ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা


ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। সাধারণত কফি বীজ থেকে কফি উৎপন্ন হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে কফি (Coffee) বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় পানীয়। বিশ্বের সকল দেশের মানুষ কফি পান করে থাকেন। তবে কিছুদিন আগেও কফির জনপ্রিয়তা তেমন ছিল না। সেই সময় মানুষ বেশিরভাগ সময় চা পান করতো।
ব্ল্যাক-কফি-খাওয়ার-উপকারিতা
কফি খেলে শরীর চাঙ্গা হয়। কফি বীজ ভালোভাবে ভেজে তারপর গুঁড়ো করতে হয়। ফুটন্ত গরম পানিতে কফির গুঁড়ো এবং চিনি দিয়ে কফি তৈরি করা হয়। ব্ল্যাক কফি এমন এক কফি যেখানে কোনো দুধ, ক্রিম বা অতিরিক্ত ফ্লেভারিং যোগ করা হয় না। এটি কেবলমাত্র পানির সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়, যা ক্যাফেইনের আসল স্বাদ ও অ্যারোমা বজায় রাখে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা

ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। ব্ল্যাক কফি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন, যা শরীর এবং মনের উভয় দিকেই সহায়ক। এই উপকারিতাগুলো শুধুমাত্র শরীরকেই শক্তি দেয় না বরং এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক  ভূমিকা পালন করে থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্ল্যাক কফি খাওয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিতঃ 
কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য উন্নত করেঃ ব্ল্যাক কফির নিয়মিত ব্যবহার আপনার রক্তচাপ বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে এই প্রভাব হ্রাস পাবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে দিনে এক বা দুই কাপ ব্ল্যাক কফি পান করলে স্ট্রোক সহ একাধিক কার্ডিওভাসকুলার ডিজঅর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এর মানে হল যে ব্ল্যাক কফি আপনাকে সময়ের সাথে সাথে একটি ভাল হৃদয় দেয়। সেই তুলনায় শরীরে প্রদাহও কমে।

লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়ঃ ব্ল্যাক কফির নিয়মিত ব্যবহার লিভার ক্যান্সার, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, হেপাটাইটিস এবং অ্যালকোহলযুক্ত সিরোসিস প্রতিরোধের সাথে সম্পর্কিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দিনে চার কাপ কালো কফি পান করেন তাদের যকৃতের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। কারণ ব্ল্যাক কফির গুণমান রক্তে উপস্থিত অস্বাস্থ্যকর লিভার এনজাইমের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করবে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়ঃ বয়স বাড়ার পারকিসন’স এবং আলৎঝাইমার’স রোগের কারণে মানুষের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ 'ব্ল্যাক কফি' মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ঠিক রাখে। ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি খাওয়া হলে তা ৬৫ শতাংশ আলৎঝাইমার’স এবং ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পারকিসন’স হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

যকৃত সুস্থ রাখেঃ শরীরের কার্যক্রম পরিচালনায় যকৃতের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্ল্যাক কফি যকৃতের ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, ফ্যাট ও অ্যালকোহলের কারণে হওয়া যকৃতের নানান সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যারা প্রতিদিন চার কাপের বেশি ব্ল্যাক কফি পান করেন তাদের যকৃতজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। কফি রক্তে যকৃতের ক্ষতিকর এনজাইম কমাতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সহায়তা করেঃ শরীরচর্চার কার্যকারিতা বাড়াতে শরীরচর্চা করার ৩০ মিনিট আগে ব্ল্যাক কফি পান করা ভালো। এটা বিপাক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সাহায্য করে। এটা পেটের মেদ কমাতেও সহায়তা করে। ব্ল্যাক কফি স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে শরীরের চর্বির কোষ ভেঙে ফেলে এবং গ্লাইকোজেনের বিপরীত শক্তির উৎস হিসেবে সংকেত দেয়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ ব্ল্যাক কফি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের সাথে সংযুক্ত হয়। নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করেঃ কফি একটি মূত্রবর্ধক পানীয়, যার মানে আপনি যত বেশি খাবেন, প্রস্রাব করার সম্ভাবনা তত বেশি। এটি নিশ্চিত করে যে প্রতিবার আপনি প্রস্রাব করার সময়, রাসায়নিক এবং ব্যাকটেরিয়া আপনার পেট থেকে ধুয়ে ফেলা হয়। এটি আপনার হজম পরিষ্কার করে এবং আপনাকে সাধারণভাবে নিরাপদ রাখে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়ঃ ব্ল্যাক কফি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ শরীরের কোষগুলিকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে, এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে লিভার ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এবং রেকটাল ক্যান্সারের মতো ক্যান্সারের নির্দিষ্ট ধরণের সংক্রামনের ঝুঁকি কমাতে ব্ল্যাক কফি অত্যন্ত কার্যকর।। শরীরে প্রদাহ কমানোর জন্য কফি চমৎকার, যা টিউমার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধঃ কালো কফির অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা এর সমৃদ্ধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সামগ্রীর জন্য দায়ী করা হয়। ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন B2, B3 এবং B5, সেইসাথে ম্যাঙ্গানিজ কালো কফিতে পাওয়া যায়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়ঃ ব্ল্যাক কফি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তে থাকা ক্যাফেইন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা প্রতিদিন ৩-৪ কাপ কফি পান করেন তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৫% পর্যন্ত কমে যায়।

পারকিনসন্সের ঝুঁকি কমায়ঃ কেউই নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার অনুভব করতে চায় না – বিশেষ করে যাদের পরিবারের সদস্য রয়েছে তারা এটির মধ্য দিয়ে যায়। পারকিনসন্স ডোপামিন হ্রাসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এবং ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ডোপামিনের পরিমাণ বাড়ায় বলে ব্ল্যাক কফি খেলে পারকিনসন্স হওয়ার ঝুঁকি কমে। নিয়মিত কফি পানকারীদের ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি 32-60 শতাংশ কমে গেছে।

বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করেঃ যারা দিনে চার বা তার বেশি কাপ ব্ল্যাক কফি পান করেন তাদের হতাশাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ২০% কম এবং আত্মহত্যা করার সম্ভাবনা ৫০% কম। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির কার্যক্ষমতা বাড়ায়, যা মেজাজ উন্নত করতে এবং বিষণ্নতা কমাতে সহায়ক। কফি পান করা আক্ষরিক অর্থে একটি জীবন রক্ষাকারী, এবং আমি চাই যে এই নির্দিষ্ট কারণে আরও বেশি লোক আরও প্রায়শই করবে।

আলঝেইমারের ঝুঁকি কমায়ঃ আলঝেইমার রোগ হলো একটি মস্তিষ্কের সমস্যা যা স্মৃতি এবং চিন্তার দক্ষতাকে নষ্ট করে, এমনকি সবচেয়ে সাধারণ কাজগুলোও সম্পাদন কঠিন করে তোলে। কফি পান করা আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি হ্রাসের সাথে যুক্ত। জার্নাল অফ অ্যালঝাইমার ডিজিজে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২-৩ কাপ কফি পান করলে ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমারের ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ কমে।

বাত রোগের বিরুদ্ধে কাজ করেঃ যারা দিনে চার কাপের বেশি ব্ল্যাক কফি পান করেন তাদের বাত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। কফির শক্তিশালী অ্যান্টিওক্সিডেন্ট শরীরের ইন্সুলিন ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে বাত বা গাউট রোগের ঝুঁকি কমায়। এমনকি বাত রোগ থাকলেও উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। আশা করি, ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

কফি কে প্রথম আবিষ্কার করেন

কফি কে প্রথম আবিষ্কার করেন এবং কফির উৎপত্তি নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে, তবে বেশিরভাগ ঐতিহাসিক কাহিনি ইথিওপিয়া ও আরব বিশ্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। কফি আবিষ্কারের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাহিনি ইথিওপিয়ার এক গবাদি পশুপালক কালদি (Kaldi)-কে নিয়ে। ধারণা করা হয়, ৯ম শতকে (বা তার কাছাকাছি সময়ে) কালদি লক্ষ্য করেন যে তার ছাগলগুলো এক ধরনের লাল রঙের ফল খাওয়ার পর অদ্ভুত রকম চঞ্চল ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
কৌতূহলবশত তিনিও সেই ফল খান এবং নিজেও একইরকম উদ্দীপনা অনুভব করেন। এরপর তিনি স্থানীয় এক সুফি দরবেশ বা ধর্মীয় ব্যক্তির কাছে এই ফল নিয়ে যান। সুফি দরবেশ প্রথমে এটিকে "শয়তানের সৃষ্টি" ভেবে আগুনে নিক্ষেপ করেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি পোড়া বীজের সুগন্ধ অনুভব করেন। এরপর তিনি সেই বীজ গুঁড়ো করে পানীয় তৈরি করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের প্রথম কফি (coffee) পানীয় হয়ে ওঠে।

এরপর ধীরে ধীরে কফির ব্যবহার আরব বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে ইয়েমেনের সুফি সাধুদের মধ্যে যারা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে এটি ব্যবহার করতেন। পরে এটি তুরস্ক, পারস্য, এবং ইউরোপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে Starbucks, Costa Coffee, Tim Hortons-এর মতো ব্র্যান্ড বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই গল্প লোককথার অংশ হলেও কফির উৎপত্তি যে ইথিওপিয়াতেই তা নিয়ে অনেক ঐতিহাসিক একমত।

সবচেয়ে বেশি কফি কোথায় উৎপাদন হয় 

বর্তমান সময়ে কফি ছাড়া মানুষের দিন শুরু হয় না। সকালে কফি না খেলে মনে হয় জীবনটা অপূর্ণ। তবে জানেন কি? সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদন হয় কোথায়? বর্তমান সময়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদনকারী দেশ হলো ব্রাজিল। ব্রাজিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কফির রপ্তানি করে থাকে। ব্রাজিলের ঢালু ভূমি এবং অনুকূল জলবায়ু কফি চাষের জন্য উপযুক্ত, যা দেশটিকে কফি উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রেখেছে।

ব্রাজিলের উষ্ণ আবহাওয়া ও উর্বর মাটি কফি চাষের জন্য আদর্শ। ব্রাজিল প্রায় ৪০% এর বেশি কফি সরবরাহ করে, যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। ব্রাজিলে প্রধানত আরবিকা (Arabica) এবং কিছু পরিমাণ রোবাস্তা (Robusta) কফি উৎপাদন করা হয়। দেশটির সাও পাওলো, মিনাস জেরাইস এবং এস্পিরিতো সান্তো প্রদেশগুলো কফি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। ব্রাজিল কফি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশাল কৃষি জমি ব্যবহার করে।

ব্রাজিলের পরবর্তী স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ, বিশেষ করে রোবাস্টা কফির জন্য বিখ্যাত। কলম্বিয়া উচ্চমানের আরবিকা কফির জন্য পরিচিত এবং ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতির জন্য বিখ্যাত। ইন্দোনেশিয়া মূলত রোবাস্টা কফি উৎপাদন করে, যা বাণিজ্যিক মিশ্রণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ইথিওপিয়া কফির জন্মস্থান হিসেবে বিবেচিত এবং অনন্য স্বাদ ও সুগন্ধযুক্ত কফির জন্য বিখ্যাত।

ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও কলম্বিয়া মূলত অ্যারাবিকা ও রোবাস্তা কফির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ। এই দেশগুলোও বৈশ্বিক কফি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস, এসপিরিটো সান্তো এবং সাও পাওলো অঞ্চলগুলি কফি উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই দেশগুলি তাদের অনুকূল জলবায়ু, কৃষি দক্ষতা এবং উচ্চ আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে কফি শিল্পে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ।

