ও সঠিক খাবার
খেতে হবে।
জীবনাচরণ পরিবর্তনঃ কি খাচ্ছেন আর কতটা পরিশ্রম করছেন সব কিছু
জীবনাচরণের অংশ। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া
পর্যন্ত কতটুকু কাজ করা দরকার, কীধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, কতটুকু
খেতে হবে, কয় বার খেতে হবে, কার জন্য কতটুকু খাবার দরকার ইত্যাদি সবই এর
অংশ। শরীরের ওজন কমিয়ে রাখতে হবে।
সঠিক ওজন বজায় রাখুনঃ যেকোনোভাবেই হোক, ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
ডায়াবেটিসের অন্যতম একটি কারণ দেহের অতিরিক্ত ওজন। মনে রাখবেন, বয়স ও
উচ্চতা অনুযায়ী ওজন যত বেশি হবে, ততই বাড়বে ডায়াবেটিসের বিপদ। বরং
হালকা-পাতলা গড়নের মানুষ ডায়াবেটিসকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে। আশা করি
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
ডায়াবেটিসের ধরন
ডায়াবেটিস বিভিন্ন আকারে প্রকাশ পায়, প্রতিটিরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যা রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি হয়ে গেলে ঘটে।
যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, বা কোনোটিই, বা যখন
শরীর ইনসুলিনের প্রভাবে সঠিকভাবে সাড়া দেয় না তখন এটি বিকাশ লাভ করে।
ইন্সুলিন, অগ্ন্যাশয় দ্বারা সংশ্লেষিত একটি হরমোন, শক্তি ব্যবহারের জন্য
গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করার চাবিকাঠি হিসাবে কাজ করে। নিচে
ডায়াবেটিসের ধরন তুলে ধরা হলোঃ
টাইপ-১ ডায়াবেটিসঃ টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া
দ্বারা সৃষ্ট হয় (শরীর দুর্ঘটনাক্রমে নিজেকে আক্রমণ করে) যা শরীরকে ইনসুলিন
তৈরি করতে বাধা দেয়। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সমস্ত ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৫-১০%
প্রভাবিত করে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি প্রায়শই দ্রুত প্রদর্শিত হয়।
এটি সাধারণত শিশু, কিশোর এবং অল্প বয়স্কদের মধ্যে নির্ণয় করা হয়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসঃ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাথে, শরীর ইনসুলিন ভালভাবে
ব্যবহার করে না এবং স্বাভাবিক রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে পারে না। এটি
বিকাশ করতে কয়েক বছর সময় নেয় এবং সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নির্ণয়
করা হয়। কারণ লক্ষণগুলি লক্ষণীয় নয়, রক্তে শর্করার পরীক্ষা করা
গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস এড়ানো বা বিলম্বিত হতে পারে স্বাস্থ্যকর
জীবনধারার পরিবর্তনগুলি গ্রহণ করে যেমন ওজন কমানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং
নিয়মিত ব্যায়াম করা।
গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসঃ গর্ভবতী মহিলারা যাদের কখনও ডায়াবেটিস হয়নি
তাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে। মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে শিশুর
স্বাস্থ্য সমস্যার বেশি ঝুঁকি থাকতে পারে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত শিশুর
জন্মের পরে পরিষ্কার হয়ে যায়, তবে এটি পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার
ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুর পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস সহ শিশু বা কিশোর বয়সে
স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রিডায়াবেটিসঃ এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের আগের পর্যায়।
প্রি-ডায়াবেটিসে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিন্তু
টাইপ-২ ডায়াবেটিস ধরা পড়ার মতো যথেষ্ট নয়।
ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা দেখা দেয়
ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা দেখা দেয় তা সহজে বুঝা যায় না। এটি এমন একটি
শারিরিক সমস্যা যা মৃত্যু পর্যন্ত সাথে করে নিয়ে বেড়াতে হয়। বিশ^ স্বাস্থ
সংস্থা অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৪২ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত
হচ্ছে। তাই এ রোগটি নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত। ডায়াবেটিস হলে শরীরের মধ্যে বেশ কিছু
সমস্যা দেখা দেয়, সে সমস্যাগুলো জেনে আমাদের সতর্ক থাকা জরুরি। তো চলুন জেনে
নেওয়া যাকা ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা দেখা দেয়।
- ঘন ঘন প্রসাবের বেগ আসা।
- কিছুক্ষন পর পর পিপসা লাগা।
- ক্ষুধা আগের থেকে বেড়ে যাওয়া।
- শরীরে দুর্বল অনুভুত হওয়া।
- অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া।
- মিষ্টিজাতীয় খাবারগুলো খাওয়ার প্রতি চাহিদা বেড়ে যাওয়া।
- শরীরের কোনো স্থানে ক্ষত হলে, সে ক্ষত সারতে সময় লাগা।
- ওজন কমে যাওয়া।
- মন মেজাজ পরিবর্তন।
- চোখে ঝাপসা দেখা।
- চামড়ায় খসখসে ভাব ও চুলকানির সৃষ্টি হওয়া।
সাধারনত ডায়াবেটিস রোগীদের উপরের বলা লক্ষণগুলো প্রকাশ পেয়ে থাকে। এ লক্ষনগুলো
আপনার মধ্যে প্রকাশ পেলে একেবারে নিশ্চিত হয়ে যাবেন না, যে আপনার ডায়াবেটিস
হয়েছে। তবে লক্ষনগুলো দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় রয়েছে। ডায়াবেটিস, এমন একটি রোগ যা
সম্পর্কে আমরা সকলেই ভালো ভাবে পরিচিত। সঠিক পরিচর্যা না করলে জীবন ঝুঁকির
সম্ভাবনা থাকতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ নিয়ম গ্রহণ করা
আবশ্যক। নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস একবার দেখা দিলে নানাভাবে শরীরের ক্ষতি করতে থাকে।
তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রচেষ্টারও কমতি রাখেন না অনেকে। দ্রুত
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় জেনে নিন।
নিয়মিত ব্লাড সুগার চেকআপঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নিয়মিত ব্লাড সুগার চেকআপ করা। আপনি আপনার
ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করে প্রতি মাসে বা প্রতি তিন মাসে এই পরীক্ষা করতে
পারেন। এটি আপনার ব্লাড সুগার রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।
পুষ্টিকর খাবারঃ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির অবশ্যই তাদের খাবারের
বিষয়ে কঠোরভাবে সচেতন হয়ে হবে। প্রতিদিনের সঠিক খাবারের তালিকা তৈরী করতে
হবে। অল্প করে বাড়ে বাড়ে খাবার খেলে শরীরের মধ্যে গ্লুকোজের মাত্রা
ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ হয়ে। হালকা এবং অত্যধিক তেলহীন উভয় ধরনের খাদ্য গ্রহণ
করা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী বলে প্রমাণিত হয়। অল্প করে বারবার
খাওয়ার অভ্যাসের মাধ্যমে, ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক
থাকে।
ব্যায়ামঃ নির্দিষ্ট মাত্রা ব্যায়াম করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য
উন্নত করে এবং ব্লাড সুগার স্তর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মানসিক ব্যায়াম,
যেমন ধ্যান করা, এবং বিশ্রাম গ্রহণ করা, স্ট্রেস নির্মূল করে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বর্জনঃ দুটি ধরনের কার্বোহাইড্রেট
রয়েছে। প্রথম প্রকার, চাল এবং চিনির মতো সাধারণ কার্বোহাইড্রেট গুলি দ্রুত
আমাদের দেহে ভেঙে যায় এবং আমাদের দ্রুত শক্তি দেয়। দ্বিতীয় প্রকার,
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, যেমন গম, ভেঙে যেতে বেশি সময় নেয় এবং ধীরে ধীরে
আমাদের শক্তি দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য জটিল
কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া আবশ্যক।
ওজন নিয়ন্ত্রণঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওজন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত ওজন নির্মূল করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত
ব্যায়াম করলে নির্দিষ্ট পর্যায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রচুর পরিমাণে পানি পানঃ প্রচুর পানি পান ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি প্রস্রাব করার সময় আপনার শরীরের
অতিরিক্ত গ্লুকোজ বেরিয়ে যায়। এছাড়াও শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, পুষ্টি
ইত্যাদি বজায় রাখে। তাই প্রচুর জল পান করলে তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে
পারে।
মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকাঃ মানসিক চাপ রক্তের শর্করার মাত্রাকে
