জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার
জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার এবং জন্ডিস হলে করনীয় কি এসব বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের
আর্টিকেল। সুস্থ থাকতে এসব বিষয়গুলো আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। তাই আজকের
আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন জন্ডিস এর লক্ষন ও প্রতিকার এবং
জন্ডিস হলে করনীয় কি।
জন্ডিস রোগ কে অনেকেই সাধারন মনে করে, তবে রোগটি একেবারে সাধারন নয়। কোনো কোনো
সময় এ রোগ মারাত্মক ঝুঁকির কারন হতে পারে। তাই জন্ডিস রোগের লক্ষনগুলো সম্পর্কে
আমাদের সবার জেনে রাখা উচিত। তো চলুন বিস্তারিতভাবে নিচের আর্টিকেলটি পড়ুন এবং
জেনে নিন জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার এবং জন্ডিস হলে কি করতে হবে।
পেইজ সূচিপত্রঃ জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার
- জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার
- জন্ডিসের কারণ
- জন্ডিস হলে করণীয়
- জন্ডিসের প্রকারভেদ
- নবজাতকের জন্ডিস হলে মায়ের করনীয়
- চোরা জন্ডিস এর লক্ষণ
- জন্ডিস হলে কি খেতে হয়
- জন্ডিস হলে কি খাওয়া যাবে না
- জন্ডিস প্রতিরোধে করণীয়
- জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শেষকথা
জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার
জন্ডিস এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়া, গাঢ়
প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল, ক্লান্তি, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং
ক্ষুধামান্দ্য। জন্ডিস আমাদের কাছে পরিচিত একটি শব্দ। যকৃৎ বা পিত্তনালির
সমস্যা হলে জন্ডিস হয়ে থাকে। জন্ডিসের সমস্যাকে আমরা তেমন গুরুত্বর চোখে
দেখি না। তবে এ সমস্যা বেশি সময় ধরে থাকলে মারাত্বক ঝুঁকি আসতে পারে। তাই এ
সমস্যাকে গুরত্বসহকারে দেখা উচিত। তো চলুন জন্ডিসের লক্ষণ গুলো জেনে নেওয়া
যাক।
- ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং মুখের ভেতরের অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
- প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন হয়ে যায় যেয়ন- প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামী রঙের হয়ে যায়।
- মলের রঙ পরিবর্তন হয়ে ফ্যাকাশে বা কাদামাটির মতো রঙের হতে পারে।
- অরুচি ও খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
- বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
- শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
- হালকা জ্বর বা জ্বর জ্বর অনুভূতি থাকতে পারে।
- পেট ব্যথা বিশেষ করে পেটের উপরের ডান পাশে ব্যথা হতে পারে।
- ত্বকে চুলকানি হতে পারে।
জন্ডিসের প্রতিকারে প্রথমে যেটা করবেন, সেটা হলো পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রাম।
এ সময় অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে জন্ডিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত
পরিমানে বিশ্রাম নেওয়ার ফলে জন্ডিস সেরে যেতে পারে। লক্ষণ গুরুত্বর হলে বসে
থাকবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, চিকিৎসক যে ওষুধগুলো খেতে বলবে সেগুলো
খাবেন। এছারা এ সময় বিভিন্ন ওষুধ যেমন-ঘুমের ওষুধ, ব্যাথানাশক ওষুধ,
অ্যাসপিরিন এ জাতীয় ওষুধসহ বিভিন্ন ওষুধ খাওয়া যাবে না, প্রয়োজন হলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। বাইরের খাবার, তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত
মসলাযুক্ত খাবার জন্ডিসে আক্রান্ত রোগিকে খাওয়া যাবেনা, সবসময় বিশুদ্ধ
খাবার ও পানীয় পান করতে হবে।
জন্ডিসের কারণ
জন্ডিসের প্রধান কারণ হলো ভাইরাল হেপাটাইটিস, বিশেষ করে হেপাটাইটিস এ,
বি, সি এবং ই ভাইরাস। জন্ডিস কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয় এটি লিভার বা রক্তের
বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। রক্তে বিলিরুবিন নামক হলুদ রঙের
পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গেলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং মিউকাস ঝিল্লি
হলুদ হয়ে যায়।বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত
লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি
গলব্লাডারে থাকে। এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। যদি
কোন কারণে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে তখন রক্তে বিলিরুবিনের
স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ
ভাবের সৃষ্টি করে। জন্ডিসের কারণগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় য়েমনঃ
১. প্রি-হেপাটিক (হেমোলাইটিক) জন্ডিসঃ এক্ষেত্রে লোহিত
রক্তকণিকার দ্রুত ও অতিরিক্ত ভাঙন ঘটে, যার ফলে বিলিরুবিনের উৎপাদন বেড়ে
যায়। লিভার এই অতিরিক্ত বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম হয় না, ফলে
রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর কারণ হতে পারে হিমোলাইটিক
