নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার


নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়ুন। নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের সংক্রমণ, যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। ফুসফুসের প্রদাহ জনিত একটি রোগ হলো নিউমোনিয়া। শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
নিউমোনিয়া-রোগের-লক্ষণ-ও-প্রতিকার
এটি ফুসফুসের বাতাসের পর্দা (এলভিওলি) এবং আশেপাশের টিস্যুকে আক্রান্ত করে, যার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, এবং কখনও কখনও পেইন বা বুকব্যথা দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়া একাধিক ধরণের হতে পারে, এবং এর উপসর্গের তীব্রতা রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

এ রোগের বেশ কিছু লক্ষন রয়েছে যেগুলো জানা থাকলে আমরা নিউমোনিয়া রোগ খুব সহজে চিহ্নিত করতে পারবো। আমার আজকের আর্টিকেলে নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছারাও পুরো আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে জেনে যাবেন নিউমোনিয়া রোগের কারন, নিউমোনিয়ার ঔষুধ ও নিউমোনিয়া হলে কি খেতে হবে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত।

পেইজ সূচিপত্রঃ নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

নিউমোনিয়া রোগের কারন কি

নিউমোনিয়া রোগের কারন সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, বা ফাঙ্গাসের কারণে হয়ে থাকে। এটি ফুসফুসের প্রদাহজনি রোগের নাম নিউমোনিয়া। মানবদেহের ফুসফুসের ছোটো ছোট বায়ু থলিতে জীবানুর সংক্রামন হলে ফুসফুসের প্রদাহের সৃষ্টি হয়। শিশু থেকে শুরু করে, বয়স্ক ও তরুনসহ প্রায় সব বয়সিদের এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ রোগের চিকিৎসা দ্রুত নেওয়া হলে রোগির মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যায়। বেশ কিছু কারনে নিউমোনিয়া রোগ হয়ে থাকে।

জীবানু ঘটিত একটি রোগের নাম হলো নিউমোনিয়া। বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ফাঙ্গাস ও ভাইরাসের সংক্রামনের কারনে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে। এসব জীবানু সংক্রামিত হয়ে ফুসফুসের বায়ু থলিতে গিয়ে আক্রমন করে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। প্রদাহ সৃষ্টি হওয়ার কারনে বায়ু থলিগুলোতে পুঁজ হয়ে যায় এবং অবশেষে নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো শরীরে প্রকাশ পায়। চলুন তাহলে সঠিক তথ্য জেনে নিন নিউমোনিয়া রোগের কারনগুলো সম্পর্কে।

ব্যাকটেরিয়াঃ সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়া হলো Streptococcus pneumoniae। এটি নিউমোনিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ, বিশেষত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে। এছাড়া Haemophilus influenzae শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এবং Mycoplasma pneumoniae-এর কারণেও নিউমোনিয়া হতে পারে। এটি "ওয়াকিং নিউমোনিয়া" নামে পরিচিত, কারণ এর লক্ষণগুলো তুলনামূলকভাবে হালকা।

ভাইরাসঃ মৌসুমী ফ্লুর কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে। শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু), আরএসভি (Respiratory Syncytial Virus) এটি শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে ভাইরাল নিউমোনিয়ার একটি সাধারণ কারণ। এবং করোনা ভাইরাসও নিউমোনিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

ফাঙ্গাসঃ দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে Pneumocystis jirovecii, Cryptococcus, বা Histoplasmosis-এর মতো ফাঙ্গাস নিউমোনিয়ার কারণ হতে পারে। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে ফাঙ্গাল নিউমোনিয়া সাধারণ কারন।

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ সমূহ সাধারণত সংক্রমণের কারণ এবং রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। নিউমোনিয়া ফুসফুসজনিত একটি রোগ যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের কারণে হতে পারে। এর ফলে ফুসফুসের বায়ুথলিতে (alveoli) প্রদাহ হয় এবং সেগুলো তরল বা পুঁজ দিয়ে পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। এ রোগের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তা না হলে রোগির মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। জেনে নিন নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ সম্পর্কে।

