গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস

গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস সম্পর্কে জেনে আপনি আপনার ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে পারবেন। গরমকালের তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে ত্বক থেকে অধিক পরিমাণে ঘাম নিঃসরণ হয়। এতে করে ত্বকের কোষগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। গরমে ত্বক সতেজ রাখার জন্য পর্যাপ্ত  পানি ও তরল জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।
গরমে ত্বকের যত্নে
গরমকালে ত্বক সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিনের ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য একটি রুটিন করে রাখতে পারেন। গরমকালে ব্যবহার করা যায় এমন ঘরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন একটি ফেসপ্যাক তৈরি করে ত্বকে এপ্লাই করতে পারেন। গরমে ত্বক সুস্থ রাখার জন্য জেনে নিন গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস।

পেইজ সূচিপত্রঃগরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস

গরমে ত্বকে যেসব সমস্যা দেখা দেয়

গরমে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি ও রোদের কারণে। অতিরিক্ত গরমে ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং শুষ্ক হয়ে পড়ে। রোদ ও ধূলোবালি স্নিগ্ধ ও সতেজ ত্বকের বড় শত্রু। রোদের পোড়াভাব ত্বকে খুব তাড়াতাড়ি বসে যায়। লোমকূপে ময়লা জমে মুখে ব্রণ হয় এবং রোদের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। গরমে ত্বকের কিছু সাধারণ সমস্যা হলোঃ
১. ত্বকের রুক্ষতাঃ অতিরিক্ত গরমে আবহাওয়া আদ্রতা হারায় বলে অনেকের ত্বক তখন রুক্ষ মলিন হয়ে যায়। ত্বকের রুক্ষতার কারণে কারো কারো ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয় এবং চামড়া খসখসে যায়। শুধু মুখের ত্বক নয় পুরো শরীরের ত্বক তখন রুক্ষ ও শরীর নিজস্ব প্রাকৃতিক তেল হারিয়ে ফেলে। গরমকালে আমাদের শরীর ঘেমে যায় বলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যার ফলে আমাদের শরীরের পানির চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা হয় না ফলে শরীর ভেতর থেকে হাইড্রেড না থাকার ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়।

২. ঘামাচিঃ অতিরিক্ত ঘাম ও গরমের কারণে ঘামাচি বা হিট র‍্যাশ হতে পারে। এটি ঘাড়, কুঁচকি, পিঠ, বগল ও বুকে বেশি দেখা যায়। প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা এবং নিয়মিত গোসল করা উচিত। ঘামাচি হলে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. ছত্রাক সংক্রমণঃ কিছু ছত্রাক মানব দেহে ইনফেকশন সৃষ্টি করার জন্য দায়ী। গরমের সময় এসব ছত্রাকের অত্যধিক বৃদ্ধি দেখা যায়। এ ধরণের সংক্রমণ দেহের যেকোনো স্থানেই হতে পারে। ইনফেকশনের ফলে লালচেভাব, ফোসকা, জ্বালাভাব, চুলকানি ইত্যাদি নানা ধরণের লক্ষন দেখা দেয়।অনেক সময় গরমে ঘামে ভিজে ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ঘাম হলে মুছে ফেলা, পোশাক পরিবর্তন এবং আক্রান্ত স্থানে পানি ও সাবান ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া উচিত। ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৪. ব্রণঃ গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে রোমকূপের বন্ধ হয়ে যায়, এছাড়াও গরমে ত্বক থেকে অতিরিক্ত সিবাম নিঃসৃত হয়। এর কারণেই মূলত গরমের সময় ব্রণের প্রবনতা অন্যান্য সময় থেকে বৃদ্ধি পায়৷ আমাদের মুখের ত্বকে ব্রণ উঠলে আমরা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করে থাকলে গরমে মুখ সহ পিঠ, কাঁধ, পেট বিভিন্ন স্থানে ব্রণ উঠে থাকে৷ এ সব ব্রণ অনেক সময় ব্যথাযুক্ত হয়ে থাকে। ভালো করে বারবার মুখ ধুতে হবে যেন তেল-ময়লা জমে না থাকে। প্রসাধনীর ব্যবহার কমিয়ে ফেলা এবং বাইরে থেকে এলে মুখমণ্ডলে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া বা বরফ ঘষে নেওয়া যেতে পারে।

