জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার


জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার এবং জন্ডিস হলে করনীয় কি এসব বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের আর্টিকেল। সুস্থ থাকতে এসব বিষয়গুলো আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। তাই আজকের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন জন্ডিস এর লক্ষন ও প্রতিকার এবং জন্ডিস হলে করনীয় কি।
জন্ডিস-এর-লক্ষণ-ও-প্রতিকার
জন্ডিস রোগ কে অনেকেই সাধারন মনে করে, তবে রোগটি একেবারে সাধারন নয়। কোনো কোনো সময় এ রোগ মারাত্মক ঝুঁকির কারন হতে পারে। তাই জন্ডিস রোগের লক্ষনগুলো সম্পর্কে আমাদের সবার জেনে রাখা উচিত। তো চলুন বিস্তারিতভাবে নিচের আর্টিকেলটি পড়ুন এবং জেনে নিন জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার এবং জন্ডিস হলে কি করতে হবে।

পেইজ সূচিপত্রঃ জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

জন্ডিস এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল, ক্লান্তি, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ক্ষুধামান্দ্য। জন্ডিস আমাদের কাছে পরিচিত একটি শব্দ। যকৃৎ বা পিত্তনালির সমস্যা হলে জন্ডিস হয়ে থাকে। জন্ডিসের সমস্যাকে আমরা তেমন গুরুত্বর চোখে দেখি না। তবে এ সমস্যা বেশি সময় ধরে থাকলে মারাত্বক ঝুঁকি আসতে পারে। তাই এ সমস্যাকে গুরত্বসহকারে দেখা উচিত। তো চলুন জন্ডিসের লক্ষণ গুলো জেনে নেওয়া যাক।

জন্ডিস এর সাধারণ লক্ষণগুল যেমনঃ

  • ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং মুখের ভেতরের অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
  • প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন হয়ে যায় যেয়ন- প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামী রঙের হয়ে যায়।
  • মলের রঙ পরিবর্তন হয়ে ফ্যাকাশে বা কাদামাটির মতো রঙের হতে পারে।
  • অরুচি ও খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
  • বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
  • হালকা জ্বর বা জ্বর জ্বর অনুভূতি থাকতে পারে।
  • পেট ব্যথা বিশেষ করে পেটের উপরের ডান পাশে ব্যথা হতে পারে।
  • ত্বকে চুলকানি হতে পারে।
জন্ডিসের প্রতিকারঃ

জন্ডিসের প্রতিকারে প্রথমে যেটা করবেন, সেটা হলো পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রাম। এ সময় অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে জন্ডিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রাম নেওয়ার ফলে জন্ডিস সেরে যেতে পারে। লক্ষণ গুরুত্বর হলে বসে থাকবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, চিকিৎসক যে ওষুধগুলো খেতে বলবে সেগুলো খাবেন। এছারা এ সময় বিভিন্ন ওষুধ যেমন-ঘুমের ওষুধ, ব্যাথানাশক ওষুধ, অ্যাসপিরিন এ জাতীয় ওষুধসহ বিভিন্ন ওষুধ খাওয়া যাবে না, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। বাইরের খাবার, তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার জন্ডিসে আক্রান্ত রোগিকে খাওয়া যাবেনা, সবসময় বিশুদ্ধ খাবার ও পানীয় পান করতে হবে।

জন্ডিসের কারণ

জন্ডিসের প্রধান কারণ হলো ভাইরাল হেপাটাইটিস, বিশেষ করে হেপাটাইটিস এ, বি, সি এবং ই ভাইরাস। জন্ডিস কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয় এটি লিভার বা রক্তের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। রক্তে বিলিরুবিন নামক হলুদ রঙের পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গেলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং মিউকাস ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়।বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 

বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। যদি কোন কারণে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। জন্ডিসের কারণগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় য়েমনঃ

১. প্রি-হেপাটিক (হেমোলাইটিক) জন্ডিসঃ এক্ষেত্রে লোহিত রক্তকণিকার দ্রুত ও অতিরিক্ত ভাঙন ঘটে, যার ফলে বিলিরুবিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। লিভার এই অতিরিক্ত বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম হয় না, ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর কারণ হতে পারে হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ বা কিছু জেনেটিক ব্যাধি। বিস্তারিত যেমনঃ

  • হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়াঃ এ ধরনের অ্যানিমিয়ায় লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ভেঙে যায়।
  • সিকেল সেল ডিজিজঃ জেনেটিক কারণে লোহিত রক্তকণিকার আকার পরিবর্তিত হয়ে দ্রুত ভেঙে যায়।
  • ম্যালেরিয়াঃ প্লাজমোডিয়াম পরজীবী লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে।
  • থ্যালাসেমিয়াঃ জেনেটিক কারণে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ত্রুটি ঘটে, ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায়।
২. হেপাটোসেলুলার (হেপাটিক) জন্ডিসঃ লিভারের ক্ষতি বা কর্মহীনতার কারণে লিভার বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যর্থ হয়। এর কারণ হতে পারে হেপাটাইটিস (ভাইরাল বা অ্যালকোহলিক), লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সার। বিস্তারিত যেমনঃ

  • হেপাটাইটিসঃ ভাইরাস (যেমন হেপাটাইটিস এ, বি, সি) বা অ্যালকোহলজনিত কারণে লিভারের প্রদাহ।
  • লিভার সিরোসিসঃ দীর্ঘমেয়াদী লিভার ক্ষতির ফলে লিভারের টিস্যুতে দাগ পড়ে, যা লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস করে।
  • লিভার ক্যান্সারঃ লিভারে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত করে।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি করতে পারে, যেমন প্যারাসিটামল ওভারডোজ।
৩. পোস্ট-হেপাটিক (অবস্ট্রাকটিভ) জন্ডিসঃ পিত্তনালীতে বাধা সৃষ্টি হলে লিভার থেকে পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, ফলে বিলিরুবিন জমা হয়। এর কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর, পিত্তনালীর প্রদাহ বা টিউমার। বিস্তারিত যেমনঃ

  • পিত্তথলির পাথরঃ পিত্তনালীতে পাথর জমে পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
  • পিত্তনালীর প্রদাহঃ পিত্তনালীর সংক্রমণ বা প্রদাহ পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
  • প্যানক্রিয়াটাইটিসঃ অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ পিত্তনালীকে চেপে ধরে পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
  • টিউমারঃ পিত্তনালী বা অগ্ন্যাশয়ে টিউমার পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

জন্ডিসের অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কিছু বিরল জেনেটিক রোগ (যেমন উইলসন ডিজিজ) বা অটোইমিউন ডিজিজ। জন্ডিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল, ক্লান্তি, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ক্ষুধামান্দ্য।

জন্ডিস হলে করণীয়

জন্ডিস হলে করণীয় কি এ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন অনেকেই। সাধারণত শরীর, প্রসাবের রঙ ও চোখ হলুদ হয় জন্ডিসের কারনে। বিভিন্ন কারনে জন্ডিস হতে পারে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জন্ডিসের প্রধান কারন। বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়ার কয়েকটি কারন রয়েছে যেমন-রক্তে লোহিত রক্ত কনিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়া, পিত্তরসের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া, মেটাবলিজম বাধাগ্রস্থ হওয়, অতিরিক্ত মদ্যপান প্রভৃতি। জন্ডিস হলে কি করবেন জেনে নিন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াঃ লিভারের প্রদাহ, পিত্তনালীর বাধা বা রক্তের রোগসহ বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।জন্ডিসের লক্ষন শরীরের মধ্যে প্রকাশিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হবে যে আপনার জন্ডিস হয়েছে কি না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করবেন না।

পূর্ণ বিশ্রামঃ জন্ডিসে আক্রান্ত হলে বেশি বেশি বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করবেন, অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না। শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম লিভারের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। অতএব, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

সঠিক খাদ্যাভ্যাসঃ লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর পানি ও তরল পান করুন, যেমন ডাবের পানি, আখের রস। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে। সহজপাচ্য ও কম মসলাযুক্ত খাবার খান। ভাজা বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