প্রাচীনকালে কফির কি ব্যবহার ছিল ‍

প্রাচীনকালে কফির ব্যবহার সম্পর্কে জানা যায়, কফির ইতিহাস প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। বিশ্বাস করা হয়, কফির উৎপত্তি ইথিওপিয়ায়। একটি প্রচলিত কাহিনী অনুসারে, নবম শতাব্দীতে খালদি নামের এক মেষপালক লক্ষ্য করেন যে তার ছাগলগুলো লাল রঙের একটি ফল খাওয়ার পর অত্যন্ত চঞ্চল হয়ে উঠছে। কৌতূহলবশত তিনি নিজেও সেই ফল চেখে দেখেন এবং সতেজতা অনুভব করেন। এই ফলই ছিল কফি চেরি।
প্রথমদিকে, কফি কেবল ফল হিসেবে বা গুঁড়ো করে পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইথিওপিয়া থেকে এটি আরব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে ইয়েমেনে, কফি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৫শ শতাব্দীতে সুফি সাধকেরা দীর্ঘ সময় জেগে থেকে প্রার্থনা করার জন্য কফি পান করতেন। তারা কফির উদ্দীপক প্রভাবকে আধ্যাত্মিক সাধনার সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করতেন। এরপর এটি মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য, তুরস্ক, এবং ধীরে ধীরে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

আরব দেশগুলোতে কফি "কাহওয়া" নামে পরিচিত হয়, যা থেকে "কফি" শব্দটি এসেছে। ১৬শ শতাব্দীতে কফি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং কফি হাউজ বা "ক্বাহভেহ খানেহ" প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কফি হাউজগুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তবে, কিছু ধর্মীয় নেতা কফির উদ্দীপক প্রভাব এবং কফি হাউজে হওয়া আলোচনাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য কফি নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।

১৬১৫ সালে কফি ইউরোপে প্রবেশ করে এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। প্রথমে কিছু ক্যাথলিক ধর্মযাজক কফিকে "শয়তানের পানীয়" বলে আখ্যা দিলেও, পোপ অষ্টম ক্লিমেন্ট স্বাদ গ্রহণের পর কফিকে অনুমোদন দেন। এরপর ইউরোপজুড়ে কফি হাউজ গড়ে ওঠে, যা বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পীদের মিলনস্থল হিসেবে পরিচিতি পায়। সুতরাং, প্রাচীনকালে কফি মূলত আধ্যাত্মিক সাধনা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো।

কফিতে বিদ্যমান পুষ্টিগুণ ও উপাদান

কফিতে বিদ্যমান রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ ও উপাদান। কফি কেবলমাত্র একটি জনপ্রিয় পানীয় নয়, এতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ ও উপাদান যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। কফির গুণাগুণ ও স্বাদ নির্ধারণকারী রাসায়নিক উপাদানগুলোকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রতিটি উপাদান কফির স্বাদ, সুগন্ধ, কার্যকারিতা এবং শরীরে প্রভাব ফেলে। নিচে কফিতে বিদ্যমান প্রধান উপাদান ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হলোঃ

১. ক্যাফেইনঃ প্রতি কাপ কফিতে সাধারণত ৪০-১৫০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে, যা কফির প্রকারভেদ ও প্রস্তুত প্রণালীর ওপর নির্ভর করে। এটি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম (CNS) উদ্দীপিত করে, যা মানসিক সতর্কতা বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে। ক্যাফেইন অ্যাডেনোসিন (Adenosine) নামে এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটারকে ব্লক করে, যা ঘুম-প্রবণতা কমায় এবং উদ্দীপনা বাড়ায়। এটি ডোপামিন (Dopamine) নির্গমনে সহায়তা করে, যা মানসিক চাঙা ভাব ও ভালো অনুভূতি তৈরি করে। আতিরিক্ত কফি গ্রহনের ফলে অনিদ্রা, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, উদ্বেগ বা নার্ভাসনেস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. কার্বোহাইড্রেটঃ প্রতি ১০০ গ্রাম কফিতে ০.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট রয়েছে কফির মূল শর্করা উপাদান হলো পলিস্যাকারাইড, যা কফির গঠন ও স্বাদে ভূমিকা রাখে। কফির শর্করা উপাদান ভাজা (roasting) করার সময় ক্যারামেলাইজ হয়ে কফির স্বাদে মিষ্টতা আনে। এগুলো কফির ঘনত্ব ও ক্রিমি ভাব বাড়ায়। ইনস্ট্যান্ট কফিতে বেশি পরিমাণ শর্করা থাকে, কারণ এতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যোগ করা হয়।

৩. প্রোটিন ও অ্যামাইনো অ্যাসিডঃ কফির বীজে প্রায় ৮-১২% প্রোটিন থাকে, যা রোস্টিং (ভাজা) করার সময় বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিডে বিভক্ত হয়। রোস্টিংয়ের সময় প্রোটিন ও অ্যামাইনো অ্যাসিড মেইলার্ড রিঅ্যাকশন (Maillard Reaction) এর মাধ্যমে নতুন সুগন্ধি যৌগ তৈরি করে। কফির সুগন্ধ ও রঙের জন্য এই রাসায়নিক বিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৪. লিপিড বা তেল জাতীয় উপাদানঃ কফির শুকনো ওজনের ১০-১৫% হলো লিপিড বা তেল জাতীয় উপাদান। বিশেষ করে আরবিকা (Arabica) কফির তুলনায় রোবাস্তা (Robusta) কফিতে লিপিড কম থাকে। এস্প্রেসো ও তেলযুক্ত কফিতে এই লিপিড কফির ক্রিমি ফেনা (crema) তৈরিতে সাহায্য করে। কফির তেল শরীরের কোলেস্টেরলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ফিল্টার ছাড়া কফি (French press, Turkish coffee) পান করলে।

৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা কোষের ক্ষতি রোধ করতে সহায়তা করে। কফির প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড যা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে এবং বিষাক্ত ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল দূর করতে সহায়ক। এছাড়াও কফিতে কুইনিক অ্যাসিড ও মেলানয়েডিনস বিদ্যমান রয়েছে। এই উপাদানগুলো প্রোবায়োটিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য ভালো।

৬. খনিজ ও ভিটামিনঃ কফিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদান এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী।কফিতে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ভিটামিনসমূহঃ

  • পটাসিয়াম (Potassium)
  • ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium)
  • ক্যালসিয়াম (Calcium)
  • সোডিয়াম (Sodium)
  • ভিটামিন বি২ (Riboflavin)
  • নিয়াসিন (Niacin/Vitamin B3)