৫. সানবার্নঃ অতিরিক্ত কড়া রোদে সরাসরি গেলে ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ পরতে পারে, অনেক সময় লাল হয়ে তা ফুলে যায় ও ব্যথা করে। সরাসরি সূর্যের আলো ত্বকের উপর পড়লে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে অবহেলা করে সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি স্কিনের ক্ষতি হয়। সূর্যের আলোর মাধ্যমের ত্বক পুড়ে গেলে সেখানে র‍্যাশ ও চুলকানির মতো সমস্যা হতে পারে। ঘাম ও সরাসরি সূর্যের আলো প্রভাবে ত্বকে একটি অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়ে থাকে। রোদে মুখ লাল হয়ে গেলে অতিসত্বর ঠান্ডা পানির ঝাপটা নেওয়া, প্রচুর পানি পান করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. অ্যালার্জিঃ কিছু মানুষ সারা বছরই এলার্জির সমস্যার সম্মুখীন হলেও গরমের সময় তার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। এর কারণ অতিরিক্ত তাপ ও তার ফলে সৃষ্ট হওয়া ঘাম। এছাড়া গরমকালে যে কোন পণ্য ও মেকআপ সামগ্রী অসচেতন ভাবে ব্যবহার করলেও এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রীর রাসায়নিক পদার্থ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এ সময় প্রসাধনী ও সানব্লক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

এছাড়া, গরমে ত্বকের শুষ্কতা, লাল ফুসকুড়ি এবং পিম্পলসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা এড়াতে সঠিক ত্বক পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস

গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস বা সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় অতিরিক্ত ঘাম, তেল, ধুলোবালি এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে, যেমন ব্রণ, র‍্যাশ, ট্যানিং, ত্বক শুষ্ক বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া। তাই এই সময় ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। নিচে গরমে ত্বকের যত্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো, এই টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার ত্বক গরমেও থাকবে উজ্জ্বল, সতেজ ও সুস্থ।
নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখাঃ বাইরে বের হলে ধুলাবালি ও ঘামের কারণে ত্বক ময়লা হয়ে যায়। তাই দিনে ২-৩ বার হালকা ক্লিনজিং ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-ভিত্তিক ফেসওয়াশ, আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমি ফেসওয়াশ ভালো। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করে লোমকূপ বন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করবে। সপ্তাহে ২-৩ দিন স্ক্রাব করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়। চিনি ও মধুর মিশ্রণ বা বেসন ও দুধের স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন।

সানস্ক্রিন ব্যবহারঃ সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে, রোদে পোড়া (Sunburn), কালো দাগ, এবং ত্বকের অকালবার্ধক্যের কারণ হতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন, বিশেষ করে চোখের নিচের নমনীয় ত্বকের জন্য। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেলবিহীন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে SPF ৩০-৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারঃ অনেকেই ভাবেন গরমে ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই। কিন্তু এটি ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। হালকা ওয়াটার-বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকের নমনীয়তা কমে যায়, আর নমনীয়তা কমে গেলে ত্বকে ফাটল ধরে এবং বার্ধক্যের ছাপ ফুটে উঠে চেহারায়। শুষ্ক ত্বকের খসখসেভাব দূর করার জন্য এবং বলিরেখা পড়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সবসময় ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। রাতে শোবার আগে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।

পর্যাপ্ত পানি পানঃ গরমের দিনে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, যা ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন করে তোলে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। এটি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, যা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। ত্বক স্বাভাবিকভাবে ময়েশ্চারাইজ থাকে ও উজ্জ্বল দেখায়। তরমুজ, শসা, কমলালেবুর মতো পানিযুক্ত খাবার বেশি খান।

প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক ব্যবহার করুনঃ গরমে ত্বক সতেজ রাখতে বেসন, টক দই ও লেবুর রস মিশিয়ে ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এটি অতিরিক্ত তেল কমাতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে ঘরোয়া উপাদানে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসন, টক দই ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু, কলার মিশ্রণ বা দুধ ও ওটস ব্যবহারে ত্বক ময়েশ্চারাইজ করবে। সানট্যান দূর করতে টমেটোর রস, হলুদ ও দই মিশিয়ে লাগান।

হালকা ও সুতির পোশাক পরিধানঃ হালকা রঙের সুতির পোশাক পরিধান করুন, যা ত্বককে শ্বাস নিতে সাহায্য করবে এবং অতিরিক্ত ঘাম থেকে রক্ষা করবে। গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে ত্বকের র‍্যাশ, চুলকানি বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। হালকা রঙের সুতির পোশাক পরলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে এবং ঘামের সমস্যা কমে।

সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহারঃ রোদে বাইরে বের হলে সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করুন। এটি চোখ ও ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করবে এবং রোদে পোড়া সমস্যা কমায়, পাশাপাশি আপনার মধ্যে একটা স্মার্ট লুক নিয়ে আসবে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাঃ ত্বকের যত্ন শুধু বাইরের দিকে করলেই হবে না, ভেতর থেকেও পুষ্টি দিতে হবে। গরমে ত্বকের যত্নের জন্য ভেতর থেকে পুষ্টি দেওয়া জরুরি। বেশি করে তাজা ফল, শাক-সবজি, ডাবের পানি, দই ও সালাদ খান এবং ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। এটি ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ভিটামিন C ও E সমৃদ্ধ খাবার খান (কমলালেবু, লেবু, শসা, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ)। ডাবের পানি ও টক দই খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

