হঠাৎ প্রেসার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ
হঠাৎ প্রেসার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ জানতে চেয়েছেন অনেকে। প্রেসার বলতে আমরা
রক্তচাপকে বুঝি। কোনো ব্যাক্তির প্রেসার বা রক্তচাপ যদি স্বাভাবিকের থেকে
উর্ধ্বে থাকে তাহলে সেটাকে বলা হয় হাইপ্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ। আবার কমে
গেলে তা লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ। চিকিৎসকের মতে, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক
ব্যক্তির রক্তচাপ যদি ১২০/৮০ এর মধ্যে থাকে তাহলে সেটিকে স্বাভাবিক রক্তচাপ
ধরা হবে। তবে ১৩০ পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ
- কিন্তু ১৩০ এর উপর হয় তাহলে সেটিকে হাইপ্রেসার হিসেবে ধরা হয়। আর নিচের রক্তচাপ ৯০ এর নিচে থাকতে হবে। হাইপ্রেসারের সমস্যাটি একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সবসময় দেখা যায় না। এটি উঠা নামা হতে থাকে। তবে অনেকেই বুঝে উঠতে পাড়ে না প্রেসার কখন বেড়ে যায়। ফলে এ থেকে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। তবে শারিরিক কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখে ধারনা করা হয় প্রেসার বেড়ে গেছে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক হঠাৎ প্রেসার বেড়ে যাওয়ার ফলে কি কি লক্ষণ দেখায়।
- প্রেসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো মাথা ব্যাথা বা মাথা ঘোরা। সাধারণ কোনো কারনেও মাথা ব্যাথা হতে পারে। তবে মাথা ব্যাথা যদি ক্রমাগত হতেই থাকে তাহলে একবার প্রেসার পরীক্ষা করে নেবেন।
- অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠা হতে পারে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ। সিড়ি বেয়ে উঠছেন! অল্প হাঁটার পর হাপিয়ে গেলেন বা শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে? তাহলে একবার পরীক্ষা করে নিন আপনার প্রেসার ঠিক আছে কি না।
- ক্লান্তি বা দুর্বলতা হতে পারে প্রেসারের লক্ষণ। ক্লান্তি বা দুর্বলতা এ উপসর্গের বিভিন্ন কারন থাকতে পারে। তবে প্রেসারের সমস্যার কারনেও হয়ে থাকে।
- ক্স বুকে ব্যাথা বা বুক ধরফর করা প্রেসার বেড়ে যাওয়ার লক্ষন। অনেকেই বুকে ব্যাথা হলে গুরুত্বর ভাবে দেখেন না, তবে নিয়মিত বুকে হালকা ব্যাথা হলেও এটি প্রেসার বেড়ে যাওয়ার কারনে হয়ে থাকে।
- আপনার ঘাড় ব্যাথা হতে পারে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ। আমরা অনেকেই ভেবে থাকি ঘাড়ে ব্যাথা সাধারন উপসর্গ, হয়তো অনেক্ষন বসে কাজ করার ফলে এমন হচ্ছে। তবে এ উপসর্গ এড়িয়ে চলবেন না একবার প্রেসার পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
- বমি বমি ভাব প্রেসার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ। এটিকে অনেকেই গ্র্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ভুল করে থাকেন। ক্রমাগত যদি আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতেই থাকে তাহলে একবার প্রেসার পরীক্ষা করে নিবেন।
প্রেসার বেড়ে যাওয়ার এগুলো সম্ভাব্য লক্ষণ। এসব লক্ষণ আপনার শরীরে দেখা
দিয়েছে তার মানে নিশ্চিত না যে আপনার প্রেসার বেড়ে গেছে। তবে শরীরের কোনো
উপসর্গ এড়িয়ে চলা উচিত নয়। বিশেষ করে তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ক্রমাগত
বাড়তে থাকে। তাই শরীরে এসব লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই প্রেসার পরীক্ষা করে
নিবেন।
দ্রুত হাইপ্রেসার কমানোর উপায়
দ্রুত হাইপ্রেসার কমানোর উপায় এবং সতর্কতা অনুসরণ করতে পারেন। বর্তমানে
অধিক হারে বাড়ছে প্রেসারের রোগী। রক্ত প্রবাহের চাপ হৃদপিন্ডের ধমনীতে অনেক
বেশি হলে সেটিকে হাইপ্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে
কমপক্ষে প্রতি পাঁচজনে একজন হাইপ্রেসারের সমস্যায় ভুগছে। তবে আক্রান্ত
ব্যাক্তির মধ্যে অধিকাংশ রোগির জানা নেয় যে তারা এ সমস্যায় আক্রান্ত। এ রোগ
থেকে প্রত্যেক মানুষের সতর্ক অবলম্বন করা জরুরি।
কারণ এ রোগ থেকে শারিরিক বিভিন্ন সমস্যা যেমন-হার্ট অ্যাটাক, কিডনীর
সমস্যা, হৃদরোগটিব ও স্ট্রোকের মতো মারাত্নক সমস্যা হয়ে থাকে। প্রেসার
যেকোনো সময় হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় প্রেসার বেড়ে গেলে তা দ্রুত
কমানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, রক্তচাপ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য
সমস্যা হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। তো চলুন জেনে
নিন দ্রুত হাইপ্রেসার কমানোর উপায় সম্পর্কে।
- হাইপ্রেসারের সমস্যা যদি আপনার আগে থেকেই হয়ে থাকে তাহলে বাড়িতে সবসময় আপনাকে প্রেসারের ঔষধ রাখতে হবে। অতপর হাইপ্রেসার বেড়ে গেলে তা দ্রুত কমাতে আপনার বাড়িতে থাক ঔষধ প্রথমে সেবন করবেন।
- হাইপ্রেসার বেড়ে গেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রামের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে যদি আপনি ধারনা করেন যে আপনার প্রেসার বেড়ে গেছে তাহলে আপনি শারিরিক চলাচল কমিয়ে দিন। কারণ শারিরিক চলাচলের ফলে হাইপ্রেসার আরও বেড়ে যায় এবং তা থেকে মারাতক কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
- হাইপ্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেলে তাৎক্ষনাৎ তা কমাতে তেঁতুলের রস খেতে পারেন। তেঁতুলের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে পারে।
- দ্রুত হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রনে আনতে খেতে পারেন লেবুর রস। সেক্ষেত্রে হাফ গ্লাস পানিতে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ২ ঘন্টা পর পর খাবেন।
- হাইপ্রেসার বেড়ে গেলে সাময়িক উপশমের জন্য মাথায় পানি বা বরফ দিবেন।
অনেকের এসব করেও রক্তচাপ কন্ট্রোলে আসে না। সেক্ষেত্রে বেশি দেরি করবেন না
যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। সবার ক্ষেত্রে প্রেসারের ঔষধ একই
হয় না। তাই সুস্থ ব্যক্তির প্রেসার বেড়ে গেলে অর্থ্যাৎ যাদের এর আগে
প্রেসার বাড়ে নি তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষধ খাবেন। তবে উপরের বলা
নিয়মগুলো ফলো করবেন এতে রক্তচাপ কারও কারও ক্ষেত্রে কমে যাবে আর যদি কারও
ক্ষেত্রে না কমে তাহলে সমস্যা বেশি হবার ভয় থাকবে না।
হাই প্রেসার কমানোর খাবার
হাই প্রেসার কমানোর কিছু বিশেষ খাবার খাওয়া অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
হাইপ্রেসারকে বলা হয়ে থাকে নীরব ঘাতক। বাংলাদেশের প্রায় অনেক মানুষ হাই
প্রেসার সমস্যায় ভুগছেন। হাই প্রেসার যাদের রয়েছে তাদেরকে সতর্ক হয়ে
চলাফেরা করা জরুরি। সঠিক খাবার খাদ্য তালিকায় না থাকার কারনে অনেক সময়
প্রেসার বেড়ে যায়। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত
পানি পান এবং শারীরিক পরিশ্রমও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো হাইপ্রেসারের জন্য ক্ষতিকর আবার কিছু খাবার
রয়েছে যেগুলো হাইপ্রেসার সমস্যায় উপকারী। তাই হাইপ্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে
একজন ব্যক্তিকে খাদ্য তালিকায় সঠিক খাবারগুলো রাখতে হবে। এ খাবারগুলো
অতিরিক্ত হাইপ্রেসারকে কমাতে সাহায্য করে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক
হাইপ্রেসার সমস্যায় যা খাবেন বা হাইপ্রেসার কমানোর খাবারগুলো কি কি-
- হাইপ্রেসার রোগিদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি রাখতে হবে। যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, শসা, মটরশুঁটি, লাউ, গাজর, কলমি শাক, মুলাশাক, পাটশাক, মুলা, ঢ্যাড়স, কুমড়ো, টমেটো ইত্যাদি।