৭. জৈব অ্যাসিডঃ কফির স্বাদ ও অম্লতা (acidity) নির্ভর করে এতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক অ্যাসিডের ওপর। কফিতে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিডসমূহঃ

  • সাইট্রিক অ্যাসিড (Citric Acid)
  • ম্যালিক অ্যাসিড (Malic Acid)
  • অ্যাসেটিক অ্যাসিড (Acetic Acid)
  • ফর্মিক অ্যাসিড (Formic Acid)
কফি কেবলমাত্র ক্যাফেইনের জন্য জনপ্রিয় নয়, বরং এর মধ্যে থাকা জটিল রাসায়নিক উপাদান গুলোই এর স্বাদ, সুগন্ধ এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নির্ধারণ করে। সঠিক মাত্রায় কফি পান করা দেহ ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্ল্যাক কফি বানানোর সঠিক নিয়ম

ব্ল্যাক কফি বানানোর জন্য আপনাকে সঠিক উপকরণ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এটি সহজ এবং ঘরেই তৈরি করা যায়, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখলে স্বাদ আরও উন্নত হবে। ব্ল্যাক কফি হলো এমন কফি, যেখানে কোনো দুধ, ক্রিম বা অতিরিক্ত ফ্লেভারিং যোগ করা হয় না। এটি কেবলমাত্র পানির সঙ্গে কফির মিশ্রণে তৈরি হয়, যা ক্যাফেইনের আসল স্বাদ ও অ্যারোমা বজায় রাখে। ব্ল্যাক কফি বানানোর সঠিক নিয়ম নিচে স্টেপ-বাই-স্টেপ দেওয়া হলোঃ

১. উপকরণ প্রস্তুত করা

  • কফি বিন বা গুঁড়াঃ তাজা কফি বিন ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে বানানোর আগে গুঁড়া করুন। তাজা গুঁড়া করা কফি স্বাদ ও গন্ধ অনেক উন্নত করে।
  • পানিঃ বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করুন। পানির তাপমাত্রা ৯২-৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৯৫-২০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখুন।
  • পানির অনুপাতঃ সাধারণত ১৮০ মিলি পানিতে ২ টেবিল চামচ কফি গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। তবে এটি আপনার পছন্দ অনুযায়ী সামান্য কমবেশি করতে পারেন।
২. কফি বানানোর পদ্ধতি

(ক) ইনস্ট্যান্ট কফি ব্যবহার করেঃ

  • একটি কাপে ১ চা চামচ ইনস্ট্যান্ট কফি পাউডার নিন।
  • ফুটন্ত গরম পানি কাপে ঢালুন এবং ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিন।
  • চিনি যোগ করতে চাইলে ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে নিন, তবে চিনি ছাড়াই খাওয়া স্বাস্থ্যকর।
(খ) ফ্রেশ কফি বিন ব্যবহার করেঃ

  • কফি বিন গুঁড়া করুন। মাঝারি গুঁড়া (ড্রিপ কফির জন্য) বা মোটা গুঁড়া (ফ্রেঞ্চ প্রেসের জন্য) ব্যবহার করুন।
  • ফুটন্ত পানি চুলা থেকে নামিয়ে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে11।
  • কফি গুঁড়া ফিল্টারে বা ফ্রেঞ্চ প্রেসে রাখুন এবং ধীরে ধীরে গরম পানি ঢালুন।
  • ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন (ফ্রেঞ্চ প্রেসের জন্য) বা পানির পুরোপুরি ফিল্টার হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৩. টিপস ও সতর্কতা

  • তাজা কফি ব্যবহারঃ কফি বিন বা গুঁড়া তাজা হলে স্বাদ অনেক ভালো হয়। গুঁড়া করা কফি এয়ারটাইট কন্টেইনারে সংরক্ষণ করুন। 
  • পানির গুণমানঃ ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করুন, কারণ পানির গুণমান কফির স্বাদে বড় প্রভাব ফেলে।
  • সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখুনঃ কফি মেশিন বা গ্রাইন্ডার নিয়মিত পরিষ্কার করুন, যাতে পুরনো তেল বা গুঁড়া স্বাদ নষ্ট না করে।
৪. উপকারিতা

ব্ল্যাক কফি শুধু স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে আপনি ঘরেই রেস্তোরাঁর মতো চমৎকার ব্ল্যাক কফি তৈরি করতে পারবেন।

রাতে কফি খেলে কি হয়

রাতে কফি খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত পরিমাণ না খাওয়া পড়ে। এতে করে শরীরের উত্তেজনা অনেক অংশে বেড়ে যাবে। এছাড়াও পাকস্থলীর সমস্যা হতে পারে। কফিতে ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক উপাদান হিসেবে কাজ করে, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে। তবে, রাতে কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে যা আপনার শরীর এবং ঘুমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আসুন, বিস্তারিত জানিঃ
রাতে-কফি-খেলে-কি-হয়
১. ঘুমের সমস্যাঃ ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এটি অ্যাড্রিনালিন এবং ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারদের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা আপনাকে সজাগ এবং চনমনে রাখে। রাতে কফি খাওয়ার ফলে আপনার মস্তিষ্ক আরও সক্রিয় হয়ে যায়, ফলে ঘুমের আগমণ ধীর হয়ে যায় বা আপনার ঘুমের গুণমান কমে যেতে পারে। ক্যাফেইন আপনার ঘুমের REM (Rapid Eye Movement) পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে, যা গভীর ও পুনর্জীবনীকৃত ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার ঘুমের সময়কাল এবং বিশ্রামের গুণমান কমাতে পারে।