রাতে ত্বকের যত্নঃ সারাদিনের ধুলো-ময়লা ও মেকআপ পরিষ্কার করে ঘুমাতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন, যা ত্বকের পুনর্গঠনে সাহায্য করবে।। এটি ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে। ঘুমানোর আগে ঠাণ্ডা গোলাপজল মুখে লাগালে ত্বক সতেজ থাকবে।

হালকা ও ন্যাচারাল মেকআপ করুনঃ গরমের দিনে ভারী মেকআপ করলে ত্বক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই অয়েল-ফ্রি প্রোডাক্ট ও মিনিমাল মেকআপ ব্যবহার করুন। অয়েল-ফ্রি ফাউন্ডেশন বা BB ক্রিম ব্যবহার করুন। মেকআপের আগে প্রাইমার লাগালে ত্বক ম্যাট থাকবে। ভারী লিপস্টিকের বদলে লিপ টিন্ট বা লিপ বাম ব্যবহার করুন।

গরমকালে ত্বকের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ে অতিরিক্ত গরম, ঘাম, ধুলোবালি, ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। উপরোক্ত টিপস অনুসরণ করে আপনি গরমের সময় ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে পারেন এবং ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে পারেন। আশা করছি গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস জেনে উপকৃত হয়েছেন।

গরমে কেন ত্বকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন

গরমে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এই সময়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রচণ্ড গরমে ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট করে। এছাড়া, অতিরিক্ত ঘাম ও ধুলাবালির কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, র‌্যাশ এবং ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে, ফলে ত্বকে কালো দাগ ও বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তাই, গরমে ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা উচিত। শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত সবাই গরমকালে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এর প্রধান কারণ হলো গরমে শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি হয়, ফলে ত্বক হয়ে পড়ে নিষ্প্রাণ এবং বিবর্ণ। তাছাড়া গরম কালে ত্বকে পর্যাপ্ত যত্ন না নিলে ফুসকুড়ি-ব়্যাশ, চুলকানি, প্রচন্ড পরিমাণে ঘাম, ত্বকের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা তৈরি হয়।

গ্রীষ্মকালে শরীরে পানি শূন্যতার কারনে ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠার পাশাপাশি চোখের চারপাশ কালো হতে থাকে। গরমে শরীরের পাশাপাশি ত্বকও পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এতে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও নিস্তেজ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক মসৃণতা হারায় এবং সহজেই র‍্যাশ ও জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। গরমকালে অত্যাধিক পরিমাণে ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেলে ত্বকের প্রদাহ শুরু হয় যা পদ্ধতিগতভাবে ত্বককে ব্রেকডাউন করে দেয়।

গরমে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়

গরমে ত্বকের যত্নে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। ত্বকের সুস্থতার প্রতিও বাড়তি খেয়াল রাখুন নইলে ত্বক হয়ে পড়বে নিষ্প্রাণ। গরমে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে পর্যাপ্ত। তাতে ত্বকের কোষও থাকবে সতেজ। ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি যেমন পূরণ করতে হবে, তেমনি ঘামে চিটচিটে হয়ে যাওয়া ত্বক পরিষ্কারও রাখতে হবে ঠিকঠাক। তবেই ত্বক থাকবে সুস্থ, উজ্জ্বল। নিচে গরমে ত্বকের যত্নের জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় উল্লেখ করা হলো।

নিয়মিত মুখ ধোয়াঃ প্রচণ্ড গরমে মুখ ঘেমে যেতে পারে বা অস্বস্তি বোধ হতে পারে। এজন্য কিছু সময় পর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে বা মাঝে মধ্যে ঠান্ডা পানির ঝাপটা চোখে-মুখে দিলে আরাম বোধ করবেন। এতে করে মুখে জ্বালা ভাব থাকলে সেটাও কমে যাবে। তেলতেলে ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি ও গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

পানি ও অন্যান্য তরল পানঃ বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। পরিমিত পানি পান না করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে। সেই সাথে আপনার ত্বকও শুষ্ক হওয়াসহ আরও অনেক ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ত্বকের ক্ষতি হয়, ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয় ও উজ্জ্বলতা হারায়। এজন্য প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক।

মুখ পরিষ্কার রাখাঃ গরমের দিনে মুখের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য ভালো মানের ওয়াটার বেজড ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বককে তেলতেলে বা চিটচিটে করবে না, ত্বক ভালো রাখবে। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর মুখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ভালো।