অ্যানিমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ বা কিছু জেনেটিক ব্যাধি। বিস্তারিত যেমনঃ
- হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়াঃ এ ধরনের অ্যানিমিয়ায় লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ভেঙে যায়।
- সিকেল সেল ডিজিজঃ জেনেটিক কারণে লোহিত রক্তকণিকার আকার পরিবর্তিত হয়ে দ্রুত ভেঙে যায়।
- ম্যালেরিয়াঃ প্লাজমোডিয়াম পরজীবী লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে।
- থ্যালাসেমিয়াঃ জেনেটিক কারণে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ত্রুটি ঘটে, ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায়।
২. হেপাটোসেলুলার (হেপাটিক) জন্ডিসঃ লিভারের ক্ষতি বা
কর্মহীনতার কারণে লিভার বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যর্থ হয়। এর
কারণ হতে পারে হেপাটাইটিস (ভাইরাল বা অ্যালকোহলিক), লিভার সিরোসিস বা
লিভার ক্যান্সার। বিস্তারিত যেমনঃ
- হেপাটাইটিসঃ ভাইরাস (যেমন হেপাটাইটিস এ, বি, সি) বা অ্যালকোহলজনিত কারণে লিভারের প্রদাহ।
- লিভার সিরোসিসঃ দীর্ঘমেয়াদী লিভার ক্ষতির ফলে লিভারের টিস্যুতে দাগ পড়ে, যা লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস করে।
- লিভার ক্যান্সারঃ লিভারে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত করে।
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি করতে পারে, যেমন প্যারাসিটামল ওভারডোজ।
৩. পোস্ট-হেপাটিক (অবস্ট্রাকটিভ) জন্ডিসঃ পিত্তনালীতে বাধা
সৃষ্টি হলে লিভার থেকে পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, ফলে
বিলিরুবিন জমা হয়। এর কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর, পিত্তনালীর প্রদাহ
বা টিউমার। বিস্তারিত যেমনঃ
- পিত্তথলির পাথরঃ পিত্তনালীতে পাথর জমে পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
- পিত্তনালীর প্রদাহঃ পিত্তনালীর সংক্রমণ বা প্রদাহ পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
- প্যানক্রিয়াটাইটিসঃ অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ পিত্তনালীকে চেপে ধরে পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- টিউমারঃ পিত্তনালী বা অগ্ন্যাশয়ে টিউমার পিত্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
জন্ডিসের অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কিছু বিরল জেনেটিক রোগ (যেমন উইলসন ডিজিজ) বা অটোইমিউন ডিজিজ। জন্ডিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল, ক্লান্তি, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ক্ষুধামান্দ্য।
জন্ডিস হলে করণীয়
জন্ডিস হলে করণীয় কি এ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন অনেকেই। সাধারণত শরীর, প্রসাবের রঙ ও চোখ হলুদ হয় জন্ডিসের কারনে। বিভিন্ন কারনে জন্ডিস হতে পারে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জন্ডিসের প্রধান কারন। বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়ার কয়েকটি কারন রয়েছে যেমন-রক্তে লোহিত রক্ত কনিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়া, পিত্তরসের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া, মেটাবলিজম বাধাগ্রস্থ হওয়, অতিরিক্ত মদ্যপান প্রভৃতি। জন্ডিস হলে কি করবেন জেনে নিন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াঃ লিভারের প্রদাহ, পিত্তনালীর বাধা বা
রক্তের রোগসহ বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার
মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।জন্ডিসের লক্ষন শরীরের
মধ্যে প্রকাশিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
নিশ্চিত হবে যে আপনার জন্ডিস হয়েছে কি না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো
ওষুধ সেবন করবেন না।
পূর্ণ বিশ্রামঃ জন্ডিসে আক্রান্ত হলে বেশি বেশি বিশ্রাম নেওয়ার
চেষ্টা করবেন, অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না। শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম
লিভারের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। অতএব, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
সঠিক খাদ্যাভ্যাসঃ লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত
খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর পানি ও তরল পান করুন,
যেমন ডাবের পানি, আখের রস। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।
সহজপাচ্য ও কম মসলাযুক্ত খাবার খান। ভাজা বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
পরিহার করুন।
তাজা ফল ও সবজি, বিশেষ করে সাইট্রাস ফল (লেবু, কমলা), পেঁপে, তরমুজ,
গাজর, বিটরুট ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। ওটস, ব্রাউন
রাইস, গমের রুটি ইত্যাদি সম্পূর্ণ শস্য গ্রহণ করুন। মাছ, মুরগির মাংস,
ডাল ইত্যাদি চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করুন।
পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষাঃ হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস পানির