প্রভাবিত করে যা হরমোনের প্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে গ্লুকোজের উৎপাদন বাড়ায়। নানান
পরিস্থিতি মধ্যে অযথা চিন্তা বা মানসিক চাপ ডায়াবেটিস বাড়ায়। এটি শরীরে
শর্করার পরিমান বাড়িয়ে দেয় তার ফলস্বরূপ ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। তাই
মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন।
নিয়মিত ওষুধ গ্রহণঃ ডায়াবেটিস রোগীদের কিছুটা ওষুধ নেওয়া প্রয়োজন
হতে পারে, এবং এই ওষুধ গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ওষুধ খাবার আগে
ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা অতিঅবশ্যক, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ
খাওয়া ঠিক নয়।
পর্যাপ্ত ঘুমঃ সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়া সত্যিই
গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আমাদের শরীরের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘন্টা
ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না পাওয়া আমাদের শরীর ভালো ভাবে কাজ করে না এবং
এমনকি আমাদের শরীরে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আমাদের জন্য ভাল
নয়। তাই সুস্থ থাকতে এবং ডায়াবেটিস এড়াতে প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত
করুন।
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকা
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকা সবার জন্য এক হবে না। একজনের জন্য উপযোগী খাবার
অন্যের জন্য নাও হতে পারে। কারণ, প্রত্যেকের বয়স, ওজন, কাজ, জীবনযাপন এবং
অন্যান্য বিষয়গুলো ভিন্ন। তবে, ডায়াবেটিস হলে সব খাবারই নিষিদ্ধ নয়। শুধু
খাবার বাছাইয়ে একটু সতর্ক থাকতে হবে। একই খাবার প্রতিদিন খেলে ক্লান্তি
লাগতে পারে, তাই খাবারে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করতে হবে। ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ
১. ফলমূল ও শাকসবজিঃ ডায়াবেটিস থাকলেও আপনি ফলমূল এবং শাকসবজি খেতে
পারবেন। প্রকৃতপক্ষে, এগুলো আপনার স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি ও ফলমূল সাধারণত ক্যালোরিতে কম এবং ভিটামিন, খনিজ
পদার্থ ও আঁশে পরিপূর্ণ, যা আপনার শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। তাছাড়া
এগুলো খাবারের স্বাদ ও বৈচিত্র্য বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
করে।তাজা, ফ্রোজেন, শুকানো অথবা ক্যানের প্রক্রিয়াজাত যেকোনো ধরনের ফল ও
শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে। যত প্রকারের রঙ-বেরঙের ফলমূল ও শাকসবজি খাবেন, ততই
ভালো। তবে, ফলের জুস ও স্মুদি পরিহার করাই শ্রেয়, কারণ এগুলোতে আঁশের পরিমাণ
কম থাকে।
২. খেজুরঃ খেজুরের মিষ্টি স্বাদ অনেককে বিভ্রান্ত করে যে ডায়াবেটিস
আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযুক্ত কি না। অথচ বাস্তবে, খেজুরে থাকা উচ্চ
ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফাইবার শরীরে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে,
যা রক্তে সুগারের মাত্রাকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। আঙ্গুর, কমলালেবু বা
ফুলকপির চেয়ে খেজুরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরে
ক্ষতিকারক মুক্ত র্যাডিকেলগুলি নির্মূল করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নতি
সাধন করে। এই কারণে, খেজুর ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং ম্যানেজমেন্টে একটি
উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, এর সেবনের পরিমাণ হওয়া উচিত সীমিত
এবং ডায়েটের অন্যান্য দিকগুলিও মাথায় রেখে এটি খাওয়া উচিত।
৩. তিসিঃ তিসি, যা ইংরেজিতে ফ্ল্যাক্সসিড নামে পরিচিত, একটি অত্যন্ত
পুষ্টিকর বীজ যা মানব স্বাস্থ্যে বিভিন্ন উপকার নিয়ে আসে। তিসি বীজে উচ্চ
পরিমাণে ফাইবার, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড থাকে। এই বীজগুলি বিশেষ করে
ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে খুবই কার্যকর, কারণ এগুলি রক্তে চিনির মাত্রা হ্রাস
করে এবং এর স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি করে। তিসি বীজ খাওয়ার একটি ভালো উপায় হল