- পটাশিয়ামযুক্ত খাবারগুলো হাইপ্রেসার রোগিদের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন। তাই প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে কলা, টমেটো, ডাবের পানি প্রভৃতি পটাশিয়ামযুক্ত খাবারগুলো খাদ্য তালিকায় রাখবেন
- হাইপ্রেসার রোগির খাদ্য তালিকায় রাখবেন চিয়া, কুমড়ো ও তিসির বীজ। এ শস্যবীজগুলোর মধ্যে পটাশিয়াম, মাগনেশিয়াম ও ফাইবার থাকে যা হাইপ্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে।
- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তাজা ফল রাখবেন। তাজা ফলের মধ্যে খাবেন জাম্বুরা, লেবু, আমলকী, আপেল, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, কলা, ডালিম, নাশপাতি, পেঁপে ইত্যাদি।
সুতরাং যারা হাইপ্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ সমস্যায় ভুগছেন তারা চিকিৎসকের
দেওয়া ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনুন। শুধু ঔষধ খেলেই হবে
না কারণ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস সমস্যাকে জটিল করে তোলে। তাই যারা গভীরভাবে
হাই প্রেসার সমস্যায় ভুগছেন তারা অবশ্যই উপরের বলা খাবারগুলো খাবেন আর
ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে চলবেন।
হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত না
হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত না এ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। স্বাস্থকর
খাদ্যাভ্যাস একজন হাইপ্রেসার রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। কারণ ভুল
খাবারের ফলে হাইপ্রেসার সমস্যা থেকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনী রোগের মতো
মারাত্নক রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যেসব খাবার হাইপ্রেসারের সমস্যাকে
বাড়িয়ে তোলে সেসব খাবার খাদ্য তালিকা থেকে পরিহার করতে হবে। তো চলুন এবার
জেনে নেওয়া যাক হাইপ্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত না।
- হাইপ্রেসারের সমস্যায় প্রথমে যে খাবার খাদ্য তালিকা থেকে পরিহার করতে হবে তা হলো লবণ। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমার কারনে হাইপ্রেসার হয়ে থাকে। আর লবণ এ অনেক সোডিয়াম থাকে। তাই হাই প্রেসার রোগির খাবার অল্প পরিমান লবন দিয়ে রান্না করতে হবে।
- হাই প্রেসার সমস্যায় কফি এড়িয়ে চলুন। কারন কফি খাওয়ার ফলে রক্তনালী সরু হয়ে যায়, যার কারনে হঠাৎ করে হাইপ্রেসার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যারা হাইপ্রেসার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য কফি এড়িয়ে চলা ভালো। তবে যারা ছাড়তে পারছেন না তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাঝে মধ্যে অল্প করে খেতে পারেন।
- অ্যালকোহল ও কোমল পানীয় এ জাতীয় খাবারগুলো খুব দ্রুত হাই প্রেসারকে বাড়িয়ে দেয়। তাই এসব খাবার পরিহার করতে হবে এবং এর পরীবর্তে তাজা ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করুন।
- হাই প্রেসার রোগিদের চর্বি ও ফ্যাট জাতীয় খাবারগুলো খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। উদাহরণস্বরুপ-গরু ও খাসির মাংস, পেস্ট্রি, মাখন, কেক ইত্যাদি।
- এ খাবারগুলোর পাশাপাশি যে খাবারগুলোতে অতিরিক্ত কোলেস্টরল রয়েছে সে খাবারগুলো পরিহার করতে হবে। এছারাও চিনিযুক্ত খাবার, আচার, মুরগির চামড়া, ডিমের কুসুম, ফাস্ট ফুড, বেকারি খাবারগুলো হাই প্রেসার সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখতে এড়িয়ে চলতে হবে।
হাই ব্লাড প্রেসার কমানোর সহজ উপায়
হাই ব্লাড প্রেসার কমানোর সহজ উপায় রয়েছে। হাইপারটেনশন বা হাই প্রেসার,