মাধ্যমে ছড়ায়। তাই বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে
চলুন। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ
গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে হেপাটাইটিস ই সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে।
এড়িয়ে চলুনঃ অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতি বাড়ায়, তাই এটি
সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন। প্রক্রিয়াজাত ও টিনজাত খাবার, উচ্চ লবণ ও
চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। লাল মাংস ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত
পণ্য পরিহার করুন। ধুমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিহার করতে হবে।
নিয়মিত পরীক্ষাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত লিভার
ফাংশন পরীক্ষা করান, যাতে লিভারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যায়
জন্ডিস হলে উপরের নিয়মগুলো ফলো করবেন। আর জন্ডিসের লক্ষন টানা দেখা
দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন, দেরিতে ডাক্তারের কাছে গেলে সমস্যা বেড়ে
যেতে পারে।
জন্ডিসের প্রকারভেদ
জন্ডিস কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয় বরং এটি রক্তে বিলিরুবিন নামক হলুদ
রঞ্জকের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং মিউকাস ঝিল্লি
হলুদ হয়ে যাওয়ার একটি লক্ষণ। বিলিরুবিন লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনের
ফলে উৎপন্ন হয় এবং লিভার এটি প্রক্রিয়াজাত করে পিত্তরসের মাধ্যমে
শরীর থেকে বের করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটলে রক্তে
বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং জন্ডিস দেখা দেয়। তিনটি প্রধান
ধরনের জন্ডিস আছে:
১. প্রি-হেপাটিক (হেমোলাইটিক) জন্ডিসঃ এই ধরনের জন্ডিস ঘটে
যখন লোহিত রক্তকণিকার (হেমোলাইসিস) ভাঙ্গন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে
রক্তের প্রবাহে বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি হয়। কারণগুলির মধ্যে রয়েছে
হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ বা কিছু জেনেটিক ব্যাধির
মতো অবস্থা।
২. হেপাটোসেলুলার (হেপাটিক) জন্ডিসঃ হেপাটোসেলুলার জন্ডিস
যকৃতের ক্ষতি বা কর্মহীনতার ফলাফল, যা লিভারের বিলিরুবিন
প্রক্রিয়াকরণ এবং কার্যকরভাবে নিষ্কাশন করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
কারণগুলির মধ্যে লিভারের সংক্রমণ (যেমন হেপাটাইটিস), লিভার সিরোসিস,
অ্যালকোহলযুক্ত লিভারের রোগ বা ড্রাগ-প্ররোচিত লিভারের আঘাত
অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
৩. পোস্ট-হেপাটিক (অবস্ট্রাকটিভ) জন্ডিসঃ এই ধরনের জন্ডিস হয়
যখন পিত্তনালীতে বাধা থাকে, যা লিভার থেকে অন্ত্রে পিত্তের স্বাভাবিক
প্রবাহকে বাধা দেয়। ফলে রক্তপ্রবাহে বিলিরুবিন জমা হয় এবং জন্ডিস
হয়। হেপাটিক জন্ডিসের সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে পিত্তথলির
পাথর, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার, পিত্ত নালীগুলির কঠোরতা (সঙ্কুচিত),
বা পিত্ত নালীগুলিকে অবরুদ্ধকারী টিউমার।
নবজাতকের জন্ডিস হলে মায়ের করনীয়
নবজাতকের জন্ডিস হলে মায়ের করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত জন্মের দুই সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের
জন্ডিস দেখা দেয়। এই জন্ডিসকে ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস বলা হয়।
অর্থাৎ এই জন্ডিস নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং কোনো চিকিৎসারও
প্রয়োজন পড়ে না। আপনাআপনিই জন্ডিস ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু
ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক জন্ডিসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তখন
চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
যেমন– কম ওজনের বাচ্চা, মায়েদের ডায়াবেটিস থাকলে, মায়েদের স্তনে
দুধের পরিমাণ কম থাকলে এবং নবজাতক যদি জন্মের পর পায়খানা কম
পরিমাণে করে, তখন জন্ডিস বেড়ে যেতে পারে।নবজাতকের জন্ডিসের
ক্ষেত্রে মায়েদের রক্তের গ্রুপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে মায়েদের
রক্তের গ্রুপ ‘ও’ অথবা আরএইচ নেগেটিভ, তাদের বাচ্চার জন্ডিস হওয়ার
শঙ্কা অনেক বেশি। এই শিশুদের জন্ডিস গুরুতর হয়ে থাকে সাধারণত
জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেখা দেয়।
নবজাতক শিশুদের জন্ডিসের কারণঃ
মায়ের রক্তে কম অক্সিজেনের কারণে নবজাতক শিশুরা উচ্চ হিমোগ্লোবিন
(১৬ থেকে ১৮ গ্রাম/ডিএল) নিয়ে জন্মায়। জন্মের পরে যখন তারা
স্বাভাবিক বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন লোহিত রক্তকণিকার ভাঙ্গন
বেড়ে যায় যাতে হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক মান (প্রায় ১২
-১৩গ্রাম/ডিএল) হয়ে যায়। এই বর্ধিত ভাঙ্গনই নবজাতক শিশুদের
জন্ডিসের কারণ।
মায়ের করণীয়ঃ
বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url