বীজগুলিকে গুঁড়া করে নিয়ে তা পানিতে মিশিয়ে পান করা। প্রতিদিন দুই গ্লাস
পানিতে তিন চা চামচ তিসি বীজের গুঁড়া মিশিয়ে সেবন করলে এটি রক্তে চিনির
মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এর ফাইবার সামগ্রী পাচন প্রক্রিয়াকে
স্বাস্থ্যকর করে এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্তে চিনির স্তর স্থির রাখতে সাহায্য করে।
তাছাড়া, ওমেগা ফ্যাটি এসিডগুলি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নতি
সাধনে অবদান রাখে।
৪. দুধঃ দুধ একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, যা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর
উৎকৃষ্ট উৎস। এর পুষ্টি উপাদানগুলি ডায়াবেটিস আক্রান্তদের স্বাস্থ্যের জন্য
অনেক উপকারী, কারণ এগুলি হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য
বজায় রাখতে সাহায্য করে। যারা দুধ থেকে পেটে গ্যাসের সমস্যা অনুভব করেন,
তারা ফ্যাটহীন দুধ বা দুগ্ধজাত অন্যান্য খাবার যেমন টকদই গ্রহণ করতে পারেন যা
পেটের সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারগুলি সকালের নাস্তায়
অন্তর্ভুক্ত করা যায়, যা দিনের শুরুতে পুষ্টির একটি ভালো উৎস সরবরাহ করে।
দুধ বা টকদইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্যগুলি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং
আবশ্যক খনিজের জোগান দেয় যা দিনের শুরুতে শক্তি ও সতেজতা বজায় রাখতে
সহায়ক।
৫. তেল, মাখন, ও ঘিঃ চর্বি ও তেল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি শক্তির প্রধান উৎসগুলোর একটি এবং শরীরের
কোষগুলোকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে, চর্বি শরীরে বিভিন্ন
ভিটামিনের শোষণ নিশ্চিত করতে সহায়ক। তবে, সব ধরনের চর্বি সমান নয়, এবং
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চর্বি নির্বাচন খুবই সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা
বাড়িয়ে দেয়, যা হার্টের রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সুতরাং,
ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় সঠিক ধরনের চর্বি অন্তর্ভুক্ত করাটা
গুরুত্বপূর্ণ।
৬. তুলসীঃ তুলসী, একটি ঔষধি উদ্ভিদ, যাকে প্রায়ই ডায়াবেটিসের জন্য
‘প্রাকৃতিক ইনসুলিন’ বলা হয়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারি। তুলসীপাতা
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য
করে। তুলসীপাতার রস খালি পেটে সেবন করলে রক্তের চিনির মাত্রা হ্রাস পায়।
আপনি যদি তুলসীর রসের স্বাদ পছন্দ না করেন, তাহলে তা চা বা অন্য কোনো
পানীয়ের সাথে মিশিয়ে সেবন করতে পারেন। এটি রক্তে শর্করার স্তর স্বাভাবিক
রাখার পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সরবরাহ নিশ্চিত করে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য
উপকারী।
৭. মটরশুঁটিঃ মটরশুঁটি, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের প্রতিরোধে একটি
প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং
হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনে সহায়তা করে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ গ্রাম
মটরশুঁটি খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অবস্থার
ঝুঁকি কমাতে পারে। প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন, এবং খনিজের ভালো উৎস হিসেবে কাজ
করে, যা স্বাস্থ্যকর ডায়েটের একটি অংশ হতে পারে। এই সবজির নিয়মিত সেবন
শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করে, রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
রাখে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
৮. ডিমঃ ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন ডিম খেতে পারেন। প্রতিদিন কুসুম
সহ একটি ডিম খেলে আপনার পটাশিয়াম এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে না। সুতরাং আপনি
প্রত্যেকদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। ডিমের ভেতরে যে কোলেস্টেরল থাকে এটা
আমাদের গুড কোলেস্টেরল বাড়ায়। HDL (high-density lipoprotein) – কে বাড়ায়
এবং LDL (low-density lipoprotein) – কে কমায়। একজন সাধারণ ব্যক্তি এবং