যাকে উচ্চ রক্তচাপও বলা হয়। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি তখনই
ঘটে যখন রক্তের অত্যধিক চাপ পড়ে ধমনীতে। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
হৃদযন্ত্র দৈনিক যতো বেশি রক্ত সরবরাহ করে, ধমনী সরু হয়ে গেলে তাতে চাপ
পড়ে। যাকে বলা হয় উচ্চ রক্তচাপ। প্রাথমিকভাবে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ
টের পাওয়া যায় না।
এ কারণে প্রায়ই তা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায় না। ফলে দীর্ঘ
সময় ধরে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা না করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের
ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে এটি সম্পর্কে
অবগত থাকেন না। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি
কয়েকটি উপায় অবলম্বন করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন খুব সহজেই।
এজন্য যা যা মেনে চলবেন, তা হলো-
শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোঃ অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
অনেক বাড়িয়ে দেয়। এজন্য খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের
মাধ্যমে অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একবার কাংখিত ওজনে পৌঁছালে
সীমিত আহার এবং ব্যায়াম অব্যাহত রাখতে হবে। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো
বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতাঃ কম কোলেস্টেরল ও চর্বি যুক্ত
খাবার যেমন, খাসি বা গরুর গোস্ত, কলিজা, মগজ, গিলা, ডিম কম খেতে হবে
পারলে বাদ দিয়ে দিতে হবে। সুষম খাবার নিশ্চিত করতে কম তেল দিয়ে রান্না
করা খাবার, ননী মুক্ত দুধ, উদ্ভিজ্জ তেল যেমন সয়াবিন, ভুট্টার অথবা
সূর্যমুখীর তেল খাওয়া যেতে পারে। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রনের
পাশাপাশি রক্তচাপ ঠিক রাখতেও রসু্নের ভুমিকা রয়েছে। তাই নিয়মিত রসুন
খাওয়া যেতে পারে। অধিক আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উত্তম । আটার রুটি ও ভাত
পরিমাণ মতো খেতে হবে।
হাঁটা চলা করুনঃ এক্সারসাইজ বা শরীরচর্চা হার্টের মাংসপেশিকে
শক্তিশালী করে, যার ফলে এটি আরো কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে,
হাঁটলে ধমনী শিথিল হতে পারে। এর ফলে রক্ত পাম্পিংয়ে হার্টকে জোরদবস্তি
করতে হয় না বলে রক্তচাপ কমে। প্রতিসপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট এমন
শরীরচর্চা করতে পরামর্শ দিয়েছে যা হার্টের পাম্পিং কার্যক্রমে ইতিবাচক
প্রভাব ফেলতে পারে। চিন্তা করবেন না, এর জন্য শরীর থেকে ঘাম ঝরাতেই হবে
এমনকোনো কথা নেই। আপনি হাঁটার মতো সহজ শরীরচর্চাতেও রক্তচাপ কমাতে
পারবেন। সকালে ৩০ মিনিট হাঁটলে এটা দিনের বাকি সময়ে রক্তচাপ কমাতে ওষুধের
মতোই কাজ করতে পারে।
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খানঃ প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে এমন খাবার
খেলেও রক্তচাপ কমতে পারে। এর কারণ হলো, পটাশিয়াম লবণের প্রভাব কমায়। আপনি
যত বেশি পটাশিয়াম খাবেন, প্রস্রাবের মাধ্যমে তত বেশি লবণ বেরিয়ে যাবে।
পটাশিয়াম রক্তনালীর প্রাচীরকে টানটান প্রসারণ থেকেও মুক্ত করতে পারে।
এটাও রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। তাই হাইপারটেনশনে ভুগলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ
খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- বিনস, পালংশাক, কিসমিস ও কলা।
ব্যালেন্সড ডায়েট অনুসরণ করুনঃ প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তচাপ কমাতে
চাইলে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ ব্যালেন্সড
ডায়েটের ওপর থাকতে হবে। সবসময় কেবল একজাতীয় খাবার খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