২. শরীরের বায়োলজিক্যাল রিডিমঃ ক্যাফেইন শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm)—অথাৎ শরীরের প্রাকৃতিক ঘুম-জাগরণ চক্রকে বিঘ্নিত করতে পারে। সাধারণত, শরীর বিকেল ৪-৬টার মধ্যে ক্যাফেইন দ্রুত প্রক্রিয়া করতে শুরু করে, তবে রাত্রে এই প্রক্রিয়া শ্লথ হতে পারে এবং এটি ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৩. অবসাদ এবং ক্লান্তিঃ রাতে কফি খাওয়ার কারণে আপনি যতটা আশা করেন, ততটা শক্তি বা সতেজতা পাবেন না। ঘুমের অভাব আপনার মস্তিষ্ক এবং শরীরের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরের দিন ক্লান্তি, অবসাদ বা মনোযোগের অভাব অনুভব হতে পারে।

৪. দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবঃ নিয়মিত রাতে কফি খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি ঘুমের সময়কাল এবং গভীরতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের কারণে দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ, উদ্বেগ, এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।

৫. হজমের সমস্যাঃ রাতে কফি খাওয়ার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাগিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) হতে পারে। কফির অ্যাসিডিটি রাতের খাবারের পর হজমের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে আপনি হজমজনিত সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। কিছু মানুষ রাতে কফি খাওয়ার পর গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বমি ভাবও অনুভব করে।

কফি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

কফি খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং এটি আপনার শরীরের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বিস্তারিতভাবে বুঝতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে যা লক্ষ করা উচিত। যেকোনো সময় কফি খাওয়া ঠিক নয়। এতে করে বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকিতে পড়তে হয়। কফি শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় পানীয় নয়, বরং এর খাওয়ার সময়, পরিমাণ এবং উপাদানগুলোর ওপর নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য উপকারিতা বা ক্ষতির সম্ভাবনা। নিচে সেগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলোঃ

১. সকালে কফি খাওয়া উত্তমঃ সকালে কফি খাওয়া শ্রেষ্ঠ সময়, কারণ এটি আপনার শরীরকে সজাগ ও চনমনে করে এবং দিন শুরু করার জন্য শক্তি দেয়। এটি ক্যাফেইনের কার্যকারিতা দ্রুত অনুভূত হয় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। সকালে কফি খেলে এটি সারাদিনের কার্যক্ষমতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে এবং রাতে ঘুমের জন্য কোন সমস্যা হবে না।

২. খালি পেটে কফি খাওয়া এড়িয়ে চলুনঃ খালি পেটে কফি খাওয়ার ফলে আপনার পেটের অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পেটের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কফি খাওয়ার আগে কিছু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি আপনার পেটে অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং কফির প্রভাব সঠিকভাবে অনুভব করা যাবে।

৩. সীমিত পরিমাণে কফি পান করাঃ কফি একটি উদ্দীপক পানীয়, তাই অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারনত, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২-৪ কাপ কফি নিরাপদ। এর বেশি কফি খেলে উদ্বেগ, অনিদ্রা, এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আপনি কফি খাচ্ছেন, তবে চেষ্টা করুন ক্যাফেইনসহ অন্য কোন পানীয় (যেমন সোডা বা এনার্জি ড্রিঙ্কস) এড়িয়ে চলার। ক্যাফেইনের অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করতে পারে।

৪. দুধ ও চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুনঃ অতিরিক্ত চিনি বা দুধ কফির উপকারিতা কমিয়ে দেয় এবং ক্যালোরির পরিমাণ বাড়ায়। নিয়মিত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কফি পান করলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে এবং এটি দেহের শর্করা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এক কাপ কফিতে একটি ছোট চামচ চিনি এবং সামান্য দুধ ব্যবহার করা ভাল। আপনি চাইলে দুধের বিকল্প (যেমন সয়া বা বাদামের দুধ) ব্যবহার করতে পারেন, যা আরও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

৫. কফি খাওয়ার সময় পানি পান করুনঃ কফি পানে শরীরের পানি নিঃসরণ বাড়ে, তাই কফি খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কফি খাওয়ার সাথে সাথে ১-২ গ্লাস পানি পান করলে শরীর সঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে।

৬. ক্যাফেইন-মুক্ত বিকল্প গ্রহণ করাঃ যদি আপনি রাতে কফি খাওয়ার ইচ্ছা রাখেন তবে ডিক্যাফ কফি বা হার্বাল চা (যেমন ক্যামোমাইল বা পুদিনা চা) পান করা যেতে পারে, যা ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

৭. কফি খাওয়ার পর অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসঃ কফি খাওয়ার পর পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি। ভারী খাবার না খেলে শরীর দ্রুত কফির প্রভাব মেনে নিতে পারে। কফি খাওয়ার পর শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্ক আরও ভালোভাবে সক্রিয় হতে পারে এবং কফির প্রভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে। কফি ছাড়াও বিভিন্ন ক্যাফেইন-সমৃদ্ধ পানীয় (যেমন সোডা, এনার্জি ড্রিঙ্কস) এড়িয়ে চলা উচিত।

নিয়মিত কফি খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত কফি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে, যদি এটি সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে খাওয়া হয়। কফিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ এবং উপাদানগুলি আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। নিয়মিত কফি খাওয়ার বিস্তারিত উপকারিতা এবং এটি কীভাবে আপনার শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে, তার একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলোঃ
১. সতেজতা ও শক্তি বৃদ্ধি করেঃ কফিতে প্রধান উপাদান ক্যাফেইন, যা একটি শক্তিশালী উদ্দীপক (stimulant)। এটি আপনার মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে এবং মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়, যা আপনার কাজের দক্ষতাও বাড়ায়। এটি আপনার শরীরকে দ্রুত জাগ্রত করতে সাহায্য করে, বিশেষত সকালে বা দিনের শুরুতে ক্লান্তি দূর করতে।

২. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করেঃ কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা মস্তিষ্কের কাজের গতি বাড়ায় এবং মনে রাখতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন সংযোজন মেমরি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। এটি মনোযোগ এবং কনসেনট্রেশন (ধৈর্যশীল মনোযোগ) বাড়াতে সাহায্য করে, যা আপনার কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। এটি শর্ট-টার্ম মেমরি ও মেমরি রিট্রিভাল উন্নত করতে সাহায্য করে, ফলে আপনি দ্রুত তথ্য মনে রাখতে পারেন।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানঃ কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা দেহে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল (ক্ষতিকর উপাদান) প্রতিরোধ করতে সহায়ক। কফি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে স্বাস্থ্যবান রাখে। কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হৃদরোগ, ক্যান্সার, এবং প্যারকিনসন্স ডিজিজ (একটি স্নায়বিক রোগ) এর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৪. ওজন কমাতে সহায়কঃ কফি খাওয়ার ফলে মেটাবলিজম (শরীরের খাদ্য পরিপাকের গতি) বাড়তে পারে, যা আপনাকে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। এটি ওজন কমানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে। কফি খাওয়ার ফলে লিপোলাইসিস (ফ্যাট পোড়ানোর প্রক্রিয়া) উদ্দীপ্ত হতে পারে। এটি শরীরের এনার্জি লেভেল ও শারীরিক কার্যক্রম উন্নত করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়কঃ কফির ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য উপাদান টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি গ্লুকোজ বিপাক নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যা রক্তের শর্করার স্তরকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কফি ইনসুলিন (শরীরে শর্করা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন) এর কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

৬. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ নিয়মিত কফি খাওয়ার ফলে হার্ট ডিজিজ (হৃদরোগ) এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কফি পান করেন তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে। তবে, এটি অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভাল, কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

৭. মনে উদ্বেগ কমায়ঃ ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ডোপামিন এবং সেরোটোনিন এর নিঃসরণ বাড়ায়, যা মুড উন্নত করতে সাহায্য করে। এর ফলে মনোযোগ ও সতেজতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি আপনাকে উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। কফি খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন (সুখ হরমোন) নিঃসরণ হতে পারে, যা মানসিক শান্তি এবং ভালো অনুভূতির সৃষ্টি করে।

৮. লিভারের স্বাস্থ্যঃ নিয়মিত কফি খাওয়া লিভারের জন্যও উপকারী। যারা নিয়মিত কফি পান করেন, তাদের মধ্যে লিভার ডিজিজ (যেমন সিরোসিস বা হেপাটাইটিস) হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। কফি লিভারের প্রোটিন তৈরি ও ফাংশন ভালো রাখে এবং এটি লিভারকে সুস্থ রাখে।

৯. এলার্জি এবং ইনফেকশন কমায়ঃ কফি খাওয়ার ফলে শরীরের প্রদাহ কমানো সম্ভব হতে পারে, যা বিভিন্ন সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করতে পারে, যা আপনাকে ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ এবং অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।

১০. দীর্ঘ জীবনের জন্য সহায়কঃ বেশ কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত কফি খাওয়া কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং এটি দীর্ঘ জীবনের জন্য উপকারী হতে পারে। কফি খাওয়ার সাথে হৃদরোগ, ক্যান্সার, পারকিনসন্স ডিজিজের ঝুঁকি কমানোর সম্পর্কিত একাধিক প্রমাণ রয়েছে।

কিছু সতর্কতাঃ অতিরিক্ত কফি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, যেমন অনিদ্রা (Insomnia), উদ্বেগ (Anxiety), উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) ইত্যাদি। তাই কফি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ক্যাফেইন সংবেদনশীলতা ব্যক্তির মধ্যে ভিন্ন হতে পারে। কিছু মানুষ বেশি ক্যাফেইন খেলে সমস্যা অনুভব করতে পারেন।

দুধ কফি খাওয়ার উপকারিতা

দুধ কফি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা শুধুমাত্র কফি এবং দুধের একত্রিত গুণাবলী থেকে আসে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন এবং দুধের পুষ্টি উপাদান একসাথে শরীরের জন্য নানা রকম সুবিধা এনে দিতে পারে। নিচে দুধ কফি খাওয়ার কিছু উপকারিতা বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলোঃ

১. শক্তি বৃদ্ধি এবং সতেজতাঃ কফিতে থাকা ক্যাফেইন আপনাকে দ্রুত সতেজ করে তোলে এবং দিনের শুরুতে শক্তি প্রদান করে। এটি মনোযোগ, সজাগতা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দুধের মধ্যে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২ রয়েছে, যা শরীরের শক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। দুধের এই উপাদানগুলো কফির ক্যাফেইনের প্রভাবকে দীর্ঘস্থায়ী এবং মৃদু করতে সাহায্য করে।

২. পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখাঃ দুধ কফিতে থাকা প্রোটিন শরীরের পেশী তৈরি ও মেরামতে সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি আপনার হাড়ের শক্তি ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি১২ শরীরে শক্তির স্তর বৃদ্ধি করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুবিধাঃ কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার শরীরের কোষের ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে এবং আপনার শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। দুধ কফি খাওয়ার ফলে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বজায় থাকে এবং এটি আপনাকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যা aging (বয়সের সাথে সম্পর্কিত ক্ষতি) এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৪. হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যঃ দুধ কফি খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য হতে পারে। ক্যাফেইন এবং দুধের অ্যাশপার্টেট যৌথভাবে আপনার রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। দুধের মধ্যে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়।

৫. ওজন কমাতে সহায়কঃ ক্যাফেইন মেটাবলিজম বাড়ায় এবং আপনার শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট পোড়ানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। দুধের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম ফ্যাট সঞ্চয় কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তবে, অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার করলে এটি বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে, তাই দুধ কফিতে চিনির পরিমাণ কম রাখা উচিত।

৬. হজম প্রক্রিয়া উন্নত করাঃ দুধ কফি খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে। কফি গ্যাস্ট্রিক সিক্রেশন বৃদ্ধি করে এবং দুধের ক্যালসিয়াম পেটের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা হজমে সহায়ক হতে পারে।

৭. মনের প্রশান্তিঃ দুধের মধ্যে থাকা ট্রিপটোফান এবং কফির ক্যাফেইন মিলে আপনার মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে মনোযোগ এবং ভালো অনুভূতি সৃষ্টি করতে সহায়তা করে। দুধের প্রোটিন এবং কফির ক্যাফেইন স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে, যা মনের শান্তি বজায় রাখে।

