তারাবির নামাজের নিয়ম-তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ

তারাবির নামাজের নিয়ম-তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ জানতে পারবেন এই পোস্টে। রমজান মাস হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমতের মাস। এই রমজান মাসে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসলিম জাতি তারাবি নামাজ আদায় করবেন। দীর্ঘ একবছর পর পর রমজান এলেই রাতের তারাবির নামাজ পড়তে হয়।
তারাবির-নামাজের-নিয়ম-তারাবির-নামাজের-মোনাজাত
তাই রমজানের শুরুতেই মুমিন মুসলমান তারাবি নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও মোনাজাত শেখার বা প্রস্তুতি নেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেয়। তাই তারাবি নামাজ পড়ার প্রস্তুতিতে, তারাবির নামাজের নিয়ম-তারাবির নামাজের মোনাজাত ও দোয়া সম্পর্কে আজকে আমি এই পোস্টের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

পোস্ট সূচিপত্রঃ তারাবির নামাজের নিয়ম-তারাবির নামাজের মোনাজাত

তারাবির নামাজ কত রাকাত

তারাবির নামাজ কত রাকাত এটা নিয়ে অনেক মতোবিরোধ রয়েছে। তবে আমরা জানি যে তারাবির সালাত দুই দুই রাকত করে পড়তে হয়। তারাবির নামাজের রাকআত নির্দিষ্ট করা হয়নি। বিভিন্ন মাজাহাভের লোকজন ভিন্ন সংখ্যক রাকাত তারাবির নামাজ পড়ে থাকেন। যেমন ধরুনঃ হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির নামাজ পড়েন।
তারাবির নামাজ সাধারণত ২০ রাকাত। তবে অনেক স্থান এবং মসজিদে ৮ রাকাত পড়ার প্রচলনও রয়েছে। তবে তারাবি নামাজ আট নয়, বিশ রাকাত হিসেবেই প্রমাণিত। কেউ কেউ হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ২০ রাকাত তারাবি বিষয়ক হাদিসটিকে সূত্রের বিচারে অনির্ভরযোগ্য প্রমাণ করলেও, বিশুদ্ধ সূত্রে সাহাবায়ে কেরামের আমলই প্রমাণ করে যে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে সাহাবায়ে কেরাম বিশ রাকাতের শিক্ষা পেয়েছেন।

বিস্তারিতঃ

  • হানাফি, মালিকি, ও হাম্বলি মাযহাবে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়া সুন্নাত।
  • শাফেয়ি মাযহাবে ২০ রাকাত সুন্নাত, তবে অতিরিক্ত পড়লেও কোনো সমস্যা নেই।
  • কিছু মুসলিম ৮ রাকাত তারাবি পড়েন, কারণ হাদিসে নবী (সা.)-এর তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইলের সাথে সম্পর্কিত বর্ণনায় ৮ রাকাতের উল্লেখ আছে।
কিভাবে পড়বেনঃ

  • প্রতি ২ রাকাত করে সালাম ফেরাতে হয়।
  • প্রতি ৪ রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয় (যাকে তারাবি বলা হয়)।
  • ২০ রাকাত শেষ হলে বিদায়ী বিতির নামাজ পড়া হয়।
সংক্ষেপেঃ

  • ৮ বা ২০ রাকাত পড়া যায়, তবে ২০ রাকাত পড়াই অধিক প্রচলিত এবং সুন্নাত।
  • তারাবির নামাজ জামাতে পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
  • ইমামের অনুসরণ করাই উত্তম, যদি তিনি ২০ রাকাত পড়ান, তবে ২০ রাকাত পড়াই ভালো।

আপনার এলাকায় কীভাবে পড়া হয়?

তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

তারাবির নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা, অর্থাৎ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। আমরা অনেকেই ইচ্ছাকৃত ভাবে বা অলসতার কারনে এই বিশেষ ফজিলত পূর্ণ ইবাদাত থেকে বঞ্চিত থাকি। তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সুন্নতে মুআক্কাদা ওয়াজিবের মতই। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ এই নামাজ নিয়মিত পড়েছেন এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আদায়ের সুপারিশ করেছেন।
যেহেতু তারাবির নামাজ নবী (সা.) নিয়মিত পড়েছেন এবং সাহাবিরাও একে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাই একে সাধারণ নফল বলা যাবে না। বরং এটি সুন্নতে মুআক্কাদা, অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যা আদায় করা উচিত। রমজান মাসে এশার নামাজের পর মুসলিম উম্মাহ বিশেষ এক নামাজ আদায় করে, যা তারাবির নামাজ নামে পরিচিত। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়— এটি কি সুন্নত নাকি নফল? আসুন কুরআন, হাদিস, সাহাবিদের আমল এবং ফকিহদের মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত আলোচনা করি।

দলিলসমূহঃ

১. কুরআনের দলিলঃ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন: "আর রাতে কিয়াম করো কুরআনসহ। (সূরা মুজ্জাম্মিল: ২) এখানে "কিয়াম" বলতে তারাবি ও তাহাজ্জুদ উভয় নামাজকে বোঝানো হয়েছে।

২. হাদিস থেকে প্রমাণ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ (তারাবি) পড়ে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (বুখারি: ৩৭, মুসলিম: ৭৫৯)

৩. সাহাবিদের আমলঃ হযরত উমর (রা.) তারাবির নামাজকে জামাতে আদায়ের ব্যবস্থা করেন এবং মুসলিমরা একে নিয়মিত সুন্নত হিসেবে গ্রহণ করেন।

নফল না হওয়ার কারণঃ যেহেতু এটি রাসুল (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদিনগণ গুরুত্বসহকারে আদায় করেছেন এবং মুসলিমদের জন্য তা প্রচলিত করেছেন, তাই একে সাধারণ নফল বলা যায় না। বরং এটি এমন সুন্নত, যা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।

সিদ্ধান্তঃ তারাবির নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা, এটি আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের সুন্নত পরিপালনের অংশ।

অর্থাৎঃ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহী করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুআক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহী করতে হবে। তাই পূর্বে যারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তারাবির নামাজ পড়েননি তারা সকলেই এই সালাত আদায় করবেন। কেননা ওয়াজিব তরককারীর জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়ে যেতেও পারে। তবে শাস্তিও পেতে পারে। – আল্লামা জুরজানী রাহ)

তারাবির নামাজ জামাতে আদায় করা সুন্নতঃ হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক রাতে মসজিদে নামাজ আদায় করেন, সাহাবিরাও তাঁর সাথে নামাজ পড়েন। দ্বিতীয় রাতে সাহাবিদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তৃতীয় রাতে আরও বেশি লোক একত্রিত হলে তিনি বের হননি এবং বলেন, আমি বের না হওয়ার কারণ হলো, আমি ভয় পাচ্ছি যে, এটি তোমাদের ওপর ফরজ হয়ে যেতে পারে।" (বুখারি: ১১২৯, মুসলিম: ৭৬১)

এ থেকে বোঝা যায়, তারাবি নামাজ রাসুল (সা.) জামাতে আদায় করেছেন, কিন্তু ফরজ হওয়ার আশঙ্কায় নিয়মিত জামাত চালু করেননি।

তারাবির নামাজের নিয়ম

তারাবির নামাজের নিয়ম হলো এশা’র চার রাকাত ফরজ নামাজ ও ২ রাকাত সুন্নত আদায় করার পর এবং বিতর নামাজের আগে তারাবীহ্ নামাজ আদায় করতে হয়। আর এ নামজকেই ‘তারাবির নামাজ’ বলা হয়। রমজান মাস যেহেতু মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক ফজিলত পূর্ণ মাস, তাই এই মাসে অধিক সওয়াব পেতে আপনারা তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন। আর এই তারাবি নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়।
যেমন, দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরিয়ে আবার দুই রাকাত পড়ে নামাজ শেষ করা। এভাবে ৪ রাকাত আদায় করার পর একটু বিশ্রাম নেয়া। বিশ্রামের সময় তাসবিহ-তাহলিল পড়া, দোয়া-দরূদ ও জিকির আজকার করা। তারপর আবার দুই দুই রাকাত করে আলাদা আলাদা নিয়তে তারাবি আদায় করা। এভাবেই আপনারা তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন।