ডায়াবেটিস রয়েছে এমন ব্যক্তি সপ্তাহে ছয়টা থেকে বারোটা ডিম খেতে পারে।
৯. অ্যাভোকাডোঃ ডায়াবেটিস রোগীরা অ্যাভোকাডো খেতে পারেন। এর ভেতর
সুগার খুবই কম এবং ফ্যাটের জন্য খুব ভালো সোর্স। এতে মূলত মনোআনস্যাচুরেটেড
ফ্যাট থাকে, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও এভোকাডোতে রয়েছে
প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কিন্তু, একটি কথা বলে রাখা ভালো যাদের কিডনিতে
সমস্যা রয়েছে তারা অ্যাভোকাডো খাবেন না। কারণ, অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে
পটাশিয়াম রয়েছে। একটি মাঝারি আকারের অ্যাভোকাডোতে প্রায় ৭০০ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম থাকে।
১০. চিয়া সিডঃ রাত্রিবেলা পানিতে চিয়া সিড ভিজিয়ে সকালবেলা দইয়ের
সঙ্গে অথবা শরবত করে খেতে পারে। চিয়া সিড সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করে
তা হলো ওজন কমায় তারপর ফাইবার থাকে যা সুগার স্পাইক হতে বাধা দেয় এবং
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে ইত্যাদি। এছাড়াও চিয়া সিড কোলেস্টেরল, ব্লাড
প্রেসার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। শুধু একটাই সমস্যা যাদের ইউরিক এসিডের
সমস্যা রয়েছে তারা একটু কম পরিমাণে খাবেন।
১১. টক দইঃ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিভিন্নভাবে টক দই উপকার করে। টক
দই শরীরে ওজন কমাতে সাহায্য করে। খাদ্যাভ্যাসে লো ফ্যাট বা ননিবিহীন পনির ও
দই অন্তর্ভুক্ত করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে। যাঁরা সপ্তাহে অন্তত
১২৫ গ্রাম ননিবিহীন দই গ্রহণ করেন, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের
তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ কমে যায়। গবেষকরা মনে করছেন, নিয়মিতভাবে ননিবিহীন
দই খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ডায়াবেটিস
প্রতিরোধে এটি সহায়ক হতে পারে।
১২. বিনস জাতীয় খাবারঃ আপনি বিনস জাতীয় খাবার খেতে পারেন। বিনস জাতীয়
খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ডায়াবেটিসের সুগার স্পাইক হওয়ার সম্ভাবনা
কমে যাবে। এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস হয়নি তারা যদি নিয়মিত বিনস জাতীয়
খাবার খান তাহলে তাদের ডায়াবেটিস হাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বিনস হার্টের
জন্য উপকারী কলেজস্টোরাল কমায় সুগার লেভেল কমায় এছাড়াও এটা আমাদের ওজন
কমাতে সাহায্য করে। এ সকল উপকারের জন্য আপনার ডায়েট বিনস জাতীয় খাবার রাখতে
পারেন।
১৩. বাদামঃ ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম
রাখুন। বাদামের ভিতরে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস
রোগে আক্রান্ত তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় আর বাদামে ফাইবার
থাকার জন্য হৃদরোগের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য করে। ফ্যাটের জন্য
বাদাম একটি ভালো উৎস। তাই বলে আপনি অনেক অনেক করে বাদাম খেতে পারবেন না। যদি
আপনার কিডনির সমস্যা না থাকে তাহলে এক মুঠ পরিমাণ মত বাদাম খেতে পারেন।
বাদামের ফাইবার রয়েছে বললাম তো তাছাড়াও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম সুতরাং সুগার
স্পাইক হবে না।
১৪. ব্রকলিঃ শাক-সবজি জাতীয় খাবারের ভিতরে ব্রকলির কথা বলা হয়েছে
তারপরও এখন ব্রকলির সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। ব্রকলির ভিতরে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন সি ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরের জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তারা খাবার তালিকা ব্রকলি
রাখতে পারেন। ব্রকলি তরকারি হিসেবে অথবা সিদ্ধ করে খেতে পারেন।
১৫. অলিভ অয়েলঃ অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। অলিভ অয়েল এর ভিতরে
প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সাইড রয়েছে। এই এন্টিঅক্সাইড হৃদরোগ সমস্যা থেকে
মুক্তি দিতে সাহায্য করে। এই অলিভ অয়েল তেল যদি এক্সট্রা ভার্জিন বা আন
রেফাইন হয় তাহলে আরো বেশি ভালো। তাই অলিভ অয়েল দিয়ে ডায়াবেটিস রোগের