তাজা ফল ও সবজি, বিশেষ করে সাইট্রাস ফল (লেবু, কমলা), পেঁপে, তরমুজ, গাজর, বিটরুট ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। ওটস, ব্রাউন রাইস, গমের রুটি ইত্যাদি সম্পূর্ণ শস্য গ্রহণ করুন। মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ইত্যাদি চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করুন।

পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষাঃ হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস পানির মাধ্যমে ছড়ায়। তাই বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে হেপাটাইটিস ই সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে।

এড়িয়ে চলুনঃ অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতি বাড়ায়, তাই এটি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন। প্রক্রিয়াজাত ও টিনজাত খাবার, উচ্চ লবণ ও চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। লাল মাংস ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য পরিহার করুন। ধুমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিহার করতে হবে।

নিয়মিত পরীক্ষাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করান, যাতে লিভারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যায়

জন্ডিস হলে উপরের নিয়মগুলো ফলো করবেন। আর জন্ডিসের লক্ষন টানা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন, দেরিতে ডাক্তারের কাছে গেলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

জন্ডিসের প্রকারভেদ

জন্ডিস কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয় বরং এটি রক্তে বিলিরুবিন নামক হলুদ রঞ্জকের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং মিউকাস ঝিল্লি হলুদ হয়ে যাওয়ার একটি লক্ষণ। বিলিরুবিন লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনের ফলে উৎপন্ন হয় এবং লিভার এটি প্রক্রিয়াজাত করে পিত্তরসের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং জন্ডিস দেখা দেয়। তিনটি প্রধান ধরনের জন্ডিস আছে:

১. প্রি-হেপাটিক (হেমোলাইটিক) জন্ডিসঃ এই ধরনের জন্ডিস ঘটে যখন লোহিত রক্তকণিকার (হেমোলাইসিস) ভাঙ্গন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে রক্তের প্রবাহে বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি হয়। কারণগুলির মধ্যে রয়েছে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ বা কিছু জেনেটিক ব্যাধির মতো অবস্থা।

২. হেপাটোসেলুলার (হেপাটিক) জন্ডিসঃ হেপাটোসেলুলার জন্ডিস যকৃতের ক্ষতি বা কর্মহীনতার ফলাফল, যা লিভারের বিলিরুবিন প্রক্রিয়াকরণ এবং কার্যকরভাবে নিষ্কাশন করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। কারণগুলির মধ্যে লিভারের সংক্রমণ (যেমন হেপাটাইটিস), লিভার সিরোসিস, অ্যালকোহলযুক্ত লিভারের রোগ বা ড্রাগ-প্ররোচিত লিভারের আঘাত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

৩. পোস্ট-হেপাটিক (অবস্ট্রাকটিভ) জন্ডিসঃ এই ধরনের জন্ডিস হয় যখন পিত্তনালীতে বাধা থাকে, যা লিভার থেকে অন্ত্রে পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধা দেয়। ফলে রক্তপ্রবাহে বিলিরুবিন জমা হয় এবং জন্ডিস হয়। হেপাটিক জন্ডিসের সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে পিত্তথলির পাথর, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার, পিত্ত নালীগুলির কঠোরতা (সঙ্কুচিত), বা পিত্ত নালীগুলিকে অবরুদ্ধকারী টিউমার।

নবজাতকের জন্ডিস হলে মায়ের করনীয়

নবজাতকের জন্ডিস হলে মায়ের করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত জন্মের দুই সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের জন্ডিস দেখা দেয়। এই জন্ডিসকে ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস বলা হয়। অর্থাৎ এই জন্ডিস নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়ে না। আপনাআপনিই জন্ডিস ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক জন্ডিসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তখন চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
নবজাতকের-জন্ডিস-হলে-মায়ের-করনীয়
যেমন– কম ওজনের বাচ্চা, মায়েদের ডায়াবেটিস থাকলে, মায়েদের স্তনে দুধের পরিমাণ কম থাকলে এবং নবজাতক যদি জন্মের পর পায়খানা কম পরিমাণে করে, তখন জন্ডিস বেড়ে যেতে পারে।নবজাতকের জন্ডিসের ক্ষেত্রে মায়েদের রক্তের গ্রুপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে মায়েদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ অথবা আরএইচ নেগেটিভ, তাদের বাচ্চার জন্ডিস হওয়ার শঙ্কা অনেক বেশি। এই শিশুদের জন্ডিস গুরুতর হয়ে থাকে সাধারণত জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেখা দেয়।