একনজরেঃ

  • এশার চার রাকাত সুন্নত।
  • এশার চার রাকাত ফরজ।
  • এশার দুই রাকাত সুন্নাত।
  • দুই রাকআত দুই রাকআত করে তারাবির সালাত।
  • এশার তিন রাকাত বেতের।
তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়াঃ

سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.

উচ্চারণঃ সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুব্হানাযিল ইয্যাতি, ওয়াল আয্মাতি, ওয়াল হাইবাতি, ওয়াল কুদরাতি, ওয়াল কিবরিয়াই, ওয়াল যাবারুত। সুব্হানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

প্রত্যেক দুই রাকাত পর সালাম ফিরানোর পরে ইসতেগফার পড়তে হয়, দুরুদ পড়তে হয়, আল্লাহর স্মরণে জিকির করতে হয়। তারপর চার রাকাআ’ত হলেও কুরআন হাদিসের দুআ’গুলো পড়া হয়; যে দুআ’গুলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পড়া হয়। কিন্তু তারাবির যে দুআ’টি বর্তমানে জারি আছে, এই দুআ’টি কোরআন-হাদিস সম্বলিত নয়, এটিও কোনো এক বুজুর্গ ব্যক্তি লিখে এর প্রচলন করেছেন, যার অর্থও ভালো বিধায় আমরা পড়ে থাকি।

অনেকেই নামাজটির আরবি নিয়ত করে থাকেন, তবে আমাদের মাঝে যারা আরবি নিয়তের দোয়াটি জানেন না তারা চাইলে বাংলাতেই নিয়ত করতে পারেন। রমজান মাস এলেই অনেকেই রয়েছেন যারা কিনা তারাবি নামাজের নিয়ম, তারাবি নামাজের আরবি নিয়ত, তারাবি নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ ও দোয়া খুঁজে থাকেন।

তারাবির নামাজের নিয়ত আরবিতে

তারাবির নামাজ পবিত্র রমজান মাসে এশার নামাজের পর আদায় করা একটি সুন্নতে মু'আক্কাদাহ ইবাদত। এটি দুই রাকাত করে আদায় করা হয়, এবং সাধারণত ৮ বা ২০ রাকাত পর্যন্ত পড়া হয়। প্রতি চার রাকাত পর পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়, যাকে 'তারাবি' বলা হয়, যার অর্থ বিশ্রাম। আর এ নামজকেই ‘তারাবির নামাজ’ বলা হয়। তারাবির নামাজের নিয়ত চাইলে আরবি বা বাংলায় করতে পারেন। আরবিতে নিয়ত করার প্রচলিত পদ্ধতি নিম্নরূপঃ

তারাবি নামাজের আরবি নিয়তঃ

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

যদি কেউ আরবিতে নিয়ত করতে অসুবিধা বোধ করেন, তবে বাংলায়ও নিয়ত করতে পারেন। নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা, তাই এটি মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। তারাবি নামাজের নিয়ত আরবিতেই করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবেঃ

বাংলায় নিয়তঃ আমি কেবলামুখি হয়ে দুই রাকাআত তারাবির সুন্নতে মুয়াাক্কাদাহ নামাজের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার। (জামাআত হলে যোগ করতে হবে এ ইমামের পেছনে পড়ছি)।

তারাবির নামাজের নিয়মঃ

  • এশার নামাজের পর: এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজ আদায়ের পর তারাবির নামাজ শুরু হয়।
  • দুই রাকাত করে আদায়: তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে পড়া হয়।
  • বিশ্রাম: প্রতি চার রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় তাসবিহ, তাহলিল বা দোয়া পড়া যেতে পারে।
  • বিতর নামাজ: তারাবির নামাজ শেষে বিতর নামাজ আদায় করা হয়।
তারাবির নামাজের ফজিলতঃ হাদিসে বর্ণিত আছে, 'যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম (তারাবি) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।' (বুখারি ও মুসলিম) তারাবির নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং এটি মুমিনের ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে তারাবির নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