যেমন অসম্ভব হতে পারে, তেমনি শরীর পুষ্টিহীনতায়ও ভুগতে পারে। তাই
খাদ্যতালিকাকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার চেষ্টা করতে হবে। আপনার খাদ্যতালিকায়
ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার, চামড়াবিহীন
মুরগির মাংস, মসুর ডালের মতো লেগিউম ও নন-ট্রপিক্যাল ভেজিটেবল অয়েল
অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এই ডায়েট অনুসরণে দু’সপ্তাহের মধ্যে
উপকার পেতে শুরু করবেন, এমনটাই অভিমত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ যেকোন শারীরিক ও মানসিক
চাপ পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য নিয়মিত বিশ্রাম, হাসিখুশি
থাকা,সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।
হবে।মানসিক শান্তি পাওয়া এবং মন প্রফুল্ল রাখতে নিজের শখের কাজ করা, নিজ
নিজ ধর্মের চর্চা করা যেতে পারে।
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুনঃ কোন সমস্যা না থাকলেও নিয়ম করে মাঝে
মধ্যে যেমন বছরে এক-দুই বার অবশ্যই রক্তচাপ মাপতে হবে। এর ফলে আপনি
উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত কিনা তা প্রথম থেকেই বোঝা যাবে। নিয়মিত মাথা
ব্যাথা, চোখ ব্যাথা, শারীরিক দূর্বলতা ইত্যাদি সমস্যায় অবহেলা করা উচিত
নয়। অনেক সময় নিম্ন রক্তচাপের কারনেও শরীরে দুর্বল ভাব হতে পারে। এমন হলে
যথাশীঘ্র ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী
জীবন যাপন করা উচিত। তাই উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ ধরা পড়া মাত্রই তা
নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতেও রক্ষা পাওয়া যায়।
ধূমপান ছেড়ে দিনঃ আমরা সবাই জানি যে ধূমপান হলো হার্ট অ্যাটাক ও
স্ট্রোকের ঝুঁকিময় বিষয়। কেবল তা নয়, রক্তচাপের সঙ্গেও ধূমপানের সম্পর্ক
রয়েছে। যখন কেউ ধূমপান করেন, সিগারেটের নিকোটিন স্বল্পমেয়াদে রক্তচাপ
বাড়িয়ে দেয়। সময়ের আবর্তনে ধমনী অনমনীয় হয়ে দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ বাড়াতে
পারে। ধূমপানের সময় ধূমপায়ীর কাছে থাকলেও ধমনীর ভেতর চর্বিময় পদার্থের
প্রতিবন্ধকতা গঠনের ঝুঁকি বাড়ে। এ প্রক্রিয়ায়ও রক্তচাপ বাড়তে পারে।
বসা থেকে বিরতি নিনঃ দীর্ঘসময় বসে থাকার সঙ্গে অনেক স্বাস্থ্য
সমস্যার যোগসূত্র পাওয়া গেছে, যেমন- স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ রক্ত
শর্করা, কোমরে মেদ জমা ও উচ্চ কোলেস্টেরল। যাদের হাইপারটেনশন রয়েছে তারা
দীর্ঘসময় বসে না থেকে হালকা শরীরচর্চা করলে রক্তচাপ কমে যাবে। যাদেরকে
দীর্ঘসময় বসে কাজ করতে হয় তারা যেন প্রতি আধ ঘণ্টায় ওঠে দাঁড়ায়, হাঁটে
অথবা হালকা শরীরচর্চা করে।
চা পান করুনঃ চা পান করলে রক্তচাপ কমে। রক্তচাপ সম্পর্কিত
উপকারিতা পেতে কোন চা পান করা উচিত তা ভাবছেন? গ্রিন টি অথবা ব্ল্যাক টি
যেটাই পান করেন না কেন, রক্তচাপ কমবে।
কফি সীমিত করুনঃ কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তিনি যত ইচ্ছে কফি পান
করতে পারবেন না, এক্ষেত্রে তাকে পরিমিতিবোধের পরিচয় দিতে হবে। উচ্চ
রক্তচাপে ভুগলে কফি পানের অভ্যাস কমানো উচিত। কফি পানের পর তিন ঘণ্টা
পর্যন্ত রক্তচাপ বাড়তে পারে।
মেডিটেশন চর্চা করুনঃ নিয়মিত মেডিটেশন চর্চাতে রক্তচাপ ও মানসিক
চাপ কমতে পারে। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের জন্য একটি বিশেষ করণীয়
হলো, জীবন থেকে মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলা। মানসিক চাপ সম্পূর্ণরূপে দূর করা
সম্ভব নাও হতে পারে, কিন্তু যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে।’
প্রতিদিন শান্ত পরিবেশে কিছুসময় মেডিটেশনে রত থেকে রক্তচাপ ও মানসিক চাপ