গোসলের সময় সতর্কতাঃ গরমে প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করা আবশ্যক। প্রয়োজনে কেউ কেউ দুই থেকে তিনবারও গোসল করতে পারে। গোসলের সময় ত্বকের ময়লা পরিষ্কারের জন্য আমরা সবাই সাবান ব্যবহার করে থাকি। আমরা জানি, সাবানে ক্ষার বিদ্যমান থাকে, যা আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তবে ক্ষারের মাত্রা যেন অতিরিক্ত না হয়। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভালো মানের শাওয়ার জেল পাওয়া যায়, যা ব্যবহারে ত্বক বেশি শুষ্ক হয় না। সেই সাথে গোসলের পর লোশনও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহারঃ রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান এবং প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর পুনরায় প্রয়োগ করুন।

মুলতানি মাটির ফেস প্যাকঃ গরমে ঘাম থেকে নিস্তার পেতে মুলতানি মাটির গুণাবলি অনেক। মুলতানি মাটির সাথে শসার রস ও টমেটো পেস্ট করে ফেস প্যাক বানিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করবে।

অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারঃ অ্যালোভেরা জেল ত্বককে শীতল রাখতে সাহায্য করে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। এটি সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করতে পারেন বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে মিশিয়ে ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

সুষম খাদ্যাভ্যাসঃ ত্বকের সুস্থতার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। একবারে বেশি পানি পান না করে দুই-এক ঘণ্টা পরপর পরিমিত পরিমাণে পানি পান করুন।

গরমে ত্বকের যত্নে ফেসপ্যাক ব্যবহার

গরমে ত্বকের যত্নে ফেসপ্যাক ব্যবহার করা উপকারী। গরমের সময় ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় অতিরিক্ত ঘাম, তেলতেলে ভাব, ব্রণ এবং র‌্যাশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত গরমকালে হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই স্কিন কেয়ার করা সম্ভব। গরমকালে মুখের রূপচর্চায় নিচের ফেসপ্যাক গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

পুদিনা পাতা ও টক দইঃ পুদিনা পাতা সেবাম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, আর টক দই ত্বকের পিএইচ মাত্রা বজায় রাখে এবং শীতলতা প্রদান করে। ২ টেবিল চামচ টক দই ও এক মুঠো পুদিনা পাতা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন এবং টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

গ্রিন টি ও মধুঃ গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের ছোট ছোট রন্ধ্রে জমে থাকা তেল দূর করে এবং ব্রণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। ২ টেবিল চামচ ঠান্ডা গ্রিন টি ও কয়েক ফোঁটা মধু একসাথে মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইবার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

শসা ও লেবুর রসঃ প্রয়োজন মত শসা থেকে রস বের করে নিয়ে এর সাথে এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে কিছুটা সময় ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে শসার রস ডিপ ফ্রিজে কিউব করে সংরক্ষণ করতে পারেন যা পরবর্তীতে ফ্রিজ থেকে বের করেই মুখে হালকা ভাবে ঘষতে পারেন।

শসার রস, টক দই, বেসন ও মধুঃ ২ চা চামচ শসার রসের সাথে ১ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে প্রয়োজন মত পরবর্তীতে বেসন মিশিয়ে একটি ঘন ফেসপ্যাক তৈরি করুন। গরমকালের ত্বক প্রাণবন্ত করতে এবং ত্বকের কালো দাগ দূর করতেই ফেস প্যাকটি কার্যকরী।

চন্দনের গুড়া ও তরল দুধঃ দুই চামচ চন্দনের গুড়ার সাথে প্রয়োজন মত কাঁচা তরল দুধ মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন মুখে লাগালে গরমকালে ত্বক সতেজ থাকবে। এবং ত্বকের বলি রেখা ও ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

মুলতানি মাটি ও অ্যালোভেরা জেলঃ মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি,১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল একত্রে সব উপকরণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

গুড়া দুধ, মসুর ডাল ও ডাবের পানিঃ ১ টেবিল চামচ গুড়া দুধের সাথে ১ টেবিল চামচ মসুর ডাল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি তরল করার জন্য প্রয়োজন মতো ডাবের পানি ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি ২০ মিনিট মুখে লাগালে গরম কালের রোদে পোড়া দাগ দূর হবে।

হলুদ গুঁড়া ও অ্যালোভেরা জেলঃ ১ চা চামচ হলুদ গুড়ার সাথে সমপরিমাণ অ্যালোভেরা জেলি মিশিয়ে মুখ এবং হাতে-পায়ে লাগাতে পারেন। এতে করে গরমে ত্বক টানটান থাকবে এবং তেল চিটচিটে ভাব দূর হবে।

চিনি এবং অলিভ অয়েলঃ গরমকালে ত্বক মসৃণ রাখার জন্য চিনি এবং অলিভ অয়েলের মিশ্রণ মুখে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই মিশ্রণটি লাগালে ত্বক থাকবে মসৃণ এবং উজ্জ্বল।