তারাবি নামাজের দোয়া

তারাবিহ নামাজের পর বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই, তবে সাধারণভাবে মাগফিরাত, রহমত ও নাজাতের জন্য দোয়া করা যেতে পারে। তবে, তারাবি নামাজের জন্য একটি প্রসিদ্ধ দোয়া রয়েছে যেটা বহুল প্রচলিত একটি দোয়া। দোয়াটি ব্যাপকভাবে পড়ার কারণে অনেক মানুষেরই তা মুখস্থ। প্রতি চার রাকাত পরপর অনেক জায়গায় তারাবিহ নামাজের পর পড়া হয়, দোয়াটি হলোঃ

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ، اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ، اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ۔

উচ্চারণঃ সুবহানা-জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা-জিল ইয্যাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি। সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা- ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা-ওয়া রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররূহ।

অর্থঃ সমস্ত মহিমা সেই মহান সত্তার যিনি সমস্ত রাজত্ব ও শক্তির অধিকারী, সমস্ত মহিমা সেই সত্তার যিনি সম্মান, মহত্ব, ভয়, শক্তি, গৌরব ও কর্তৃত্বের অধিকারী। মহিমা সেই মহান রাজাধিরাজের, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনো ঘুমান না এবং মৃত্যুবরণ করেন না। তিনি পবিত্র ও মহাপবিত্র, আমাদের রব এবং সমস্ত ফেরেশতা ও রূহের রব। হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

এছাড়া, তারাবিহ নামাজের পর যেকোনো দোয়া করা যেতে পারে, বিশেষ করে আস্তাগফার, দুরুদ শরিফ এবং জান্নাতের প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করাই উত্তম। আপনি চাইলে আরবি বা বাংলায় নিজের ভাষায়ও দোয়া করতে পারেন।

তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ

তারাবির নামাজের মোনাজাতে দোয়া কুনুত, সাধারণ মসনূন দোয়া ও ব্যক্তিগত দোয়া করা যায়। তবে কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো বেশি পড়ার চেষ্টা করা উচিত, কারণ এগুলোই সবচেয়ে উত্তম ও বরকতময়। তারাবির নামাজের পর মোনাজাত করা মুস্তাহাব। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত, তারাবিহ নামাজ শেষে একটি বিশেষ মোনাজাত বা প্রার্থনা করা হয়, যা আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত, এবং আশীর্বাদ কামনা করে।
তারাবির-নামাজের-মোনাজাত-বাংলা-অর্থ-সহ
তারাবির নামাজের মোনাজাতঃ

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ – الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ– بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّا-رُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ – الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাস – আলুকাল জান্নাতা-ওয়া নাউ জুবিকা মিনান-নার। ইয়া খলিক্বাল জান্নাতি ওয়ান-নার। বিরাহ – মাতিকা ইয়া আঝিঝুইয়া গফফা- ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া – বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান-নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমিন।

তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থঃ আমি পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর, যিনি ইহ জগৎ ও পর জগতের মালিক। সেই আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করছি যিনি মহিমাময়, শক্তিময়, গৌরবময় এবং বৃহত্তর। আমি সেই প্রতিপালকের গুণগাণ করছি, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনও নিদ্রা যান না এবং যার কখনও মৃত্যু ঘটে না।

এছাড়াও তারাবির নামাজ শেষে বিভিন্ন দোয়া পড়া হয়, তার মধ্যে অন্যতম হল দোয়া কুনুত ও অন্যান্য মসনূন দোয়া।

(১) দোয়া কুনুত (ওয়াক্ত নামাজের দোয়া)

اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِيْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ كُلَّهُ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ، اَللّٰهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّيْ وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعَىٰ وَنَحْفِدُ، نَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ، اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحَقٌ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা ওয়া নুমিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইরা, ওয়ানাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়ানাখলা’ ওয়ানাতরুকু মান ইয়াফজুরুক। আল্লাহুম্মা ইইয়্যাকা না’বুদু ওয়া লাকা নুসল্লী ওয়া নাসজুদু, ওয়াইলাইকা নাস’আ ওয়া নহফিদু, ওয়া নারজু রহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা, ইন্না আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।

বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই কাছে ক্ষমা চাই, তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি, তোমারই উপর ভরসা করি এবং তোমার প্রশংসা করি। আমরা তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং অকৃতজ্ঞতা করিনা। যারা তোমার অবাধ্যতা করে, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি ও বিচ্ছিন্ন থাকি।

হে আল্লাহ! আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি ও সিজদা করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও উপস্থিত হই। আমরা তোমার দয়া কামনা করি এবং তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার শাস্তি কাফেরদের জন্যই নির্ধারিত।

(২) তারাবির নামাজের পর বিশেষ মোনাজাত

اللهم اجعلنا من التوابين، واجعلنا من المتطهرين، واجعلنا من عبادك الصالحين، واغفر لنا ولوالدينا ولجميع المسلمين، برحمتك يا أرحم الراحمين

বাংলা অর্থঃহে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর, পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর, তোমার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর। আমাদেরকে, আমাদের পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলমানকে ক্ষমা করো, হে দয়াময় পরম দয়ালু!

(৩) মসজিদে প্রচলিত সংক্ষিপ্ত মোনাজাত

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

বাংলা অর্থঃ হে আমাদের রব! তুমি আমাদের (ইবাদত-বন্দেগি) কবুল করো, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আর আমাদের প্রতি দয়া করো, নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

হে আল্লাহ! আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমারই সামনে সিজদা করি। আমরা তোমারই উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টা চালাই এবং তাড়িত হই। আমরা তোমার রহমত আশা করি ও তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার শাস্তি কাফিরদের জন্য অবধারিত।

পুতঃ পবিত্র মহান আল্লাহ। তিনি আমাদের, ফেরেশতাকুল ও আত্মাসমূহের পালনকর্তা। আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ বা মাবুদ নেই, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমরা আপনার কাছে বেহেশত চাচ্ছি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাচ্ছি।

তারাবি নামাজ শেষ করে এই দোয়াটি আপনি পড়লে অনেক ফজিলত পেয়ে যাবেন। তবে আপনি চাইলে এই দোয়াটি একবারে তারাবি পড়া শেষে বেতের নামাজ আদায়ের পরেও করতে পারবেন। কেননা এটি নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট বিধি নিষেধ নাই। আপনারা যদি কখনো মসজিদে জামাতের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, প্রত্যেক চার রাকাত পর পর একটু বেশী সময় ধরে ইমাম বসে থাকেন। ওই সময়ে ইমাম এবং মুসল্লিরা খুব দ্রুততার সাথে কিছু দোয়া পাঠ করে থাকেন।

তারাবির নামাজ শেষে মোনাজাতের গুরুত্বঃ এই মোনাজাতটি পড়ার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে তাদের গুনাহ মাফের জন্য এবং তাঁর রহমত ও আশীর্বাদ লাভের জন্য আবেদন করে। এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, যা রমজান মাসের বিশেষ রাতগুলোতে বেশি করে পড়া হয়। তারাবির নামাজের পর আল্লাহর দরবারে বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করা উচিত। এতে গুনাহ মাফ হয়, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা যায়। রমজান মাসে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়, তাই তারাবির নামাজের পর দীর্ঘ মোনাজাত করাটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

তারাবির চার রাকাত নামাজের দোয়া অর্থ সহ

তারাবির নামাজের প্রতি চার রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়, যাকে 'তারাবিহা' বলা হয়। এই সময়টিতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আমাদের দেশে একটি দোয়া প্রচলিত আছে, যা অনেক মসজিদে পড়া হয়। এই দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি না পড়লেও তারাবির নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর যে দোয়া পড়া হয়, তা নিম্নে আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সহ দেওয়া হলোঃ