৮. ঘুমের উন্নতিঃ দুধের মধ্যে থাকা ট্রিপটোফান এবং ক্যালসিয়াম ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে, কারণ এটি শরীরের মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) উৎপাদনকে উদ্দীপ্ত করে। তবে, রাত্রে দুধ কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মানুষে ঘুমের সমস্যা হতে পারে, কারণ কফির ক্যাফেইন শরীরের উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তবে দুধের উপস্থিতি ক্যাফেইনের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে দেয়।

৯. মুড বুস্টারঃ কফি এবং দুধের যৌথ প্রভাব আপনাকে উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। দুধের প্রাকৃতিক উপাদান মনোভাব উন্নত করে এবং কফির ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ভাল অনুভূতির জন্য ডোপামিন এবং সেরোটোনিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

১০. পেশী বৃদ্ধির সহায়কঃ দুধের প্রোটিন আপনার পেশী তৈরি ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। কফি এটি দ্রুত শোষণ করতে সাহায্য করে, ফলে শরীরের পেশী বৃদ্ধি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

কিছু সতর্কতাঃ দুধ কফিতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যেমন ওজন বাড়ানো বা ডায়াবেটিসের সমস্যা হতে পারে। অতএব, চিনির পরিমাণ কমিয়ে রাখুন। কিছু মানুষের শরীরে ক্যাফেইন বেশি প্রভাব ফেলে এবং এটি ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দুধ কফির পরিমাণ কমানো উচিত।

দুধ কফি খাওয়ার পরিমাণঃ দিনে ১-২ কাপ দুধ কফি খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত কফি খেলে হজম বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। খালি পেটে কফি খাওয়ার চেয়ে খাবারের সাথে দুধ কফি পান করা উচিত।এভাবে, দুধ কফি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি তার পুষ্টি উপাদান ও কফির কার্যকারিতা একসাথে উপভোগ করতে পারবেন।

কফি খাওয়ার উপযুক্ত সময় 

কফি খাওয়ার উপযুক্ত সময় নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার শরীর এবং মনকে প্রভাবিত করতে পারে। কফি খাওয়ার উপযুক্ত সময় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু সাধারণ নির্দেশিকা রয়েছে যা আপনাকে সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে সাহায্য করে। যদি আপনি কফি খাওয়ার সময়গুলোর দিকে একটু নজর দেন, তবে আপনি তার উপকারিতা বেশি পেতে পারেন। নিচে কফি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে কিছু বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলোঃ

সকালে ঘুম থেকে উঠেঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে কফি খাওয়া শরীরকে সতেজ এবং উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করে। এই সময় আমাদের শরীরে কোর্টিসোল (স্ট্রেস হরমোন) এর মাত্রা বেশি থাকে, যা আমাদের প্রাকৃতিক জাগরণের জন্য সাহায্য করে। তবে, কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, কোর্টিসোলের উচ্চ মাত্রা থাকলে অতিরিক্ত কফি খাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ক্যাফেইনের প্রভাবকে কমিয়ে দিতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে কফি খাওয়া উপযুক্ত। যদি আপনি প্রথম থেকেই কফি খান, তবে ক্যাফেইনের প্রভাব সর্বোচ্চ হবে।

কাজের বা পড়াশোনার সময়ঃ কফি খাওয়া মনোযোগ এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়। এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সহায়ক। কাজের ফাঁকে কফি পান করলে এটি আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং কাজের প্রতি উৎসাহ যোগায়। আপনি যদি পড়াশোনা বা কাজের সময় কফি পান করেন, তবে মধ্যাহ্ন বিরতির (lunch break) পরে বা সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে কফি খাওয়া উত্তম, যখন শরীরের কনসেনট্রেশন বা মনোযোগের প্রয়োজন বেশি থাকে।

ব্যায়ামের আগেঃ ব্ল্যাক কফি ব্যায়ামের আগে পান করা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। কফি খাওয়ার ফলে মেটাবলিজম এবং শক্তির স্তর বৃদ্ধি পায়, যা আপনাকে ব্যায়াম করার জন্য বেশি শক্তি ও উদ্দীপনা দেয়। বিশেষ করে যারা হাই-ইনটেনসিটি ওয়ার্কআউট করেন, তাদের জন্য ব্ল্যাক কফি প্রাক-ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ফ্যাট বার্ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। ব্যায়াম শুরুর ৩০-৪৫ মিনিট আগে কফি পান করা সঠিক হবে। এই সময় ক্যাফেইন শরীরের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং আপনার ব্যায়ামের সাফল্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

দুপুরে খাবারের পরঃ দুপুরের খাবারের পর কফি খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে এবং আপনার এনার্জি লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ডিপ্রেশন (মনে অবসন্নতা) দূর করতে সহায়ক হতে পারে। দুপুরের খাবারের পর ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে কফি খাওয়া উপকারী। তবে, যদি আপনি বেশি কফি পান করেন, তাহলে অনিদ্রা (insomnia) হতে পারে।

বিকালেঃ বিকেলে অনেকেরই শক্তি কমে যায় এবং ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। এই সময় কফি খাওয়া মানসিক ও শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একটি কাপ কফি পান করা ভালো, যাতে আপনি দিনের শেষের দিকে সতেজ এবং শক্তিশালী থাকতে পারেন। তবে, এই সময় অতিরিক্ত কফি খেলে রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

রাতে কফি খাওয়াঃ রাতে ব্ল্যাক কফি পান করা উচিত নয়। রাতের বেলায় কফি খাওয়ার ফলে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে, কারণ ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে এবং এটি আপনার ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। রাতে কফি খাওয়া এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে, যদি খুব প্রয়োজন হয়, তবে রাত ৭টার আগে কফি খাওয়া উচিত, যাতে এটি আপনার ঘুমে বাধা না দেয়।

দীর্ঘ যাত্রা বা বিমানযাত্রার আগেঃ বিমানযাত্রার বা দীর্ঘ যাত্রার আগে কফি খাওয়ার ফলে আপনি সতেজ থাকতে পারেন এবং যাত্রার সময় ক্লান্তি কমে যেতে পারে। যাত্রার ৩০ মিনিট আগে কফি খাওয়া সঠিক হবে। এটি আপনাকে জাগ্রত রাখতে সাহায্য করবে।