খাবার তৈরি করতে পারেন। হয়তো আপনার মনে এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে একজন মানুষ
কত গ্রাম তেল খেতে পারে। সম্পূর্ণ মাসে ৬০০ মিলিমিটার তেল খেতে পারেন।
ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কি কি সমস্যা দেখা দেয়
ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কিছু সমস্যা দেখা দেয় যা স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
ফেলে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ মুশকিল। অনেক সময় দেখা যায়,
হুট করেই বেড়ে গেছে ব্লাড সুগার। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক
বিষয়টি হলো- ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে এটি নিয়ন্ত্রণে
আসে বটে। তবে মাঝে মধ্যেই হুট করে তা বেড়ে যেতে পারে। যদিও ডায়াবেটিস
কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।
এটি এমন একটি রোগ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে
দেয় ও শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে। উচ্চ মাত্রায় রক্তে শর্করার
উপস্থিতি উদ্বেগের বিষয়। এটি কিডনি, হৃদরোগের পাশাপাশি অন্ধত্বের কারণ হতে
পারে। এসব রোগ প্রতিরোধে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তবে
অনেক সময় জানা যায় না কখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস
বেড়ে গেলে যসব সমস্যা দেখা দেয় তা আলোচনা করা হলো।
চোখের সমস্যাঃ ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে ‘ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি’ নামে
একটি চোখের রোগ তৈরি করে, যা দৃষ্টি শক্তিকে প্রচন্ড ভাবে প্রভাবিত করতে
পারে। ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে এই সাধারণ চোখের রোগটি কর্মক্ষম
প্রাপ্তবয়স্কদের অন্ধত্বের প্রধান কারণ। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হয় যখন
রক্তে উচ্চ শর্করার উপস্থিতির কারণে রেটিনার রক্তনালিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে
(চোখের পিছনের কোষগুলোর একটি হালকা-সংবেদনশীল স্তর)।
ক্ষতিগ্রস্থ রক্তনালিগুলি ফুলে যেতে পারে এবং ফুটো হতে পারে, যার ফলে দৃষ্টি
ঝাপসা হয়ে যায় বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কখনো কখনো নতুন রক্তনালিগুলো
বৃদ্ধি পায়, তবে সেগুলো স্বাভাবিক নয় এবং আরো দৃষ্টিজনিত সমস্যার সৃষ্টি
করতে পারে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সাধারণত উভয় চোখকেই প্রভাবিত করে।
পাশাপাশি রেটিনায় তরল পদার্থ এবং রক্ত বের হয়ে জমা হতে থাকে।এই তরল রেটিনার
(ম্যাকুলা) কেন্দ্রীয় অংশে ফোলাভাব (ইডিমা) ঘটাতে পারে। এটি একটি গুরুতর
চোখের জটিলতা, যাকে ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা বলা হয়, যা দৃষ্টি সমস্যা বা
অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
পায়ের সমস্যাঃ ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার সাথে পায়ের সমস্যা গুলো
গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা করা না হলে অঙ্গচ্ছেদ হতে
পারে। স্নায়ুর ক্ষতি হলে এটি আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ের অনুভূতি কে প্রভাবিত
করে এবং রক্তে শর্করার বৃদ্ধি রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত
করতে পারে, যা ঘা এবং কাটা ছিড়া নিরাময়ের পদ্ধতিকে ধীর করে তোলে। এই কারণেই
আপনার পায়ের পাতা বা অনুভূতিতে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করলে আপনার চিকিৎসক কে
অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকঃ আপনার যখন ডায়াবেটিস থাকে, তখন রক্তে
উচ্চ শর্করার উপস্থিতি আপনার রক্তনালি গুলোর ক্ষতি করতে পারে। এটি কখনো কখনো
হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক এর কারণ হতে পারে।
কিডনির সমস্যাঃ ডায়াবেটিস দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার কিডনির ক্ষতি করতে
পারে, যা আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল এবং বর্জ্য পরিষ্কার করা কঠিন করে
তোলে। এটি রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা এবং উচ্চ রক্ত চাপের কারণে হয়ে থাকে।
এটি ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি বা কিডনি রোগ নামে পরিচিত।