দোয়াঃ

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

বাংলা উচ্চারণঃ সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়াই ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

বাংলা অর্থঃ মহান সেই সত্তা, যিনি রাজত্ব ও আধিপত্যের অধিকারী। মহিমা সেই সত্তার, যিনি সম্মান, মহত্ত্ব, প্রভাব, ক্ষমতা, গৌরব ও প্রতাপের অধিকারী। পবিত্র সেই চিরঞ্জীব বাদশাহ, যিনি কখনো ঘুমান না এবং কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তিনি সর্বদা পবিত্র ও পবিত্রতম। তিনি আমাদের এবং ফেরেশতাদের  ও রূহের প্রতিপালক।

দোয়ার গুরুত্বঃ এই দোয়াটি তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পরপর পড়া হয়। এটি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রার্থনা করে। যদিও এই দোয়াটি কুরআন বা হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে এটি ইসলামী স্কলারদের দ্বারা প্রস্তাবিত এবং মুসলিম সম্প্রদায়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

দোয়া পড়ার পদ্ধতিঃ তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত শেষে কিছুক্ষণ বসে এই দোয়া পড়া যায়। এটি জামাতের সাথে বা একাকী নামাজ পড়ার সময়ও পড়া যেতে পারে। দোয়াটি নিম্নস্বরে পড়া উচিত যাতে অন্যান্য মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত না ঘটে।

দোয়ার ফজিলতঃ এই দোয়াটি পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের আশা করা যায়। এটি মুসলিমদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে এবং রমজানের রাতগুলোর ইবাদতকে আরও অর্থবহ করে তোলে। এই দোয়াটি পড়ার মাধ্যমে মুসলিমরা আল্লাহর মহিমা ও ক্ষমতার কথা স্মরণ করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ও জান্নাতের জন্য প্রার্থনা করে। এটি রমজান মাসের বিশেষ ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরবিতে চার রাকাত তারাবি নামাজ শেষের দোয়া

তারাবির নামাজ হলো রমজান মাসের বিশেষ নফল নামাজ, যা এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর আদায় করা হয়। সাধারণত ২০ রাকাত অথবা ৮ রাকাত পড়া হয়। প্রত্যেক ৪ রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়, যাকে তারাবি (تَرَاوِيح) বলা হয়, যার অর্থ "বিশ্রাম গ্রহণ"। এই বিরতির সময় তাসবিহ, দোয়া বা যিকির করা সুন্নত। দখে নিন আরবিতে চার রাকাত তারাবি নামাজ শেষের দোয়া

তারাবির নামাজের আরবি দোয়াঃ

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

বাংলা অর্থঃ আল্লাহ পবিত্রময় সাম্রাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমায় না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময় আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিবরাইলের (আ.) প্রতিপালক।

তারাবির নামাজের আরবি দোয়াঃ

اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ العَلِيمُ، وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا إِنَّكَ أَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে (এই ইবাদত) কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। আমাদের তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আমাদের ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

দোয়ার ব্যাখ্যা ও গুরুত্বঃ

১. تَقَبَّلْ مِنَّا আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের নামাজ ও ইবাদত কবুল করেন।আল্লাহ কাদের ইবাদত কবুল করেন তা কুরআনে উল্লেখ আছে: إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ (নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ইবাদত কবুল করেন) – সূরা মায়িদা: ২৭

২. إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ العَلِيمُ আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ, অর্থাৎ তিনি আমাদের দোয়া শুনেন এবং আমাদের অন্তরের অবস্থাও জানেন।

৩. وَتُبْ عَلَيْنَا আমরা আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ বারবার তওবা গ্রহণ করেন এবং তাঁর দয়া অসীম।

৪.وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا আমরা ক্ষমা এবং রহমত চাইছি, কারণ আল্লাহর ক্ষমা ছাড়া কেউ মুক্তি পাবে না।