শারীরিক লক্ষণঃ

  • জ্বরঃ উচ্চ তাপমাত্রা, যা প্রায়শই ঠাণ্ডা বা ঘাম দিয়ে শুরু হয়।
  • কাশিঃ শুষ্ক কাশি বা কফসহ কাশি, যা রক্ত বা হলুদ/সবুজাভ রঙের কফ উৎপন্ন করতে পারে।
  • শ্বাসকষ্টঃ শ্বাস নিতে অসুবিধা বা হাঁপিয়ে উঠা।
  • বুকে ব্যথাঃ বিশেষ করে কাশি বা শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
  • থকথকে গলার স্বর বা শ্বাসের শব্দঃ শ্বাস নেওয়ার সময় হুইজিং বা গুঁগুঁ আওয়াজ শোনা যেতে পারে।
সামগ্রিক লক্ষণঃ

  • অবসাদঃ অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা।
  • বমি বা বমিভাবঃ বিশেষত শিশুদের মধ্যে।
  • অবসন্নতাঃ প্রবীণদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি বা মানসিক অস্পষ্টতা।
  • ক্ষুধামান্দ্যঃ ক্ষুধা কমে যাওয়া বা খাবারের প্রতি আগ্রহ হ্রাস।
শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রেঃ

  • শিশুরা দ্রুত শ্বাস নিতে পারে বা শ্বাস নিতে কঠিনতা অনুভব করতে পারে।
  • প্রবীণ ব্যক্তিরা বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা অনুভব করতে পারেন এবং তাদের শারীরিক লক্ষণগুলো তীব্র নাও হতে পারে।
  • শরীরের তাপমাত্রা অনেক সময় স্বাভাবিক থাকতে পারে, তবে কনফিউশন বা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসাঃ

নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য যথাযথ পরীক্ষা ও সঠিক ওষুধ প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, ভাইরাল সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিভাইরাল, এবং ফাঙ্গাল সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

এসব লক্ষণগুলো কারও মধ্যে দেখা দিলে এবং সেটা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার

নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার ও চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের কারণ, রোগীর অবস্থা এবং সংক্রমণের তীব্রতার ওপর। নিউমোনিয়া জটিল একটি রোগ। নিউমোনিয়া গুরুতর হতে পারে এবং কখনো কখনো জীবনঘাতীও হতে পারে, বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের জন্য। তবে এটি প্রথমে স্বাভাবিক থাকে, পরবর্তীতে এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে। এ রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

বাড়িতে বসে থেকে এর প্রতিকার খুঁজবেন না। নিউমোনিয়ার চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। রোগির অবস্থা বিবেচনা করে রোগিকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সঠিক চিকিৎসায় এ রোগ ভালো করা সম্ভব।নিউমোনিয়া একটি গুরুতর সমস্যা হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সেরে যায়। তবে যেকোনো রোগের প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ করায় গুরুত্বাপূর্ন। তাই জেনে নিন নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত।

নিউমোনিয়া রোগের প্রতিরোধঃ

  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে খাবার খেতে হবে।
  • শরীরের বিষেশ যত্ন নিতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম ও ঘুমাতে হবে।
  • স্বাস্থকর খাবার খেতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
  • ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
  • হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দিতে হবে।
  • সময়মতো টিকা দিতে হবে।
    নিউমোনিয়া রোগ থেকে বাঁচতে উপরের বলা প্রতিরোধগুলো মেনে চলবেন। আর নিউমোনিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু প্রতিকার রয়েছে যেগুলো মেনে চললে, এ রোগ দ্রুত সারে। জেনে নিন নিউমোনিয়া রোগের ঘরোয়া প্রতিকারগুলো কি।

    নিউমোনিয়া রোগের ঘরোয়া প্রতিকারঃ

    • নিউমোনিয়ার সমস্যা দেখা দিয়ে লবন পানির গার্গল করতে পারেন। হালকা গরম পানির সাথে লবন মিশিয়ে গার্গল করলে, গলার কফ অপসারন হয় এবং রোগি অনেকটাই আরাম পায়।
    • নিউমোনিয়া রোগ হলে পিপারমেন্ট চা খাবেন অনেকটাই উপকার পাবেন।
    • আদার মধ্যে ব্যাথা উপশমের বৈশিষ্ট রয়েছে, তাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি আদা চা খেলে অনেকটাই আরাম পায়।
    • মেথি চা নিউমোনিয়া রোগ থেকে অনেকটাই উপশম দিতে সাহায্য করে।
    • নিউমোনিয়ার সমস্যায় বুকে ব্যাথা হলে হালকা গরম পানির সাথে ১ চা চামচ হলুদ গুড়ো মিশিয়ে খাবেন। ব্যাথা থেকে অনেকটাই উপশম পাওয়া যাবে।

    বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয়

    বড়দের নিউমোনিয়া হলে করণীয় দ্রুত চিকিৎসা। নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি রোগ। নিউমোনিয়া রোগ কারও হয়ে থাকলে, তার ফুসফুস ভালোভাবে কাজ করে না। ফলে এ রোগের বিভিন্ন শ্বাসপ্রস্বাসজনিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়।প্রতিবছর নিউমোনিয়া রোগে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের তালিকায় শিশু এবং বড়রা অর্থ্যাৎ বয়স্করা বেশি। অনেকেই জানতে চেয়ে থাকেন বড়দের নিউমোনিয়া হলে কি করা উচিত।

    বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায়, তাদের নিউমোনিয়া রোগটি বেশি হতে দেখা যায়। কিংবা বড়রা যারা কোনো স্থায়ী রোগে ভুগছেন, তাদের এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বয়স্কদের নিউমোনিয়া হলে সাধারনত জ্বর, বুকে বা শরীরে ব্যাথা, কাশি এ লক্ষণগুলো দেখা দেয়। বয়স্কদের  এসব লক্ষণ দেখা দিলে তাদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায়, এসব লক্ষণ তাদের ক্ষেত্রে বিপদজনক হতে পারে।

    বয়স্কদের বা যাদের কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে যেমন- কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, অ্যার্থ্রাইটিস ইত্যাদি, তাদের সবসময় সাবধানে থাকা জরুরি। শুধু নিউমোনিয়া রোগ নয়, সাবধানে থাকলে বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম।বড়দের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষত যদি তাদের অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকে। নিউমোনিয়া হলে করণীয় বিষয়গুলো নিম্নে দেওয়া হলোঃ

    • ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ডাক্তার আপনার শারীরিক পরীক্ষা, এক্স-রে বা রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন।
    • শীতকালে অথবা বর্ষাকালে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বেশি, তাই এ মৌসুমে ঠান্ডা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
    • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত কাজ করা বা শারীরিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
    • ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন বা গরম পানির ভাপ নিন। বুক ও পিঠ ম্যাসাজ করুন, যা শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করতে পারে।
    • শরীরের পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খান। এটি কফ পাতলা করতে সাহায্য করে।
    • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন, বিশেষ করে প্রোটিন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ডাল, ডিম, মাছ, মাংস, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল লেবু, কমলা ও শাকসবজি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
    • হাঁচি, কাশি দেওয়ার সময় মুখ-নাক ঢাকতে হবে।
    • ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুন এবং ধুলাবালি বা বায়ু দূষণ থেকে দূরে থাকুন।
    • ঘর-বাড়ি পরিষ্কার রাখুন এবং রোগীর চারপাশে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
    • রোগীকে সোজা বসিয়ে রাখুন বা এমনভাবে শোয়ান যাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। প্রয়োজনে অক্সিজেন সাপোর্টের ব্যবস্থা করুন।
    • যদি অবস্থার অবনতি হয় (যেমন অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট), দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করুন।

    শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

    শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ বিভিন্ন বয়সের মধ্যে ভিন্ন হতে পারে। শিশুর নিউমোনিয়া একটি গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, যা শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণের কারণে হয়। শিশুর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিকার নির্ভর করে সংক্রমণের কারণ এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার উপর। শিশুর নিউমোনিয়া (pneumonia) একটি গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ যা ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে। , তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ নিম্নরূপঃ
    শিশুর-নিউমোনিয়া-রোগের-লক্ষণ-ও-প্রতিকার
    লক্ষণঃ