চালের গুড়া ও তরমুজের রসঃ গরমে ত্বকে কালচে দাগ পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করুন তরমুজের রস। তরমুজের রসের সাথে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন চালের গুড়া। এই মিশ্রণটি মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই গরমের তেল চিটচিটে ভাব দূর হবে।

হলুদ গুঁড়া ও লেবুর রসঃ ২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ার সাথে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে মুখ এবং হাতে-পায়ের যেসব স্থানে কালো দাগ পড়েছে সেখানে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই প্যাকটি লাগাতে পারলে ত্বক হবে টানটান এবং মসৃণ।

শসা, টমেটো ও মধুঃ শসা ও টমেটো ত্বককে শীতল রাখে এবং রোদে পোড়া ত্বক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।এক্ষেত্রে কয়েক টুকরো শসা, কয়েক টুকরো টমেটো ও কয়েক ফোঁটা মধু প্রয়োজন। শসা ও টমেটো ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন এবং মধু মিশিয়ে নিন। মুখ পরিষ্কার করে মিশ্রণটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

গরমে ত্বকের যত্নে পর্যাপ্ত পানি পানের ভুমিকা

গরমে ত্বকের যত্নে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গরমের সময় ত্বক অনেক বেশি পানির চাহিদা অনুভব করে, কারণ তাপমাত্রা বাড়লে শরীর অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে এবং এর ফলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, যা ত্বককে ডিহাইড্রেটেড (অত্যন্ত শুষ্ক) করতে পারে। যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন শুষ্কতা, সানবার্ন বা র‍্যাশ তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে ত্বক ভিতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে, ফলে ত্বক আরও কোমল ও স্বাস্থ্যকর দেখায়।
গরমে-ত্বকের-যত্নে-পর্যাপ্ত-পানি-পানের-ভুমিকা

শরীরের প্রতিটি কোষ রক্তের মাধ্যমে হাইড্রেট থাকে পানি পান করার মাধ্যমে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ও শরীর থেকে নির্গত করার জন্য পর্যাপ্ত পানি পানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে, ব্রণের সমস্যা দূর করতে, ফুসকুড়ি বা জ্বালাভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, রোদে পোড়া দাগ দূর করতে এবং অকাল বার্ধক্য রোধের জন্য পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গরমে ত্বকের যত্নে পানি পানের ভুমিকা যেমনঃ

১. ত্বককে আর্দ্র রাখা: গরমের সময়ে ত্বক দ্রুত পানি শোষণ করে, যা শুষ্কতা কমায় এবং ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখে। পানি পানের মাধ্যমে ত্বকের কোষগুলো হাইড্রেটেড থাকে এবং ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে। এটি ত্বকে ফাইন লাইন এবং বলিরেখা কমাতে সহায়তা করে।

২. ডিহাইড্রেশন (শুষ্ক ত্বক) থেকে রক্ষা: যখন শরীর পর্যাপ্ত পানি পায় না, তখন ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক এবং কুঁচকে যেতে পারে। গরমের মধ্যে পানি পানে ত্বক এই সমস্যাগুলি থেকে মুক্ত থাকে এবং সতেজ থাকে।

৩. টক্সিন বের করার মাধ্যমে ত্বকের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি: পানি শরীরের টক্সিন বের করে দেয়, যার ফলে ত্বক পরিষ্কার এবং মসৃণ থাকে। টক্সিন জমে গেলে তা ত্বকে ব্রণ এবং র‍্যাশের সৃষ্টি করতে পারে। পানি বেশি পানে সেই টক্সিন শরীর থেকে বের হয়ে ত্বককে উজ্জ্বল রাখে।

৪. ত্বকের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা: শরীরের পর্যাপ্ত পানি ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করে, যা ত্বককে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সহায়ক হয়। অক্সিজেন ও পুষ্টি ত্বকের কোষগুলির উন্নতি করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে প্রাণবন্ত দেখায়।

৫. তাপ থেকে ত্বককে রক্ষা করা: গরমে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ত্বক সানবার্ন ও তাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা ত্বককে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করে।

৬. স্বাভাবিক মেটাবলিজম বজায় রাখা: শরীরের পর্যাপ্ত পানি পেলে, মেটাবলিজম স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং ত্বকের কোষগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের দ্রুত পুনর্নির্মাণের জন্য সহায়ক হয়।