৫. إِنَّكَ أَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ আল্লাহ সবচেয়ে দয়ালু, তাই আমরা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ চাই।

তারাবির প্রতি ৪ রাকাত শেষে আরও কিছু দোয়া পড়তে পারেন

১. ছোট একটি দোয়াঃ

 اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنَا مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদেরকে পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

২. সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস (তিনবার পড়া যায়)

سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ

উচ্চারণঃ সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস

অর্থঃ পবিত্র মহান মালিক, যিনি একমাত্র পবিত্র।

এই দোয়াটি হাদিসে এসেছে যে, তাহাজ্জুদ ও বিতির নামাজের পর পড়া হয়, তবে তারাবির বিরতিতে পড়লেও কোনো ক্ষতি নেই।

তারাবির নামাজ শেষে অন্যান্য দোয়া তারাবির নামাজ শেষে যেকোনো দোয়া করা যায়। কয়েকটি দোয়া:

  • আস্তাগফিরুল্লাহ তিনবারঃ  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
  • দরুদ শরিফ পাঠঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
  • সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার করে পড়া
  • কোনো ব্যক্তিগত দোয়া ও ইস্তিগফার

তারাবি নামাজের মোনাজাত

তারাবি নামাজের মোনাজাত সাধারণত শেষ রাকআতের পরে পড়া হয়। এটি একটি দোয়া বা প্রার্থনা যা মুসলিমরা আল্লাহর কাছে একান্তে ফরিয়াদ জানানোর জন্য পাঠ করে থাকেন। এছাড়া, তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া হয়, এই সময়টিতে তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ এবং অন্যান্য ইবাদত করা যায়।  এখানে কয়েকটি সাধারণ তারাবি নামাজের মোনাজাত দেওয়া হলোঃ

তারাবি-নামাজের-মোনাজাত

তারাবি নামাজের মোনাজাত

اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الَّذِينَ يَقُومُونَ لَيْلَ الرَّمَضَانِ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَاعْفُ عَنَّا وَفِرَّجْ عَنَّا فِي دُنْيَا وَآخِرَتِهِ

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদেরকে রমজান মাসের রাতগুলোতে ইমান ও ইহতিসাবের সাথে সালাত আদায়কারী বানিয়ে দিন। আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের উপর দয়া করুন, আমাদের ভুল মাফ করুন, এবং আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কষ্ট মুক্তি দিন।

এটি একটি উদাহরণ, তবে সাধারণত মোনাজাতের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবার সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া, তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর একটি দোয়া পড়া হয়, যা আরবি উচ্চারণে নিম্নরূপঃ

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ أَبَدًا أَبَدَ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

উচ্চারণ:
সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

অর্থঃ মালিকত্ব ও রাজত্বের অধিকারী, ইজ্জত, মহিমা, ভয়াবহতা, ক্ষমতা, গৌরব ও জবরদস্তির অধিকারী, সৃষ্টিকর্তা, জীবন্ত ও চিরস্থায়ী সত্তা, যিনি কখনো ঘুমান না এবং কখনো মৃত্যুবরণ করেন না, তিনি পবিত্র, তিনি পবিত্র, তিনি আমাদের পালনকর্তা এবং ফেরেশতাগণের ও রূহের পালনকর্তা।

এছাড়া, তারাবি নামাজের মোনাজাতে আল্লাহর কাছে জান্নাতের জন্য প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা চাওয়া হয়। এমন একটি মোনাজাতের উদাহরণ আরবি উচ্চারণে নিম্নরূপঃ

اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ بِرَحْمَتِكَ يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيمُ يَا جَبَّارُ يَا خَالِقُ يَا بَرُّ اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيرُ يَا مُجِيرُ يَا مُجِيرُ بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থঃ হে আল্লাহ, আমরা তোমার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। হে জান্নাত ও জাহান্নামের স্রষ্টা, তোমার রহমতের মাধ্যমে। হে পরাক্রমশালী, হে ক্ষমাশীল, হে দানশীল, হে পর্দাশীল, হে দয়ালু, হে জবরদস্ত, হে স্রষ্টা, হে নেককার। হে আল্লাহ, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। হে রক্ষাকারী, হে রক্ষাকারী, হে রক্ষাকারী। তোমার রহমতের মাধ্যমে, হে সর্বাপেক্ষা দয়ালু।