    • শ্বাসকষ্টঃ শিশু শ্বাস নিতে কষ্ট পেতে পারে, শ্বাসগতি দ্রুত হতে পারে বা শ্বাসের মধ্যে আওয়াজ হতে পারে (যেমন হাঁপানি)।
    • জ্বরঃ শিশুর তাপমাত্রা ১০০°F (৩৭.৮°C) বা তার বেশি উঠতে পারে।
    • শুকনো বা সর্দি-কাশিঃ শিশুর কাশির সাথে শ্লেষ্মা থাকতে পারে, এবং কখনও কখনও কাশির সাথে রক্তও আসতে পারে।
    • শরীরের দুর্বলতাঃ শিশুর অল্প শক্তি বা দুর্বলতা অনুভব হতে পারে, কিছু শিশুর তেমন কিছু খেলাধুলা বা চলাফেরা করতে চায় না।
    • ঘুমন্ত বা অলস অবস্থায় থাকাঃ শিশুর সাধারণত খাওয়া বা খেলাধুলা করতে ইচ্ছা না হওয়া।
    • শ্বাসকষ্টের জন্য গলা বা পেটের নীচে চাপ: শিশুদের শ্বাস নিতে সাহায্যকারী পেশীগুলি সক্রিয় হতে পারে, বিশেষ করে পেট বা গলার নীচের অংশে।
    • মুখমণ্ডল বা হাত-পায়ের রং পরিবর্তনঃ শ্বাসকষ্ট বা অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মুখ, ঠোঁট বা হাত-পা নীল বা ধূসর হতে পারে।
    • বিশেষ আচরণগত পরিবর্তনঃ শিশুর আচরণে অস্বাভাবিকতা যেমন দুশ্চিন্তা, কান্না বা অশান্তি দেখা দিতে পারে।
    প্রতিকারঃ

    ১. ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া

    • সাধারণত চিকিৎসা হিসাবে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জলপান এবং উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাসিটামল বা অন্য জ্বর কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
    • প্রয়োজনে ডাক্তার থেকে নির্দেশিত অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ দেয়া যেতে পারে।

    ২. ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া

    • অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, যা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
    • গামছা দিয়ে ঠাণ্ডা কমানো, প্রয়োজনীয় পরিমাণে তরল খাবার বা ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
    ৩. নিউমোনিয়া প্রতিরোধের জন্য

    • ভ্যাকসিনঃ শিশুদের জন্য পঞ্চম বেতনভুক্ত নিউমোকক্কাল (PCV) এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ভ্যাকসিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
    • হাইজিনঃ শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
    • মায়ের দুধঃ শৈশবের প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
    • ধূমপান থেকে দূরে রাখাঃ শিশুকে ধূমপান এবং অন্যান্য দূষিত বাতাস থেকে দূরে রাখা।
    ৪. হাসপাতালে ভর্তি

    • যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট বাড়ে, খাবার খেতে অসুবিধা হয় বা তীব্র জ্বর থাকে, তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত। হাসপাতালে অক্সিজেন, ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড, এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা দেয়া হতে পারে।
    ৫. সতর্কতা

    • শিশুর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।
    • ভ্যাকসিন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    নিউমোনিয়া ওষুধের নাম

    বিভিন্ন ভাইরাস বা ব্যকটেরিয়া যখন ফুসফুসে আক্রমন করে তখন নিউমমোনিয়া রোগটি হয়ে থাকে। এ রোগ শিশুদের ও বয়স্কদের জন্য বেশি মারাত্মক। তবে সঠিক চিকিৎসা নিলে এ থেকে সেরে ওঠা যায়। নিউমোনিয়া রোগিদের জন্য কি ওষুধ দেওয়া হয়, অনেকেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে খুঁজাখুঁজি করে থাকেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিউমোনিয়া রোগের ওষুধ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। সংক্রামনের ধরন ও রোগির অবস্থা বুঝে চিকিৎসকেরা ওষুধ দিয়ে থাকেন।

    নিউমোনিয়া রোগের জন্য ওফুক্সিন ২০০ এম জি ইনজেকশন অনেক চিকিৎসকেরা দিয়ে থাকেন। এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ, যা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামনে দেওয়া হয়। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে ঔষুধই আপনি ব্যবহার করুন না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা যাবে না। নিউমোনিয়ার জন্য ব্যবহৃত কিছু সাধারণ ওষুধের তালিকা ও তাদের কার্যপ্রণালী নিচে দেওয়া হলোঃ

     ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকঃ

    • অ্যামক্সিসিলিনঃ সাধারণত হালকা বা মাঝারি ধরনের ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
    • অ্যাজিথ্রোমাইসিনঃ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা অ্যাটিপিকাল নিউমোনিয়ার জন্য কার্যকর। ৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়।
    • সেফট্রিয়াক্সোনঃ জটিল বা গুরুতর নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
    • ডক্সিসাইক্লিনঃমাইল্ড থেকে মডারেট ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে কার্যকর। সাধারণত মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট হিসাবে দেওয়া হয়।
    ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্যঃ 

    ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়ায় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়ঃ

    • ওসেলটামিভিরঃ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়ার জন্য ব্যবহৃত।
    • রেমডেসিভিরঃ গুরুতর ভাইরাল নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে, যেমন COVID-19-এর জন্য।
    ফাঙ্গাল নিউমোনিয়ার জন্য অ্যান্টিফাঙ্গালঃ

    • ফ্লুকোনাজলঃ সাধারণত ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • অ্যাম্ফোটেরিসিন বিঃ গুরুতর ফাঙ্গাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়।

    নিউমোনিয়ার এন্টিবায়োটিক

    নিউমোনিয়ার এন্টিবায়োটিক যা নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ধরন রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, নিউমোনিয়ার তীব্রতা এবং রোগের কারণ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। নিউমোনিয়া সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণে হয়। ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার জন্য এন্টিবায়োটিক কার্যকর। প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময়, যদি ভাইরাল নিউমোনিয়া বা ভাইরাল ইনফেকশন হয়, তাহলে এটা ইমপ্রুভ হয়ে যেতে পারে।

    কিন্তু ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হলে প্রথমে বুকের এক্সরে করে দেখতে হবে পরিমাণটা কী রকম। ছোটদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই সেরে যায়। কিন্তু যারা বয়স্ক , যাদের ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, প্রেশার রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ওরাল কাজ করে না। সে ক্ষেত্রে তাদেরকে আইভি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। এসময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হলে নরমাল বেডে রেখে তাকে আইভি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যায়।

    কোনও কোনও ক্ষেত্রে যদি তার নিউমোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, স্টেজ ওয়ান, টু থ্রি; সিভিয়ার নিউমোনিয়া হলো, সে ক্ষেত্রে তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে রেখে অবজারভেশনে রাখতে হবে, অক্সিজেন লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে আইভি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। এখানে কিছু সাধারণ এন্টিবায়োটিকের উদাহরণ দেওয়া হলো যা ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার জন্য সাধারণ এন্টিবায়োটিক।

    • আমোক্সিসিলিনঃ (Amoxicillin) প্রধানত শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হয়। ডোজ নির্ধারণ করা হয় রোগীর ওজন এবং বয়স অনুযায়ী।
    • আজিথ্রোমাইসিনঃ (Azithromycin)যদি মাইকোপ্লাজমা বা ক্লামাইডিয়া-জনিত নিউমোনিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
    • সেফট্রিয়াক্সোনঃ (Ceftriaxone)হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য। ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
    • ডক্সিসাইক্লিনঃ (Doxycycline)সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। মৃদু থেকে মাঝারি নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
    • লেভোফ্লোক্সাসিনঃ (Levofloxacin) এবং মক্সিফ্লোক্সাসিন (Moxifloxacin)গুরুতর অবস্থায় ব্যবহৃত হয়। সাধারণত যখন অন্যান্য এন্টিবায়োটিক কাজ করে না।
    গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শঃ

    চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না। ভুল ডোজ বা এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া ভাইরাসজনিত হলে এন্টিবায়োটিক কাজ করবে না সেক্ষেত্রে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, এবং তরল গ্রহণ রোগমুক্তিতে সহায়ক।

    নিউমোনিয়া হলে কি খাবার খেতে হবে

    শীতের মৌসুমে নিউমোনিয়া রোগ হতে বেশি দেখা যায়। অনান্য সময়ের থেকে এ সময় সাবধানে থাকাটা অনেক বেশি জরুরি। সাবধানতার সাথে রাখতে হবে স্বাস্থকর খাবার, নিউমোনিয়া রোগিদের স্বাস্থকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছারা এ রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে স্বাস্থকর খাবার তালিকা। তাই রোগির চিকিৎসা গ্রহনের পর অবশ্যই তাকে স্বাস্থকর খাবারগুলো খাওয়াতে হবে।

    কমলালেবুঃ কমলালেবু থেকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি’ ইমিউন সিস্টেমমে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যা নিউমোনিয়া রোগিদের জন্য উপকারী।