নবজাতক শিশুদের জন্ডিসের কারণঃ

মায়ের রক্তে কম অক্সিজেনের কারণে নবজাতক শিশুরা উচ্চ হিমোগ্লোবিন (১৬ থেকে ১৮ গ্রাম/ডিএল) নিয়ে জন্মায়। জন্মের পরে যখন তারা স্বাভাবিক বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন লোহিত রক্তকণিকার ভাঙ্গন বেড়ে যায় যাতে হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক মান (প্রায় ১২ -১৩গ্রাম/ডিএল) হয়ে যায়। এই বর্ধিত ভাঙ্গনই নবজাতক শিশুদের জন্ডিসের কারণ।

মায়ের করণীয়ঃ

নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানোঃ নবজাতককে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। কারণ বিশেষত ফিজিওলজিক্যাল বা স্বাভাবিক জন্ডিসের মূল চিকিৎসাই হচ্ছে শিশুকে ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়ানো। এটি শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করে এবং বিলিরুবিন দ্রুত নিষ্কাশনে সহায়তা করে।

রোদ থেকে বিরত থাকাঃ অনেকেই নবজাতকের জন্ডিস কমাতে রোদে দেওয়ার পরামর্শ দেন, তবে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। রোদে দেওয়ার ফলে শিশুর ত্বক পুড়ে যাওয়া, হাইপোথার্মিয়া বা হাইপারথার্মিয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রোদে না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লক্ষণ পর্যবেক্ষণঃ শিশুর ত্বক, চোখের সাদা অংশ, খাওয়ার অভ্যাস, অতিরিক্ত ঘুম বা জ্বরের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করুন। যদি জন্ডিস মুখ থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে বা শিশুর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রক্তের গ্রুপ পরীক্ষাঃ মায়ের রক্তের গ্রুপ 'ও' বা আরএইচ নেগেটিভ হলে নবজাতকের জন্ডিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রসবের পর মাকে এন্টি-ডি ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শঃ জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসক ফটোথেরাপি বা প্রয়োজনে রক্ত পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সর্বোপরি, নবজাতকের জন্ডিস হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

চোরা জন্ডিস এর লক্ষণ

মানবদেহের রক্তের প্রবাহে বিলিরুবিনের আধিক্যের কারনে জন্ডিস হয়ে থাকে। আমাদের শরীরের ত্বক, চোখ এবং শ্লেষ্মা ঝিল্লি বিলিরুবিনের সাথে হলুদ হয়ে যায়। আর হলুদ ত্বকই হলো জন্ডিস। আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা জানতে চেয়ে থাকেন চোরা জন্ডিস এর লক্ষন সম্পর্কে। বিভিন্ন প্রকারের জন্ডিস রয়েছে, তবে জন্ডিসের কোনো প্রকারের মধ্যে এটি নেয়। মানবদেহে তিন ধরনের জন্ডিস হতে দেখা যায়। সেগুলো হলো-

  • হেমালাইটিক জন্ডিসঃ লোহিত রক্তকনিকার ভাঙ্গন বৃদ্ধির ফলে যখন রক্তের প্রবাহে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় তখন হেমালাইটিক জন্ডিস হয়।
  • হেপাটোসেলুলার জন্ডিসঃ লিভারের বিলিরুবিন প্রক্রিয়াকরণ নিষ্কাশন হলো হেপাটোসেলুলার জন্ডিস।
  • পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিসঃ কোনো কারনে যখন পিত্তনালীতে বাধার সৃষ্টি হয়ে তখন সেটা পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিস।
এসব ধরনের জন্ডিসের লক্ষণ একই হয়ে থাকে। উপরের জন্ডিসের লক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেখান থেকে জেনে নিন জন্ডিসের লক্ষণসমূহগুলো কি কি।