৭. পানি পানের সঙ্গে ত্বকের যত্নের অন্যান্য টিপসঃ
  • সানস্ক্রিন ব্যবহারঃ গরমে সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
  • হালকা স্কিনকেয়ার রুটিনঃ গরমে ত্বকে বেশি ভারী প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে হালকা এবং পানি ভিত্তিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত।
  • আর্দ্রতা ধরে রাখাঃ গরমে ত্বক বেশি পানি শোষণ করে, তাই ত্বককে আর্দ্র রাখার জন্য ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
  • পুদিনা পাতা ও টক দইয়ের প্যাকঃ ত্বকের তেলতেলে ভাব কমাতে পুদিনা পাতা ও টক দই ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • গ্রিন টি ও মধুর প্যাকঃ ত্বকের ছোট ছোট রন্ধ্রে সেবাম বা তেল জমে হোয়াইট হেডস বা ব্ল্যাক হেডস হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে গ্রিন টি ও মধু দিয়ে তৈরি প্যাক কার্যকর।
  • শসা, টমেটো ও মধুর প্যাকঃ রোদের তাপে ত্বক পুড়ে গেলে শসা, টমেটো ও মধু দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন ও প্রয়োগের পদ্ধতি

সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন ও প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে সহায়ক। শুধুমাত্র গরমেই নয়, যেকোনো ঋতুতে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচানোর জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। ঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সানস্ক্রিন মেখে তারপর ঘর থেকে বের হতে হবে। দীর্ঘ সময় ঘর থেকে বাইরে অবস্থান করার জন্য ৫০+ এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

তবে নিজে থেকেই সানস্ক্রিন নির্বাচন না করে একজন ডার্মাটোলজিস্ট এর পরামর্শ অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। সানস্ক্রিন ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যা ত্বকের ক্যান্সার, বার্ধক্য এবং অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক। সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন ও প্রয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১। সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচনঃ

*SPF (Sun Protection Factor)

  • SPF হলো সূর্যের UVB রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেওয়ার মাপ। SPF 15, SPF 30, SPF 50 এর মতো মানে দেখা যায়। SPF 30 মানে সূর্যের রশ্মি থেকে ৩০ গুণ বেশি সুরক্ষা পাওয়া যাবে। সাধারণত SPF 30 বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তবে, SPF 15 ব্যবহার করলে 93% UVB রশ্মি বাধা পায়, SPF 30 ব্যবহার করলে 97% এবং SPF 50 ব্যবহার করলে 98% UVB রশ্মি প্রতিরোধ হয়।
*Broad Spectrum

  • সূর্যের রশ্মি দুই ধরনের: UVA এবং UVB। UVA রশ্মি ত্বকে বয়সের দাগ এবং বলিরেখা সৃষ্টি করতে পারে, যখন UVB রশ্মি ত্বককে পোড়াতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। Broad Spectrum সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে, তা উভয় ধরনের রশ্মির থেকে সুরক্ষা দেয়।
*ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন নির্বাচন

  • অয়েলি ত্বক: অয়েলি বা তৈলাক্ত ত্বক হলে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে, oil-free, non-comedogenic বা gel-based সানস্ক্রিন নির্বাচন করুন, যা ত্বকে অতিরিক্ত তেল বাড়াবে না এবং ব্রণের সমস্যা সৃষ্টি করবে না।
  • শুকনো ত্বক: শুকনো ত্বকের জন্য moisturizing সানস্ক্রিন নির্বাচন করুন, যাতে ত্বক হাইড্রেটেড থাকে এবং সানস্ক্রিনে অতিরিক্ত শুকানোর সমস্যা না হয়।
  • সেনসিটিভ ত্বক: সেনসিটিভ ত্বকের জন্য পারফিউম বা অ্যালকোহল সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন পরিহার করা উচিত। এ ধরনের ত্বকের জন্য মৃদু এবং প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
*Water-Resistant

  • যদি আপনি সুইমিং করেন বা ঘামের কারণে সানস্ক্রিনটি দ্রুত মুছে যেতে পারে, তবে water-resistant সানস্ক্রিন নির্বাচন করুন। তবে, মনে রাখবেন যে water-resistant সানস্ক্রিনও কিছু সময় পর পুনরায় প্রয়োগ করা প্রয়োজন। সাধারণত 40 থেকে 80 মিনিটের পর এটি পুনরায় লাগানো উচিত।
২। সানস্ক্রিন প্রয়োগের সঠিক পদ্ধতিঃ

*প্রয়োজনীয় পরিমাণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

  • একমুখে কমপক্ষে ১ চা-চামচ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। শরীরের জন্য, এক হাতে দুই আঙুলের দৈর্ঘ্য পরিমাণ সানস্ক্রিন প্রয়োজন। আপনি যদি বাইরে দীর্ঘ সময় থাকেন, তবে এই পরিমাণ আরও বাড়াতে পারেন।
*এখনকার তাপমাত্রা এবং সময় হিসাব করুন