তারাবির নামাজ নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

এখন আমি এই পর্যায়ে তারাবির নামাজ নিয়ে যেসমস্ত প্রশ্ন করা হয় সেগুলোর সহজ উত্তর দিবো। আপনি চাইলে এখান থেকে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন তারাবির নামাজ সম্পর্কেঃ

১. প্রশ্নঃ তারাবির নামাজ কত রাকাত?

উত্তরঃ হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

২. প্রশ্নঃ খতম তারাবীহ এবং সূরা তারাবীহ কি?

উত্তরঃ বাংলাদেশে তারাবীহর নামাজের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত। একটি খতম তারাবীহ আর অন্যটি সূরা তারাবীহ। খতম তারাবীহর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করা হয়। খতম তারাবীহর জন্য কুরআনের হাফিযগণ ইমামতি করেন। সূরা তারাবীহর জন্য যেকোন সূরা বা আয়াত পাঠের মাধ্যমে সূরা তারাবীহ আদায় করা হয়।

৩. প্রশ্নঃ তারাবির নামাজ কেন পড়ব?ফযিলত কি?

উত্তরঃ রাসূল(সাঃ) বলেছেন,”যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব পাওয়ার আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে ,তার অতিতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।(বুখারি ও মুসলিম

৪. প্রশ্নঃ তারাবি নামাজ না পড়লে গুনাহ হবে?

উত্তরঃ অবশ্যই গুনাহ হবে।কারন তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদ্দাহ(নামাজে যেসব সুন্নত পালন না করলে নামাজ মাকরুহ হয়) ।বিনা ওজরে তারাবির নামাজ ছেড়ে দিলে কবিরা গুনাহ হবে।

৫. প্রশ্নঃ তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে?

উত্তরঃ রোজা হবে। কারন রোজা ফরয ইবাদত এর সাথে তারাবির সংযোগ আছে কিন্তু তুলনা করাটা বোকামো। বিনা ওজরে তারাবি ছেড়ে দিলে রোজা মাকরুহ হবে।

৬. ১২ রাকাত তারাবির নামাজ পড়া যাবে কি?

উত্তরঃ সহীহ আল বুখারীর একটি হাদিস অনুসারে, তারাবিহ নামায আট রাকাত। রাসুল (সাঃ) আট রাকাত তারাবীহ নামাযের ইমামতি করেছেন। তারাবীহের নামায প্রতিটি দুই রাকাতের সেটে করা হয়, যেভাবে আপনি আপনার স্বাভাবিক সালাত আদায় করেন। সবচেয়ে ছোটটি দুই রাকাত এবং দীর্ঘতমটি ২০ রাকাত।

শেষকথা তারাবির নামাজের নিয়ম-তারাবির নামাজের মোনাজাত

উপরের আলোচনা যদি আপনি মনযোগ সহকারে পড়তে পারেন তাহলে আপনি তারাবির নামাজের নিয়ম-তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ একদম সহজ ভাবে বুঝতে পারবেন। তাই তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ জানতে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ুন। তারাবির নামাজ পবিত্র রমজান মাসের একটি বিশেষ ইবাদত, যা এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর বেতরের আগে আদায় করা হয়। 'তারাবি' শব্দটি আরবি 'তারবিহাতুন' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বিশ্রাম বা আরাম করা। প্রতি চার রাকাত পর পর বিরতি দিয়ে এই নামাজ আদায় করা হয় বলে একে তারাবি বলা হয়।

তারাবির নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদাহ, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় সাহাবিদের সম্মিলিতভাবে জামাতে তারাবির নামাজ আদায়ের প্রচলন শুরু হয়, যা আজও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রচলিত। রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। তাই, এই পবিত্র মাসে তারাবির নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url