দুটোই কমাতে পারেন।
খাদ্যতালিকায় তিসি বীজ রাখুনঃ তিসি বীজ খেলে রক্তচাপ কমতে পারে।
আপনার সকালের নাশতা ওটমিল বা ইয়োগার্টের ওপর তিসি বীজ ছিটিয়ে খেতে পারেন।
দিনের অন্যসময়ে স্যূপ বা সালাদের সঙ্গে তিসি বীজ খেতে পারেন।
লবণের ব্যবহার কমানঃ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খোঁজখবর যারা রাখেন
তাদের কাছে এটা সম্ভবত অজানা নয় যে, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ লবণের মধ্যে
ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। খাবারে লবণের পরিমাণ কমালে কেবল রক্তচাপ কমে না,
হার্ট ও রক্তনালী সংশ্লিষ্ট রোগের ঝুঁকিও কমে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ
কার্যক্রমের প্রতিদিন মাত্র ৫০০ মিলিগ্রাম লবণ দরকার হয়।
চা খেলে কি প্রেসার বাড়ে
চা খেলে কি প্রেসার বাড়ে এ সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে। চা
প্রেমিদের দিন যেন শুরু হয় না চা ছাড়া। তবে বিভিন্ন অসুস্থতার কারনে
পচ্ছন্দের খাবার বা পানীয়গুলো আমাদের পরিহার করতে হয়। হাই ব্লাড
প্রেসার কোনো ছোট সমস্যা নয়। এ রোগকে নিয়ন্ত্রনে না রাখলে এ থেকে বড়
ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে আমাদের দৈনন্দিন
জীবনযাপনকে গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।
সেক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি খাওয়া দাওয়ার বিষয়েও বিশেষভাবে সতর্ক
অবলম্বব করতে হবে।তো চা প্রেমীরা নিশ্চয় ভাবছেন? চা খেলে প্রেসার বাড়ার
আশঙ্কা আছে কি না। তো চলুন নিচের আলোচনা থেকে বিস্তারিতভাবে আমরা জেনে
নিব চা খেলে প্রেসার বাড়ে কি না। তারপর ভেবে দেখবো চা আমরা হাই প্রেসার
রোগিদের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারবো কি পারবো না।
আরও পড়ুনঃ জিকা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ ও প্রতিরোধ
প্রথমেই বলি, চা খেলে প্রেসার বাড়ে না। তবে তা নির্ভর করবে আপনার চা কি
কি উপকরণ দিয়ে বানানো এবং দৈনিক আপনি কতটুকু চা খাবেন তার উপর। ভেষজ চা
আপনি যদি হাই প্রেসার রোগিদের জন্য দিয়ে থাকেন তাহলে সেক্ষেত্রে
প্রেসার বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেয়। বরং ভেষজ চা হাই প্রেসার বা উচ্চ
রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে থাকে। এজন্য তুলসি চা, মৌরি চা, আদা চা,
দারুচিনি চা, লেবু ও মধু চা প্রেসারের রোগিদের জন্য দিবেন। চিকিৎসকের
মতে এ ধরনে ভেষজ চা পান করার ফলে প্রেসার বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেয়।
এছারাও খেতে পারেন গ্রিন টি। গ্রিন টি হাই প্রেসার রোগিদের জন্য
উপকারী। তবে প্রেসারের রোগিদের চিনি দিয়ে চা খাওয়া স্বাস্থের উপর
ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। চিনি দিয়ে চা খেলে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
থাকে। তবে মনে রাখবেন সকল ব্যক্তির প্রেসারের ধরন একই রকম নয়। কারও
ক্ষেত্রে দৈনিক অল্প পরিমাণে চিনি চা অথবা দুধ চা খাওয়া যায়। তাই সঠিক
তথ্য পেতে স্বাস্থ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে কিন্তু সহজেই
প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। আমাদের সবার পরিচিত একটি শারিরিক
সমস্যার নাম হাই প্রেসার। যারা হাই প্রেসার বা উচ্চ রনক্তচাপ সমস্যায়
ভুগছে তাদের হাই প্রেসার যদি হঠাৎ করে বেড়ে যায় তাহলে শরীরে বিপজ্জনক
সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের জেনে রাখা উচিত
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয় উপায় সম্পর্কে।
দ্রুত হাইপ্রেসার বেড়ে গেলে চিন্তিত হবেন না। নিজেকে কন্ট্রোলে রেখে
কিছুক্ষন বিশ্রাম নিন। বিশ্রাম নেওয়ার ফলে অনেকের প্রেসার কমে যায়।
এতেও যদি প্রেসার না কমে তাহলে রক্তের চাপ কমাতে তেঁতুলের রস অথবা