স্নায়ুর ক্ষতিঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিছু লোকের রক্তে উচ্চ শর্করার
মাত্রার জটিলতার কারণে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি স্নায়ুর জন্য মস্তিষ্ক
এবং রোগীর শরীরের প্রতিটি অংশের মধ্যে বার্তা বহন করা কঠিন করে তুলতে পারে।
এর ফলে আমরা কীভাবে দেখি, শুনি, অনুভব করি এবং নড়া চড়া করি তা প্রভাবিত
হয়।
মাড়ির রোগ এবং মুখের অন্যান্য সমস্যাঃ আপনার রক্তে অত্যধিক চিনি
আপনার লালায় আরও চিনির কারণ হতে পারে। এটি ব্যাকটেরিয়া নিয়ে আসে, যা
অ্যাসিড তৈরি করে। ফলে এটি দাঁতের এনামেল কে আক্রমণ করে এবং আপনার মাড়ির
ক্ষতি করে। আপনার মাড়ির রক্তনালি গুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে
মাড়িতে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ক্যান্সারঃ আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আপনার নির্দিষ্ট কিছু
ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসা আপনার ডায়াবেটিসকে
প্রভাবিত করতে পারে এবং আপনার রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তুলতে
পারে।
মহিলাদের যৌন সমস্যাঃ ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে রক্তনালি এবং স্নায়ুর
ক্ষতি আপনার যৌন অঙ্গে প্রবাহিত রক্তের পরিমাণকে সীমাবদ্ধ করতে পারে যাতে
আপনি কিছুটা সংবেদন হারাতে পারেন। আপনার যদি রক্তে উচ্চ শর্করা থাকে, তবে
আপনার থ্রাশ বা মূত্রনালির সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
পুরুষদের মধ্যে যৌন সমস্যাঃ ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে আপনার যৌন অঙ্গে
প্রবাহিত রক্তের পরিমাণ সীমিত হতে পারে, যার কারণে আপনার উত্তেজিত হতে
অসুবিধা হতে পারে। এটি ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হতে পারে, কখনো কখনো এ অবস্থাকে
পুরুষত্বহীনতাও বলা হয়।
কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে
কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। ডায়াবেটিসের নাম শুনলে ভীতি সৃষ্টি হয় সবার। ডায়াবেটিস রোগিদের রক্তে
সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা জরুরি। অনেক সময় হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে
ডায়াবেটিস। সে সময় ডায়াবেটিস রোগিরা চিন্তায় পড়ে যায় কি খাবে আর কি খাবে না।
ফলে জানতে চেয়ে থাকেন কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমানো সম্ভব। তো চলুন নিচের
আলোচনা থেকে জেনে নিন কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে।
শাক-সবজিঃ শাকসবজি থেকে প্রচুর পরিমানে ফাইবার পাওয়া যায়। ফাইবার জাতীয়
খাবারগুলো সুগারকে নিয়ন্ত্রনে আনতে সহায়তা করে থাকে। এছারাও ইনসুলিন ভালোভাবে
কাজ করে থাকে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারগুলো। তাই ডায়াবেটিস কমাতে শাকসবজি খাবেন।
মাছঃ ডায়াবেটিস রোগিদের খাবার তালিকায় ওমেগো থ্রি-ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ
মাছ গুলো রাখতে হবে। এ জাতীয় মাছগুলো ইনসুলিনের সংবেদনশীলতার উন্নতি ঘটাতে
সহায়তা করে থাকে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে।
খেজুরঃ পরিমিত খেজুর ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রনে আনতে সহায়তা করে থাকে।
খেজুরের মিষ্টি স্বাদ অনেককে বিভ্রান্ত করে যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের
জন্য এটি উপযুক্ত কি না। অথচ বাস্তবে, খেজুরে থাকা উচ্চ ফাইবার ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফাইবার শরীরে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে, যা রক্তে সুগারের
মাত্রাকে স্থির রাখতে সাহায্য করে।
সাইট্রাস ফলঃ সাইট্রাস ফল থেকে ভিটামিন সি’, ফোলেট এবং পটাশিয়াম পাওয়া
যায় যা ডায়াবেটিস রোগির স্বাস্থের জন্য উপকারী। তাই ডায়াবেটিস রোগির খাবার
তালিকায় লেবু, কমলা, মালটা, জাম্বুরা প্রভৃতি ফলগুলো রাখতে হবে।
জাম ও অন্য বেরিঃ জাম ও বেরিজাতীয় ফল থেকে প্রচুর পরিমাণে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যার ফলে এ জাতীয় ফলগুলো ডায়াবেটিস রোগিদের
ইনসুলিনের কার্যকলাপ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগির খাবার তালিকায়