    মধুঃ নিউমোনিয়া রোগীদের জন্য মধু প্রয়োজনীয় কারণ এটি সর্দি, কাশি এবং গলা ব্যথার অপ্রীতিকর উপসর্গ থেকে মুক্তি দেয়। আপনার লেমোনেড পরিবেশন করার জন্য আপনার কাছে দুটি বিকল্প রয়েছে: এতে মধু যোগ করুন বা সামান্য গরম করুন এবং সরাসরি পান করুন। মধু ঠান্ডা, কাশি, গলাব্যাথার জন্য খুবই উপকারী। নিউমোনিয়া রোগিদের এসব সমস্যা হয়ে থাকে, তাই তাদের খাদ্য তালিকায় মধু রাখতে পারেন এতে অনেকটাই উপকৃত হবেন।

    আদাঃ আদার মধ্যে প্রদাহবিরোধি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার ফলে এটি নিউমোনিয়া রোগিদের উপশমে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলীর সাথে, আদা নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করতে পারে। এটি বুকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে যা সংক্রমণের কারণে হয়। ব্যথা কমাতে, আপনি এটি আদা চা হিসাবে পান করতে পারেন।

    লেবুঃ লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের লেবু খাওয়া অনেক উপকারী।

    টাটকা ফল ও ফলের রসঃ ফুসফুসের স্বাস্থকে ভালো রাখতে টাটকা ফলের রস খুবই উপকারী। তাই নিউমোনিয়া রোগিদের খাবার তালিকায় টাটকা ফলের রস রাখলে, তাদের স্বাস্থের অনেকটাই উন্নতি হবে। সাইট্রাস ফল এবং সবুজ শাকসবজি দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রচারের জন্য উপকারী। সাইট্রাস খাবারে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার শরীরকে সংক্রমণ-সৃষ্টিকারী অণুজীব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

    পুরো শস্যঃ ওটস, বাদামী চাল এবং পুরো গমের পণ্যগুলি নিউমোনিয়ায় খাওয়ার মতো খাবারের মধ্যে রয়েছে যা শরীরের নিরাময় প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি এবং শক্তি সরবরাহ করে। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা সাধারণ স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যকর পরিপাকতন্ত্রের প্রচারের জন্য উপকারী।

    শাকসবজিঃ সুস্বাস্থ রক্ষায় শাকসবজির জুড়ি মেলা ভার। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক উপকারী টাটকা শাকসবজি। তাই নিউমোনিয়া রোগিদের খাবার তালিকায় বিভিন্ন শাকসবজি যেমন-কলমি শাক, পালং শাক, লাল শাক, ব্রকলি, ফুলকপি প্রভৃতি মৌসুমি সবজি রাখতে হবে। সাইট্রাস ফল খাওয়া আপনার ইমিউন সিস্টেমকেও শক্তিশালী করে।

    প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারগুলোর মধ্যে প্রদাহবিরোধি গুন রয়েছে। যার ফলে এ খাবারগুলো নিউমোনিয়া রোগিদের সুস্থ হতে সহায়তা করে। তাই খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন বাদাম যেমন-কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট ইত্যাদি, বিভিন্ন বীজ এবং মাংসসহ আরও অনান্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারগুলো রাখুন।

    দইঃ দই শরীরের উপকারী অণুজীব অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। প্রোবায়োটিকের উপস্থিতি নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। যেহেতু প্রোবায়োটিক পানীয়গুলি দইয়ের মতো একইভাবে শরীরে কাজ করে, তাই আপনি সম্ভবত সেগুলির আরও বেশি গ্রহণ করতে পারেন যদি সেগুলি সহজেই পাওয়া যায়। নিউমোনিয়ার জন্য আপনার ডায়েটে দই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে কারণ এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

    হলুদঃ হলুদ একটি মিউকোলাইটিক হিসাবে কাজ করে, যার অর্থ এটি শ্বাসনালী নালী থেকে শ্লেষ্মা এবং ক্যাটারা অপসারণ করতে সাহায্য করে, সহজে শ্বাস নেওয়ার অনুমতি দেয়। এমনকি এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ, যা বুকের অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। এটি দুধ বা চা দিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে।