লেবুর পানি খেতে পারেন। অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি শরীরে না
থাকলে হাই প্রেসার হয়ে থাকে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান
করুন। এরপর হাই প্রেসার সবসময় নিয়ন্ত্রনে রাখতে ডায়েটে পরিবর্তন
আনুন।
তবে মনে রাখবেন যদি আপনার প্রেসার বাড়ার সাথে সাথে অন্য কোনো লক্ষণ
দেখা দেয় তাহলে ঘরোয়া উপায়গুলো দিয়ে প্রেসার কমানোর চেষ্টা করবেন না,
যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। লক্ষনগুলো হলো-
- মুখ বেঁকে যাওয়া
- মুখের কথা আটকে যাওয়া
- পেটে ব্যাথা
- হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া না নাড়াতে না পারা।
- প্রচুর পরিমাণে অস্থির লাগা
- শ্বাসকষ্ট হওয়া
- প্রসাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
হঠাৎ প্রেসার হাই হলে করণীয়
হঠাৎ প্রেসার হাই হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কয়েকটি
পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং
নিয়মিত জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে
তা নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ
রক্তচাপের (হাইপারটেনশন) কারণে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বুক
ধড়ফড় করা বা মাথা ব্যথা হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে
বিস্তারিত করণীয় উল্লেখ করা হলো।
করণীয় পদক্ষেপঃ
- উত্তেজিত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে। একটি আরামদায়ক স্থানে বসুন বা শুয়ে পড়ুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এটি স্ট্রেস কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ বা সোডিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বেশি লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণের কারণে রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। খাবারে লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
- ডিহাইড্রেশন রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই ধীরে ধীরে এক-দুই গ্লাস পানি পান করুন। এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন। এটি শরীরকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।
- প্রাকৃতিক উপাদান যেমন, রসুনের একটি কোয়া চিবিয়ে খেলে তা রক্তচাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তুলসী পাতা বা লেবুর রস পান করলেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। তুলসী ও নিম পাতা চিবিয়ে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।
- পা উঁচু করে বসুন বা শুয়ে থাকুন এটি রক্ত চলাচলকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে। যদি রক্তচাপ খুব বেশি হয় বা আগের ওষুধে কাজ না করে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- যদি চিকিৎসকের পরামর্শমতো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন, তবে তা যথাযথভাবে গ্রহণ করুন। অতিরিক্ত ওষুধ সেবন এড়িয়ে চলুন।
কোন বয়সে প্রেসার কত থাকা উচিত
কোন বয়সে প্রেসার কত থাকা উচিত তা বয়স, শারীরিক অবস্থা, এবং জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে। তবে, সাধারণভাবে স্বাভাবিক রক্তচাপের পরিমাপ হলো 120/80 mmHg। আমাদের শরীর বয়সের সাথে পরিবর্তন হয় ফলে সবার রক্তচাপের ধরন একই হয় না। আবার লিঙ্গ ভেদে রক্তচাপ আলাদা হয়ে থাকে। আমাদের অনেকের জানা নেয় কোন বয়সে স্বাভাবিক প্রেসার বা রক্তচাপ কত থাকা উচিত। চলুন জেনে নিই কোন বয়সে প্রেসার কত থাকা উচিত।- ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী পুরুষদের স্বাভাবিক প্রেসার 119/70 mmHg এবং এ বয়সী নারীদের প্রেসার 110/68 mmHg.