জন্ডিস হলে কি খেতে হয়

জন্ডিস হলে কি খেতে হয় আনেকেই জানতে চান। জন্ডিস হলে খাবারের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরি। যকৃৎ বা পিত্তথলির ওপর চাপ পড়ে এমন খাবার জন্ডিস রোগিদের খাওয়া ঠিক নয়, এতে সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই জন্ডিস রোগিদের অবশ্যই সঠিক খাবার দিতে হবে। ভিটামিন, প্রোটিন এবং ফাইবারের ভারসাম্য প্রদান করে এমন খাবারগুলো জন্ডিস রোগির খাবার তালিকায় রাখতে হবে। জেনে নিন জন্ডিস হলো কি কি খাবারগুলো খেতে হয়-

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবারঃ লেবু, বাতাবি লেবুর শরবত জন্ডিস রোগীর জন্য খুবই ভালো। এগুলো শরীরে পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া প্রতিদিন বাদামও পরিমাণমতো খেতে পারেন। সামান্য আদা কুচি বা রসুন কুচি, আদার রস বা আদা-চা খাওয়া যেতে পারে দিনে দু-একবার। এগুলো যকৃতের জন্য ভালো।

পানিঃ প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি (দৈনিক অন্তত আট গ্লাস) পান করতে হবে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং টক্সিন বের করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার পানি পান করা উচিত। তবে অতিরিক্ত পানি পানের প্রয়োজন নেই। পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। আখের রস, ডাবের পানিও শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে। তবে রাস্তার পাশের আখের শরবত না পান করে ঘরে তৈরি শরবত খেতে হবে।

প্রোটিনঃ জন্ডিস রোগির খাবার তালিকায় নিয়মিত মাছ, মাংস, ডাল এসব প্রোটিনজাতীয় খাবারগুলো পরিমিত রাখতে হবে। না হলে রোগী দুর্বল হয়ে পড়বে। চামড়াবিহীন মুরগি, মাছ, টফু, লেবু ইত্যাদি সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন লিভারের উপর কম চাপ ফেলে। অনেকে মনে করেন, জন্ডিসে আক্রান্ত রোগী মাছ-মাংসজাতীয় খাবার খেতে পারবেন না। এটা আসলে ভুল ধারণা।

গোটা শস্যঃ গোটা শস্য যেমন বাদামি চাল, রুটি, ওটস এসব খাবারে প্রচুর আঁশ এবং ভিটামিন থাকে যা জন্ডিস রোগিদের জন্য উপকারি। কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা পূরণে বাদামি চাল, রুটি, ওট্স খেতে পারেন। এগুলো ফাইবার ও পুষ্টিতে সমৃদ্ধ, যা লিভারের সুস্থতায় সহায়তা করে। গোটা শস্যে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন থাকে, যা ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়।

তাজা শাকসবজিঃ শাকসবজি লিভারের কার্যকারিতা সমর্থন করে এবং হজমে সহায়তা করে। তাজা শাকসবজি থেকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যেগুলো লিভারের পক্ষে উপকারী। জন্ডিস রোগিরা তাজা শাকসবজির মধ্যে মিষ্টি আলু, টমেটো, কুমড়ো, গাজর, শালগম, ব্রকোলি, ফুলকপি, পালংশাক প্রভৃতি খাবেন।

বাদাম ও শিমজাতীয় খাবারঃ বাদাম ও শিমজাতীয় খাবার ভিটামিন ই ও ফেনোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে। বিভিন্ন প্রকারের বাদামে প্রচুর ফাইবার এবং স্বাস্থকর ফ্যাট রয়েছে। নিয়মিত যারা বাদাম খায় তাদের লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। তাই জন্ডিস রোগিদের এ খাবার খাওয়া স্বাস্থের জন্য উপকারী।