  • সানস্ক্রিন প্রয়োগের পর সূর্যের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে গরম আবহাওয়ায় প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এছাড়া, পানি ও ঘাম শুষে নেয়ার পর দ্রুত পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।
*সানস্ক্রিন মাখার নিয়ম

  • সানস্ক্রিনটি মুখ, গলা, হাত, পা, কান এবং অন্যান্য এক্সপোজ করা অংশে সমানভাবে লাগান। মুখে লাগানোর জন্য, ত্বকে ভালভাবে মিশে যাওয়ার জন্য সানস্ক্রিনটি মৃদু হাতে ম্যাসাজ করে লাগান।
*সম্ভাব্য পুনরায় প্রয়োগ

  • যখন আপনি পুলে বা সমুদ্রে যান বা ঘামে, সানস্ক্রিন মুছে যেতে পারে। তাই প্রতি ২ ঘণ্টা পর এবং জলক্রীড়া বা অন্যান্য ক্রিয়ার পর সানস্ক্রিন পুনরায় প্রয়োগ করুন।
*সানস্ক্রিন ছড়িয়ে পড়লে সতর্কতা

  • চোখের কাছে সানস্ক্রিন লাগানো থেকে বিরত থাকুন। ত্বকের মাধ্যমে প্রাপ্ত আলাদা সানস্ক্রিনের জন্য, চোখে প্রবাহিত হলে তীব্র অস্বস্তি হতে পারে।
৩। সানস্ক্রিন ব্যবহারের অন্যান্য পরামর্শঃ

  • অতিরিক্ত সূর্যদৃষ্টির পরিহারঃ যতটা সম্ভব, সূর্যের তীব্র রশ্মি থেকে বাঁচতে, বিশেষত দুপুর ১০টা থেকে ৪টার মধ্যে বাহিরে না যাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • সানস্ক্রিনের মেয়াদঃ সানস্ক্রিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা কার্যকর থাকবে না। তাই সানস্ক্রিনের প্যাকেটের মেয়াদ পরীক্ষা করুন।
  • সানস্ক্রিনের সাথে অন্যান্য সুরক্ষা উপকরণঃ সানস্ক্রিন ছাড়া অন্য সুরক্ষা উপকরণও যেমন টুপি, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন পরিহিত পোশাক ব্যবহার করা উচিত।

দৈনিক ত্বক পরিচর্যার রুটিন

দৈনিক ত্বক পরিচর্যার রুটিন ত্বকের ধরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা হতে পারে। ব্যক্তিগত ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করা উচিত। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। প্রতিদিনের ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার পাশাপাশি একটি ভালো মানের ক্রিম ব্যবহার করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিদিনের ত্বকের যত্ন কিভাবে নিবেন তা নিচে দেওয়া হলো।

১। সকালের রুটিনঃ

ক্লেনজিংঃ রাতে ঘুমের সময় ত্বকে জমে থাকা তেল ও ময়লা দূর করতে হালকা ধরনের, অ্যালকোহল-মুক্ত ক্লেনজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য তেল-ভিত্তিক ক্লেনজার এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা টি ট্রি অয়েল যুক্ত ক্লেনজার উপযুক্ত।

টোনার ব্যবহারঃ টোনার ত্বকের pH ব্যালান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ টোনার বা গোলাপ জল এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা উইচ হ্যাজেল সমৃদ্ধ টোনার ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেরামঃ ভিটামিন সি, ই বা নিয়াসিনামাইড সমৃদ্ধ সেরাম ত্বক উজ্জ্বল ও আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।

ময়েশ্চারাইজারঃ ত্বক আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজার অপরিহার্য। এটি ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার লাগান যাতে ত্বক আর্দ্র থাকে।

সানস্ক্রিনঃ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করতে SPF ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মুখ, গলা, কান এবং অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করুন এবং প্রতি দুই ঘণ্টা পর পুনরায় ব্যবহার করুন।

২। রাতের রুটিনঃ

মেকআপ রিমুভাল ও ক্লেনজিংঃ সারাদিনের মেকআপ ও ময়লা দূর করতে মেকআপ রিমুভার বা মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করুন, এরপর ক্লেনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

টোনারঃ রাতেও টোনার ব্যবহার করতে পারেন। রাতে টোনার ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্র থাকে এবং অতিরিক্ত ময়লা বা তেল দূর হয়।

সেরাম ও ব্রণ নিরাময়ঃ হায়ালুরনিক অ্যাসিড, ভিটামিন ই, পেপটাইডস বা সেরামাইডস সমৃদ্ধ সেরাম শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ সেরাম লোমকূপ উন্মুক্ত করে এবং প্রদাহ কমায়।

রেটিনলঃ ভিটামিন এ সমৃদ্ধ রেটিনল ব্রণ এবং ত্বকের সূক্ষ্ম বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে রেটিনল ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