- শিশু এবং কিশোরদের রক্তচাপ তাদের বয়স, লিঙ্গ, এবং উচ্চতার উপর নির্ভর করে। ১-৫ বছর ৮০/৫৫ থেকে ১১০/৭৫ mmHg.৬-১৩ বছর ৯০/৬০ থেকে ১২০/৮০ mmHg এবং ১৪-১৭ বছর বয়সীদের ১০০/৬৫ থেকে ১২০/৮০ mmHg থাকা স্বাভাবিক।
- ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী পুরুষদের স্বাভাবিক প্রেসার থাকে 122/74 mmHg এবং এ বয়সী নারীদের 124/77 mmHg প্রেসার থাকা স্বাভাবিক।
- ৬০ বছরের উর্ধ্বে পুরুষদের স্বাভাবিক প্রেসার 139/68 mmHg এবং এ বয়সী নারীদের স্বাভাবিক প্রেসার 133/69 mmHg থাকা উচিত।
- লো প্রেসার ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে হলে হাইপোটেনশন (নিম্ন রক্তচাপ) বিবেচনা করা হয়।
- হাই প্রেসার ১৪০/৯০ mmHg-এর বেশি হলে হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ) বলে ধরা হয়।
হাই প্রেসার ও লো প্রেসার এর লক্ষণ
মানবদেহে রক্তের মাধ্যমে সারা দেহের প্রতিটি কলা কোষে পুষ্টি-পদার্থ
এবং ফুসফুস থেকে অক্সিজেন পৌঁছে যায় আবার সারা দেহের কলা কোষে সঞ্চিত
দূষিত পদার্থগুলি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্তের মধ্য দিয়েই রেচন
অঙ্গ ও ফুসফুসে ফিরে আসে।তাই সারা দেহে আমৃত্যু রক্ত সঞ্চালিত হতে
থাকে।এই সঞ্চালন পর্বে ধমনী-প্রাচীরের ভিতরের গাত্রে রক্ত যে বল
প্রয়োগ করে সেটিই হল রক্তচাপ। নিচে হাই প্রেসার ও লো প্রেসার এর
লক্ষণ সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসারের লক্ষণঃ উচ্চ রক্তচাপ তখন হয়
যখন রক্ত ধমনীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করে। এটি যদি
দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে এটি হার্ট, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং
অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক অবস্থায়
লক্ষণ কম বা নাও থাকতে পারে। তবে যখন এটি গুরুতর অবস্থায় পৌঁছায়, তখন
নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়, যেমনঃ
- মাথাব্যথাঃ বিশেষত সকালে মাথার পেছনে চাপ অনুভব হতে পারে।
- দৃষ্টি সমস্যাঃ ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখার সমস্যা।
- নাক দিয়ে রক্ত পড়াঃ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নাক দিয়ে রক্ত পড়া একটি সাধারণ লক্ষণ।
- বুকে ব্যথাঃ হৃদযন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে।
- শ্বাসকষ্টঃ রক্ত সঞ্চালনে বাধার কারণে এটি হতে পারে।
- ক্লান্তি ও বিভ্রান্তিঃ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছালে হতে পারে।
- অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ।
- স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন।
- মানসিক চাপ।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল।
- বংশগত কারণ।
- কম লবণযুক্ত খাবার খাওয়া।
- নিয়মিত ব্যায়াম করা।
- ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা।
- মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম করা।
- চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করা।
- মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথাঃ দাঁড়ানোর সময় ঘোরার মতো অনুভূতি।
- ক্লান্তিঃ রক্তচাপ কম থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়াঃ রক্তপ্রবাহ খুব কম হলে হতে পারে।
- বমি বমি ভাবঃ এটি সাধারণত রক্তচাপ কমার একটি ফল।
- হালকা শ্বাসকষ্টঃ শরীরের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন না পাওয়ার কারণে।
- পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)।
- বড় ধরনের রক্তক্ষরণ।
- অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা গরম আবহাওয়া।
- হৃদপিণ্ডের সমস্যা।
- দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা।
- বেশি করে পানি পান করা।
- নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
- রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
- লবণসমৃদ্ধ খাবার খান (তবে চিকিৎসকের নির্দেশ মতো)।
- শারীরিক দুর্বলতা থাকলে ধীরে ধীরে ওঠা-বসা করুন।
উচ্চ রক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপ কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করা উচিত নয়। উভয় ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রার পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url