সতর্কতাঃ এক দিনে ৩-৪ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো, কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, বা রক্তচাপ বৃদ্ধি। কিছু মানুষের শরীরে ক্যাফেইন বেশি প্রভাব ফেলে এবং তাদের ঘুমে সমস্যা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে কফি খাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।নির্বাচিত সময় অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ কফি খাওয়া আপনার শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে সবসময় পরিমিত এবং সঠিক সময়ে কফি পান করা উচিত।

ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অপকারিতা

ব্ল্যাক কফি খাওয়ার কিছু অপকারিতা রয়েছে, বিশেষত যদি আপনি অতিরিক্ত কফি খান বা শরীরের অন্যান্য সমস্যা থাকে। তবে, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে ব্ল্যাক কফি খাওয়া আপনার জন্য উপকারী হতে পারে, যেমন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং শক্তি বৃদ্ধি করা। অতিরিক্ত ব্ল্যাক কফি খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিচে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অপকারিতাগুলো আলোচনা করা হলো।
ব্ল্যাক-কফি-খাওয়ার-অপকারিতা
অতিরিক্ত ক্যাফেইনের প্রভাবঃ ব্ল্যাক কফিতে প্রচুর ক্যাফেইন থাকে, যা মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে। যদি আপনি রাতে ব্ল্যাক কফি খান, তবে এটি আপনার ঘুমের প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে, কারণ ক্যাফেইন এড্রেনালিন (স্ট্রেস হরমোন) এর উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা আপনার ঘুমের চক্র ব্যাহত করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলে শরীরে উদ্বেগ বা টেনশন বাড়তে পারে। এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন এবং সেরোটোনিন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে, যা উদ্বেগ বা অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের দিনে ২-৩ কাপের বেশি ব্ল্যাক কফি পান করা উচিত নয়।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যাঃ ব্ল্যাক কফি পেটে অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। বিশেষত যদি খালি পেটে ব্ল্যাক কফি খাওয়া হয়, তবে এটি অম্বল বা পেটের অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।কফি অতিরিক্ত খেলে গ্যাস্ট্রাইটিসের (পেটের ভিতরে প্রদাহ) সমস্যা হতে পারে, যা পেটব্যথা, পেটফুল ভাব এবং আরও অনেক সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই, ব্ল্যাক কফি খাওয়ার আগে কিছু খাবার খাওয়া উচিত। এছাড়া, যদি আপনি গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাহলে কফির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

হাড়ের ক্ষতিঃ কফিতে থাকা ক্যাফেইন ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে হাড়ের শক্তি কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিন কফি খাওয়ার ফলে হাড় দুর্বল হতে পারে। এটি অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ভঙ্গুরতা) সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত যদি আপনার ক্যালসিয়ামের অভাব থাকে।
আয়রন শোষণে বাধাঃ ব্ল্যাক কফি আয়রনের শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যারা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের ব্ল্যাক কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত এবং খাবারের সাথে কফি না খাওয়া ভালো। আয়রনের শোষণ উন্নত করতে, আপনি আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি গ্রহণ করতে পারেন।

রক্তচাপ বৃদ্ধিঃ অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষত যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ব্ল্যাক কফি খাওয়া খারাপ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কফি খাওয়া হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এটি রক্তচাপ এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা প্রভাবিত করতে পারে। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাহলে কফি পান করার আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

ঘুমের সমস্যাঃ ব্লাক কফিতে প্রচুর ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক, যা ঘুমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আপনি ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাহলে রাতে কফি পান করা এড়িয়ে চলা উচিত। সন্ধ্যার পর কফি খেলে তা আপনার ঘুমের গুণগত মান কমাতে পারে।

বিষণ্নতাঃ অতিরিক্ত ব্ল্যাক কফি খাওয়ার ফলে শরীরে সেরোটোনিন (মনোভাব নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন) এর মাত্রা কমতে পারে, যা বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে শরীরের সুষম শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, এবং একাধিক মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় সমস্যাঃ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত ব্ল্যাক কফি খাওয়া ভালো নয়। কফির ক্যাফেইন শিশুর শরীরে প্রবাহিত হতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, কম ওজন এবং মেধার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর জন্য, গর্ভাবস্থায় কফি খাওয়ার পরিমাণ কম রাখা উচিত।

অ্যাডিকশন বা আসক্তিঃ ক্যাফেইনের প্রতি অ্যাডিকশন বা আসক্তি হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত ব্ল্যাক কফি খাওয়ার ফলে, আপনি যদি একদিন কফি না পান, তবে এটি আপনার শরীরে হেডেক (মাথাব্যথা), থাকথুক এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, কারণ আপনার শরীর ক্যাফেইনের অভ্যস্ত হয়ে যায়।

সতর্কতাঃ ব্ল্যাক কফি খেতে হলে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। সাধারণত ১-৩ কাপ কফি দিনে খাওয়া নিরাপদ। তবে, যদি আপনি অতিরিক্ত কফি পান করেন, তবে উপরে উল্লেখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি যদি ইতিমধ্যে গ্যাস্ট্রিক, হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তবে কফি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

শেষ কথা ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা দুটিই রয়েছে। এ কারণে পরিমাণ মতো কফি খাওয়া উত্তম। অতিরিক্ত কফি কফি খেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে এটি খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত। এটি মেটাবলিজম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি পর্যন্ত বিভিন্ন দিক থেকে শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং খালি পেটে কফি পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রতিদিন কফি পান করা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশে কফির জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে ব্ল্যাক কফি অনেকেই খায়, সঠিক পদ্ধতি এবং সময় মেনে ব্ল্যাক কফি পান করলে আপনি এর উপকারিতা পাবেন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে এটি একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে। ব্ল্যাক কফি কেবলমাত্র একটি পানীয় নয়, এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ, যা আপনার শরীর এবং মনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url