আই ক্রিমঃ চোখের আশপাশের ত্বক আর্দ্র রাখতে এবং চোখের নিচের ফোলাভাব বা ডার্ক সার্কেল কমাতে রেটিনল, নিয়াসিনামাইড বা হায়ালুরনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ আই ক্রিম ব্যবহার করুন। 

ময়েশ্চারাইজার বা নাইট ক্রিমঃ রাতে ত্বকের পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষার জন্য নাইট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। 

৩। সাপ্তাহিক অতিরিক্ত যত্নঃ

এক্সফোলিয়েশনঃ সপ্তাহে ১-২ বার ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন।

মাস্কঃ সপ্তাহে ১-২ বার ত্বকের ধরন অনুযায়ী মুখে মাস্ক প্রয়োগ করুন।

গরমকালে ব্যবহারের জন্য ত্বকের বিশেষ মাস্ক ও প্যাক

গরমকালে ব্যবহারের জন্য ত্বকের বিশেষ মাস্ক ও প্যাক সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হয়েছে। অন্যান্য ঋতুর তুলনায় গরম মৌসুমে ত্বকের যত্ন কিছুটা অন্যরকম ভাবে নিতে হয়। গরমে ত্বকের বিশেষ যত্নে মাক্স ও প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে সুরক্ষিত এবং কোমল। দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই ফেসপ্যাক তৈরি করার সময় বের করতে পারিনা। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই রেডিমেড ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরমকালে-ব্যবহারের-জন্য-ত্বকের-বিশেষ-মাস্ক-ও-প্যাক
তবে গরমে ত্বকে সুরক্ষিত রাখতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আপনার পছন্দের ফ্রেশ মাক্স এবং প্যাক অবশ্যই ব্যবহার করবেন।গরমকালে ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ঘাম এবং ময়লা জমে যা ত্বকের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এখানে কিছু বিস্তারিত ত্বকের মাস্ক ও প্যাক দেওয়া হলো, যা ত্বককে পরিষ্কার, ময়শ্চারাইজড ও সতেজ রাখবে।

১. টমেটো ও মধু প্যাকঃ টমেটো ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং ত্বককে শীতল করে। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বককে উজ্জ্বল এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। মধু ত্বকের ময়শ্চার বজায় রাখে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ করে।টমেটো পিষে তার মধ্যে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে, ত্বক পরিষ্কার ও শীতল থাকবে।

২. দই ও হলুদ মাস্কঃ দই ত্বকে ময়শ্চার দেয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। হলুদ একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যা ত্বকের সংক্রমণ কমায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে। ২ চা চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চিমটি হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এবং ত্বকের প্রদাহ বা এলার্জি কমাবে।

৩. অ্যালোভেরা ও শসার প্যাকঃ অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা ও হাইড্রেট করে, পাশাপাশি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে। শসা ত্বককে শীতল করে এবং অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ চা চামচ শসার রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বক ঠান্ডা থাকবে, ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমবে এবং ত্বক হবে সজীব।

৪. গোলাপ জল ও কাঁচা দুধ প্যাকঃ গোলাপ জল ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখে, এটি ত্বককে শীতল এবং সতেজ রাখে। কাঁচা দুধ ত্বকের ময়শ্চারাইজেশন বাড়ায় এবং ত্বককে নরম করে। ২ চা চামচ গোলাপ জল ও ১ চা চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বক সতেজ থাকবে এবং ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স সঠিক থাকবে।

৫. কলা ও মধু প্যাকঃ কলা ত্বকে ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে, যা ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে এবং শুষ্কতা দূর করে। মধু ত্বককে নরম এবং মসৃণ রাখে।একটি পাকা কলা চটকে তার মধ্যে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।এই পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন তারপর ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহারে আপনার ত্বক হবে মসৃণ ও ময়শ্চারাইজড।

পরামর্শঃ গরমকালে ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও ঘাম জমে যায়, তাই নিয়মিত এই প্যাকগুলো ব্যবহার করে ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখুন। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করুন এবং সূর্যের তাপ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কার করতে হালকা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস নিয়ে শেষ কথা

গরমে ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময় অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও রোদের তাপে ত্বক রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিলে তা উজ্জ্বল ও সতেজ থাকবে। সূর্যের তীব্রতা, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও দূষণ ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সঠিক যত্ন নিলে ত্বক উজ্জ্বল, সতেজ ও সুস্থ থাকবে। প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কার করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। 

আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক যত্ন নিলে গরমের কষ্ট কমবে এবং ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যকর ও দীপ্তিময়। যারা প্রতিনিয়ত গরমের ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন আশা করছি আমাদের আজকের আর্টিকেল গরমে ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। উপরে আলোচিত টিপসগুলো মেনে চললে গরমকালেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, সতেজ ও সুন্দর।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url