যোগ করুন এ জাতীয় ফলগুলো।
ফাইবার ও আঁশ জাতীয় খাবারঃ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারগুলো ডায়াবেটিস রোগিদের
জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ খাবারগুলো সহজেই ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারে।
এ জাতীয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাল, ওটস, বাদাম, খোসাসহ ফল, লাল চাল, ভুট্টার
খই, গাজর, বিটরুট প্রভৃতি।
খোসাসহ ফলঃ বিভিন্ন ফল যেমন আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা প্রভৃতি ফলগুলো
ডায়াবেটিস কমাতে খোসাসহ খাবেন। খোসাসহ এসব ফল থেকে আঁশ বা ফাইবার পাওয়া যায়।
যার ফলে এগুলো নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস কমে।
লাল চালঃ ডায়াবেটিস কমাতে সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল খাবার তালিকায়
রাখুন। লাল চাল থেকে প্রচুর পরিমানে আঁশ পাওয়া যায়, যা ডায়াবেটিসকে কমিয়ে আনতে
সহায়তা করে থাকে।
করলাঃ সবুজ রঙের এ সবজি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস পায়। তাই
ডায়াবেটিস কমাতে করলা খেতে পারেন।
ওটসঃ ওটসজাতীয় খাবারগুলো ডায়াবেটিস কমাতে দিনে একবার খেতে পারেন। ওটসের
মধ্যে থাকা ফাইবার ডায়াবেটিসকে কমিয়ে আনে।
ডায়বেটিস নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। গবেষনায় দেখা গেছে খাদ্যভাস ঠিক থাকলে এ
রোগ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব। তাই ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কমাতে উপরের বলা খাবারগুলো
নিয়মিত খাবেন। যে খাবারগুলোতে ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ বেশি রয়েছে সেগুলো বেশি
বেশি খাবেন।
ডায়াবেটিস হলে কি কি খাওয়া যাবে না
আপনার স্বাস্থকর খাদ্যভাস ডায়াবেটিসকে সহজেই নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে। যেসব
খাবারে ক্যালরির মাত্রা অতিরিক্ত সেসব খাবার ডায়াবেটিস রোগিকে কমিয়ে দিতে
হবে, খেতে হবে কম ক্যালরিযুক্ত খাবারগুলো। এছরাও ডায়াবেটিসের সমস্যাকে বাড়িয়ে
তোলে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো ডায়াবেটিস রোগিদের এড়িয়ে চলতে হবে। তো
চলুন জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস হলে কি কি খাওয়া যাবে না।
- ঘন চিনিযুক্ত খাবার
- কোমল পানীয়
- স্যাচুরেটেড সমৃদ্ধ খাবার
- কাঁচা লবন
- অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও মসলযুক্ত খাবার
- অ্যালকোহল, তামাক, জর্দা প্রভৃতি
ডায়াবেটিস রোগিদের প্রধান চিকিৎসা হলো সঠিক খাদ্যভাস। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে
রাখতে সঠিক সময়ে সঠিক খাদ্য পরিমিত গ্রহন করুন। প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগে
আক্রান্ত ব্যক্তির খাদ্য তালিকা পৃথক হবে, কারন প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগির বয়স
ও ডায়ািেটস এক ধরনের নয়। তাই ডায়াবেটিস রোগির খাবার চার্ট চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়ে তৈরি করায় সবথেকে ভালো।
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শেষকথা
আজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিলো ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে।
রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের স্তরকে স্বাভাবিক
পরিসীমার মধ্যে রাখা খুবই জরুরি। নগর জীবনে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম এবং
হাঁটার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। সঠিক ডায়েট, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং
সচেতনতা দ্বারা ডায়াবেটিসের এই সমস্ত জটিলতা গুলি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
কিন্তু যাদের পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের
জেনেটিক্যালি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে তারা যদি
আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম করতে শুরু
করেন, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের
রক্ষা করতে পারবেন। ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আজকের এই
ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url