ফলঃ পেঁপে, বেরিস, তরমুজ, আনারস, কলা, কমলা, অ্যাভোকাডো এ ফলগুলো জন্ডিস রোগিদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাইট্রাস ফল (যেমন লেবু, কমলা), পেঁপে, গাজর, বিটরুট, আভোকাডো, ক্র্যানবেরি, ব্লুবেরি, আঙুর ইত্যাদি উপকারী।

আঁখের রসঃ জন্ডিস নিরাময়ে আঁখের রস খুবই কার্যকারী একটি পানীয়। তাই জন্ডিস রোগিকে নিয়মিত এটি খাওয়াতে হবে।

উপরের বলা খাবারগুলো জন্ডিস রোগিদের প্রতিদিন পরিমিত খেতে হবে। এছারাও প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে।

জন্ডিস হলে কি খাওয়া যাবে না

জন্ডিস হলে কি খাওয়া যাবে না এ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। জন্ডিস রোগিদের খাবারের মধ্য দিযে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। জন্ডিস রোগিদের জন্য এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যে খাবারগুলো খাওয়ার ফলে লিভারের স্বাস্থে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে সে খাবারগুলো জন্ডিস রোগিদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। জেনে নিন জন্ডিস হলে কোন কোন খাবারগুলো খাওয়া যাবে না।

আয়রনঃ লোহার খরচের ট্র্যাক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অত্যধিক আয়রন যকৃতে দাগ সৃষ্টি করতে পারে (অন্ত্রের কঠিনীভবন) রোগী যদি লিভারের সমস্যা কমাতে চায়, তাহলে তাকে কতটা আয়রন খাওয়া উচিত তা বের করতে হবে। একজনের কতটা প্রোটিন খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং গরুর মাংসের চেয়ে মাছ এবং মুরগির মতো চর্বিহীন প্রোটিন বেছে নিন।

চর্বি ও তেলে ভাজা খাবারঃ চর্বি ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবাগুলো যেমন ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ভাজা স্ন্যাকস, উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পন্য জন্ডিস রোগিদের এড়িয়ে চলতে হবে। উচ্চ চর্বিযুক্ত এবং ভাজা খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত বা লিভারে চর্বি জমে এড়াতে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া উচিত। স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যেমন মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবারে পাওয়া যায়, অসম্পৃক্ত চর্বিগুলির চেয়ে লিভারের পক্ষে হজম করা আরও কঠিন বলে মনে করা হয়। এমনকি অলিভ অয়েলের মতো অসম্পৃক্ত চর্বি স্বাস্থ্যকর হলেও সেগুলি পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত মসলাদার খাবারঃ অতিরিক্ত মসলাদার খাবারগুলো পাচনতন্ত্রকে বিরক্ত করে ফলে জন্ডিসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই জন্ডিস রোগিদের অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

চা-কফিঃ ক্যাফেইনযুক্ত খাবারগুলো জন্ডিস রোগিদের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। আর চা, কফি থেকে ক্যাফেইন পাওয়া যায়। তাই চা কপি জন্ডিস রোগিদের খাওয়া উচিত নয়।

পরিশোধিত চিনি ও মিষ্টান্নঃ মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলো লিভারে চর্বি জমায় এবং খাবার হজমে বাধা প্রদান করে। তাই জন্ডিস হলো মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পরিশোধিত চিনি এবং অন্যান্য ধরণের প্রক্রিয়াজাত চিনি লিভারে চর্বি জমাতে অবদান রাখতে পারে। অনেক উচ্চ-চিনির প্রক্রিয়াজাত খাবারেও চর্বি বেশি থাকে, যা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। সর্বদা এক টুকরো ফল বা কম চর্বিযুক্ত, কম চিনিযুক্ত দই বেছে নিন। পরিশ্রুত চিনি ছাড়াও কৃত্রিম মিষ্টি সীমিত করা লিভারের অতিরিক্ত চাপ কমানোর একটি আদর্শ উপায়।

লবণঃ উচ্চ লবণযুক্ত খাবারের ফলে লিভারের ক্ষতি হয় এবং জল ধরে রাখা যায়। ডায়েট থেকে প্রক্রিয়াজাত এবং টিনজাত খাবার বাদ দেওয়া সোডিয়াম কমানোর একটি সহজ পদ্ধতি। লবণ শেকারে যাওয়ার পরিবর্তে, আদা এবং রসুনের মতো ভেষজ এবং মশলা দিয়ে রান্নায় স্বাদ যোগ করুন।

জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরের খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক খাবার লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ভুল খাবার লিভারের ক্ষতি করে। তাই স্বাস্থসম্মত পুষ্টিকর খাবারগুলো যেগুলো জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য উপযোগি সে খাবারগুলো খেতে হবে।

জন্ডিস প্রতিরোধে করণীয়

জন্ডিস প্রতিরোধে করণীয় বা কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। জন্ডিস সাধারণত লিভারের সমস্যার কারণে হয় এবং এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, অ্যালকোহল বা বিষক্রিয়ার ফলে হতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হবে। তারমধ্যে পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, পরিমাণমতো পানি, তরল খাবার, ডাবের পানি খাওয়া ও সহজপাচ্য খাবার অর্থাৎ অতিরিক্ত মশলা, তেলে ভাজা খাবার পরিহার করতে হবে। নিচে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হলোঃ
জন্ডিস-প্রতিরোধে-করণীয়
  • পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান বাসি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন। ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করুন। কাঁচা সবজি বা ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পানিবাহিত হেপাটাইটিস 'ই' ছড়ানোর ঝুঁকিটা খুবই বেশি থাকে।
  • হেপাটাইটিসের টিকা গ্রহণ করুন হেপাটাইটিস এ ও বি ভাইরাসের টিকা নেওয়া জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়ক।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন হাত ধোয়া, বিশেষ করে খাবার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর।
  • শেয়ারিং এড়িয়ে চলুন ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রেজর বা টুথব্রাশ শেয়ার করবেন না।
  • হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস বি হওয়ার আশংকা মুক্ত থাকতে হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস বি এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন।
  • শরীরে রক্ত নেয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিতে হবে।
  • ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
  • মদ পান ও নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন লিভারের ক্ষতি করে।
  • নিরাপদ যৌন মিলন করুন।
  • কল কারখানার নির্গত রাসায়নিক পদার্থ থেকে দূরে থাকুন।
  • সেলুনে সেভ করার সময় অবশ্যই নতুন ব্লেড ব্যবহার করতে বলবেন।
  • জন্ডিস অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণও হতে পারে তাই এই রোগ থেকে বাঁচতে সচেতন হতে হবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না বিশেষত, লিভারের ক্ষতি করে এমন ওষুধ।
  • লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সময়মতো ডাক্তারের পরামর্শ নিন। জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শেষকথা

জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার – জন্ডিস হলে করনীয় সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জন্ডিস আসলে কোনো রোগ নয়, রোগের লক্ষণ মাত্র। জন্ডিস হলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। জন্ডিস বলতে আমরা শরীর, চোখ ও প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়াকেই বুঝি। মূলত বিলিরুবিন নামক রঞ্জকের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রভাবেই এটা ঘটে থাকে। রক্তে এই বিলিরুবিন বাড়ার অনেক কারণ রয়েছে।

যেমন- রক্তের লোহিত রক্তকনিকার দ্রুত ও অত্যাধিক পরিমাণ ভেঙে যাওয়া, লিভারের প্রদাহতে বিলিরুবিনের বিপাক বা মেটাবলিজম বাধাগ্রস্ত হওয়া, পিত্তরসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ বেশকিছু কারণে জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দেয়। জন্ডিস দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করা যাবে না। বিশেষত প্রচলিত কবিরাজি, হারবাল বা বনাজি অথবা ঝাড়ানোর মতো চিকিৎসা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

এক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হবে। তারমধ্যে পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, পরিমাণমতো পানি, তরল খাবার, ডাবের পানি খাওয়া অন্যতম। সহজপাচ্য খাবার খাওয়া অর্থাৎ অতিরিক্ত মশলা, তেলে ভাজা খাবার পরিহার করতে হবে। হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। আশা করি জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার – জন্ডিস হলে করনীয় সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url