    হাইড্রেশনঃ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত যে কারো জন্য হাইড্রেটেড থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তরল পান করা শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করে, যা এর নির্গমনকে সহজ করে এবং শ্বাসযন্ত্রের সিস্টেমে আর্দ্রতা বজায় রাখে। চমৎকার বিকল্পগুলির মধ্যে ভেষজ চা, ঝোল, স্যুপ এবং জল অন্তর্ভুক্ত।

    নিউমোনিয়া হলে কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

    নিউমোনিয়া রোগিদের খাদ্য তালিকায় উপরের বলা খাবারগুলো রাখতে হবে এবং ঠান্ডা খাবার, ঠান্ডা পানীয়, অতিরিক্ত লবন, স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। স্বাস্থকর খাবারগুলো নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেরে উঠাতে সাহায্য করে। নিউমোনিয়ার রোগীরা কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য থেকে উপসর্গের অবনতি বা ধীর পুনরুদ্ধার অনুভব করতে পারে। আপনার নিউমোনিয়া হলে নিচের খাবারগুলি এড়ানো উচিত।
    নিউমোনিয়া-হলে-কোন-খাবার-এড়িয়ে-চলা-উচিত
    লবনযুক্ত খাবারঃ ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের সোডিয়াম তরল ধরে রাখার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আপনার নোনতা মশলার ব্যবহার কমান এবং নিশ্চিত করুন যে আপনি যে খাবারগুলি কিনেছেন তাতে লেবেলগুলি পড়ে প্রতি পরিবেশন 300 মিলিগ্রামের বেশি লবণ নেই। এটি করা আপনাকে কম সোডিয়াম খেতে সাহায্য করবে।

    চিনিযুক্ত খাবার এবং পানীয়ঃ অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি খাবার (যেমন কেক, ক্যান্ডি, পানীয় ইত্যাদি) শরীরের ইনফ্লামেশন বাড়াতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। অত্যধিক চিনি খাওয়া প্রদাহকে আরও খারাপ করতে পারে এবং ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করতে পারে। চিনি-ভর্তি পানীয় যেমন সোডা এবং চিনি-মিষ্টি ফলের রস, মিষ্টি এবং পেস্ট্রি থেকে দূরে থাকুন।

    প্রক্রিয়াজাত খাবারঃ ট্রান্স ফ্যাট, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম সংযোজন সমৃদ্ধ খাবার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং সসেজ এবং হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন।

    দুগ্ধজাত দ্রব্যঃ দুগ্ধজাত দ্রব্য শ্লেষ্মা ঘন করতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়, যদিও কিছু লোকের এতে কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। দুগ্ধজাত দ্রব্য সীমিত বা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় যদি তারা শ্লেষ্মা উৎপাদনকে বাড়িয়ে তোলে।

    ভাজা এবং চর্বিযুক্ত খাবারঃ অত্যধিক তেল, ঘি, মাখন বা চর্বি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফ্রাইড ফুড, গরুর মাংস, পনির ইত্যাদি, যা শ্বাসযন্ত্রের জন্য ভারী হতে পারে। এগুলি হজম করা কঠিন হতে পারে এবং শরীরে আরও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ভাজা খাবার, উচ্চ চর্বিযুক্ত মাংস কাটা এবং স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন।

    অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইনঃ অতিরিক্ত কফি বা চা, যেগুলোর মধ্যে ক্যাফেইন থাকে, তারা শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে পারে এবং নিউমোনিয়ার মতো রোগের সময় শরীরের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন উভয়েরই ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকারক। উপরন্তু, অ্যালকোহল অনাক্রম্যতা নষ্ট করতে পারে, এবং অত্যধিক ক্যাফেইন জিটার এবং উচ্চ হৃদস্পন্দনের কারণ হতে পারে, যা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

    নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার শেষকথা

    নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যদিও নিউমোনিয়া ছোঁয়াচে নয়, তবে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া যা এর কারণ হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ফ্লু নিউমোনিয়ার কারণ হতে পারে এবং এটি সংক্রামক, যদিও ফ্লুতে আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকেরই নিউমোনিয়া হয় না। স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া, যে ব্যাকটেরিয়াটি প্রায়শই নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে, তা দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করে বা কাশি এবং হাঁচির মাধ্যমে একজন থেকে অন্য ব্যক্তিতে স্থানান্তরিত হতে পারে।

    ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়া সংক্রামক নয়। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার মতো, ছত্রাক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে স্থানান্তরিত হয় না। আশা করি নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url